সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ ভারতে

তীব্র গ্যাস সংকটে স্থবির কলকাতা



তীব্র গ্যাস সংকটে স্থবির কলকাতা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জনজীবনে। যুদ্ধের জেরে আমদানিতে টান পড়ায় পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী কলকাতায় রান্নার গ্যাস ও অটো এলপিজির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা।

চালকদের দীর্ঘ লাইন, সংকটে গণপরিবহন কলকাতার পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন এলপিজি গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। পাম্পের সামনে গ্যাস নেই বা দাম বৃদ্ধির বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতার প্রায় ৯৭ শতাংশ অটোরিকশা এলপিজি-নির্ভর।

শহরের প্রায় ২০০টি রুটে চলাচলকারী ৫০ হাজার অটোরিকশার ওপর প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী নির্ভর করেন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে অফিস টাইমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অটো মিলছে না, ফলে নাকাল হতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

ডেকার্স লেন ও অফিসপাড়ায় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কলকাতার বিখ্যাত খাদ্যকেন্দ্রগুলোতেও। ধর্মতলার ডেকার্স লেন, এসপ্ল্যানেডসহ অফিসপাড়ার ছোট হোটেল, ভাতের দোকান ও স্টলগুলো বাণিজ্যিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে সিলিন্ডারের যোগান কমায় কালোবাজারি শুরু হয়েছে। একেকটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ঠেকছে। বাধ্য হয়েই খাবারের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন দোকানীরা।

চাহিদা ও যোগানের বিশাল ফারাক ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৫ লাখ সিলিন্ডার। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় বুকিংয়ের সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরবরাহকারী সংস্থাগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু কঠোর নিয়মনীতি শিথিল করেছে।

বিড়ম্বনায় সাধারণ গ্রাহক শুধু পরিবহন বা ব্যবসা নয়, সাধারণ গৃহস্থালির ক্ষেত্রেও সিলিন্ডার পেতে সময় লাগছে অনেক বেশি। সাধারণ গ্রাহকরা বলছেন, যুদ্ধের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬


তীব্র গ্যাস সংকটে স্থবির কলকাতা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জনজীবনে। যুদ্ধের জেরে আমদানিতে টান পড়ায় পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী কলকাতায় রান্নার গ্যাস ও অটো এলপিজির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকরা।

চালকদের দীর্ঘ লাইন, সংকটে গণপরিবহন কলকাতার পেট্রোল পাম্পগুলোতে এখন এলপিজি গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। পাম্পের সামনে গ্যাস নেই বা দাম বৃদ্ধির বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতার প্রায় ৯৭ শতাংশ অটোরিকশা এলপিজি-নির্ভর।

শহরের প্রায় ২০০টি রুটে চলাচলকারী ৫০ হাজার অটোরিকশার ওপর প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী নির্ভর করেন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে অফিস টাইমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অটো মিলছে না, ফলে নাকাল হতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

ডেকার্স লেন ও অফিসপাড়ায় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে কলকাতার বিখ্যাত খাদ্যকেন্দ্রগুলোতেও। ধর্মতলার ডেকার্স লেন, এসপ্ল্যানেডসহ অফিসপাড়ার ছোট হোটেল, ভাতের দোকান ও স্টলগুলো বাণিজ্যিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে সিলিন্ডারের যোগান কমায় কালোবাজারি শুরু হয়েছে। একেকটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় ঠেকছে। বাধ্য হয়েই খাবারের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন দোকানীরা।

চাহিদা ও যোগানের বিশাল ফারাক ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৫ লাখ সিলিন্ডার। কিন্তু বর্তমান অস্থিরতায় বুকিংয়ের সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরবরাহকারী সংস্থাগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কিছু কঠোর নিয়মনীতি শিথিল করেছে।

বিড়ম্বনায় সাধারণ গ্রাহক শুধু পরিবহন বা ব্যবসা নয়, সাধারণ গৃহস্থালির ক্ষেত্রেও সিলিন্ডার পেতে সময় লাগছে অনেক বেশি। সাধারণ গ্রাহকরা বলছেন, যুদ্ধের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত