কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তথাকথিত পীর শামীম রেজা ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কায় দেশবরেণ্য বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শামীম রেজার ভাই ফজলুর রহমান বলেন, ‘রোববার রাতে পরিবারের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা মামলা করব না। যে চলে গেছে তাকে তো আর ফিরে পাব না। আমরা সাদাসিধা মানুষ, মামলা-মোকদ্দমার ঝামেলায় গিয়ে আর দৌড়াদৌড়ি করতে চাই না।’ কোনো চাপ আছে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কারও পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই, তারা স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, নিহতের পরিবার আগে মামলা করার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কেউ থানায় আসেননি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত আছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ বাউল শিল্পী শফি মণ্ডলের কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিপনগরে শফি মণ্ডলের গ্রামের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত শফি মণ্ডল বলেন, ‘আমি এক মাস ধরে গ্রামে নেই। সেখানে কী ঘটছে বিস্তারিত বলতে পারছি না।’
শিল্পীর বড় মেয়ে ফারজানা ববি লিনা বলেন, ‘বাবা লালন দর্শনের অনুসারী ও বাউল শিল্পী। গানের প্রয়োজনে তিনি বিভিন্ন জায়গায় যান। ওই দরবার শরিফে যাওয়ার কিছু পুরোনো ছবি ছড়িয়ে একটি পক্ষ ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করছে। পুলিশ আমাদের বাড়িতে পাহারা দিচ্ছে, এই নিরাপত্তা বেষ্টনী আমাদের পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার শামীম রেজার একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর জেরে গত শনিবার দুপুরে কয়েক’শ মানুষ শামীম রেজার দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। ওই হামলায় গুরুতর আহত শামীম রেজা পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আপনার মতামত লিখুন