ঈদ সামনে এলেই দেশের বাজারগুলো রঙিন হয়ে ওঠে নতুন পোশাকের সমারোহে। রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে শুরু করে গুলশান-বনানীর অভিজাত শপিংমল- সবখানেই এখন ঈদের কেনাকাটায় ভিড় জমছে ক্রেতাদের।
তবে বাজার ঘুরে একটি বিষয় চোখে পড়ে, বিভিন্ন দোকানের বেশিরভাগ দখল করে আছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় পোশাক। চোখ ধাঁধানো পাকিস্তানি অরগানজা, লন কিংবা ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রিপিসে সাজানো দোকানগুলোতে দেশীয় পোশাক অনেক সময় খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঈদের বাজারে বিদেশি পোশাকের দাপট কেন, এর উত্তর খুঁজতে রাজধানীর কয়েকটি শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে নানা চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতা ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতে, চাহিদা যথেষ্ট থাকলেও বাজারে দেশি পণ্যের সরবরাহ কম। বিপরীত দিকে, টিভি সিরিয়াল বা সিনেমার প্রভাবে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে।ফলে আধিপত্য তৈরি হয়েছে বিদেশি পোশাকের।
রাজধানীর কয়েকটি মার্কেটে কথা হয় বেশ কিছু দোকানির সঙ্গে। তারা জানান, দোকানে সেই ধরনের পোশাকই বেশি রাখা হয় ক্রেতাদের চাহিদার তালিকায় যেগুলো শীর্ষে থাকে। পিংসিটিতে কালার সিল্ক শোরুমের এক বিক্রেতা বললেন, “ক্রেতারা যে ধরনের ড্রেস বেশি খোঁজেন, আমরা সেটাই দোকানে রাখি। এখন পাকিস্তানি ও ভারতীয় ড্রেসের চাহিদা বেশি, তাই এগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
সিল্ক শোরুমের বিক্রেতাদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি কমাতে এমন পণ্যই রাখেন যেগুলো দ্রুত বিক্রি হয়।ফলে দোকানের সামনের সারিতে বিদেশি পোশাকই বেশি দেখা যায়।
দেশি পণ্যের ‘সরবরাহ কম’
দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতে, বাস্তবে দেশি পোশাকের চাহিদা ‘কম নয়’। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিদেশি পণ্যের মতো দৃশ্যমান আধিপত্য তৈরি করতে পারছে না।
আফরোজা সুলতানা শিউলি নামের এক দেশীয় উদ্যোক্তা বলেন, “ দেশি পণ্যের মেলা করলে প্রচুর বিক্রি হয়।এই ঈদেও কয়েকটি মেলায় অংশ নিয়েছি। ভালো বিক্রি হয়েছে। এতে বোঝা যায় দেশি পণ্যের চাহিদা আছে। প্রতিটি মার্কেটে দেশি থাকলে বেচাকেনায় আধিপত্যই দেখা যেত।”
হাফসা নামের একজন দেশীয় উদ্যোক্তা বলেন, “প্রতিবছর ঈদে আড়ং-এর শোরুমে যে ভিড় হয়, তা থেকেই বোঝা যায় দেশি পণ্যের চাহিদা কতটা। দেশে যদি আড়ং-এর মতো আরও বড় ব্র্যান্ড তৈরি হতো, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকত, তাহলে দেশি পণ্যের আধিপত্যই দেখা যেত।”ঈদের কেনাকাটায় রাজধানীর গুলশানে একটি শপিংমলে সহকর্মীদের নিয়ে পোশাক কিনতে এসেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট লাইফ বিভাগের জয়েন্ট ডিরেক্টর তাহসিনা রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দেশি পণ্য ব্যবহার করছেন। সংবাদকে বলেন, “আমি মসলিন কাপড়ে ন্যাচারাল ডাইয়ের ড্রেস কিনেছি। এতে কোনো কেমিক্যাল থাকে না। তাই শরীরের জন্যও ভালো। আবার আরামও বেশি। তার মতে, প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হলে পোশাকের গুণগত মানও ভালো থাকে।
ট্রেন্ডের প্রভাব
ট্রেন্ডের কারণে অনেক ক্রেতা ঝুঁকছেন বিদেশি পোশাকের দিকে।গুলশানের পিংক সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কথা হয় এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ঈদে তিনি কিনবেন পাকিস্তানি পোশাক। তার ভাষ্য, “এবার পাকিস্তানি ড্রেস খুব হাইপে আছে। পাকিস্তানি সিরিয়ালে যেসব ড্রেস দেখি, সেগুলো ভালো লাগে। তাই সেগুলোই কিনতে চাই।”
মার্কেটে তার মতো অনেক ক্রেতাই পাকিস্তানি পোশাক খুঁজছেন।কয়েকজন ক্রেতার কথা বললে তারা জানান, পাকিস্তানি সালোয়ার-কামিজের ডিজাইন ভালো। তবে দেশীয় পোশাক একই মানের হয় কি না— তা অনেকেই জানেন না।
টেলিভিশন সিরিয়ালও ঈদের বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। গত কয়েকটি ঈদে ভারতীয় সিরিয়ালের চরিত্রের নাম অনুসারে বাজারে পোশাক বিক্রি হয়েছে। যেমন—‘পাখি’, ‘কিরণবালা’ ইত্যাদি নামে পরিচিত বিভিন্ন ড্রেস জনপ্রিয় হয়েছিল।এবার পাকিস্তানি সিরিয়ালের প্রভাবও বাজারে দেখা যাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
কী বলছেন ডিজাইনাররা
দেশীয় ফ্যাশন ডিজাইনার ও আজুরা বাই শান্তাকবিরের-এর স্বত্বাধিকারী শান্তা কবির সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, “বাজারে বিদেশি পণ্য আসা অস্বাভাবিক নয়। বাজার থাকলে বণিক আসবেই। আমাদের সেই বাস্তবতা মেনে এগোতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশীয় পণ্যের বিক্রি ভালো হলেও বিনিয়োগ কম থাকায় উৎপাদন সীমিত। আমাদের প্রডাকশন কম, পুঁজি কম, কাঁচামালের সংকট আছে। বড় বড় মার্কেটে আমাদের পণ্য নেই বললেই চলে। দোকান নিতে প্রচুর টাকা লাগে, যা অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে সম্ভব হয় না।” তার মতে, দেশে দক্ষ কারিগরের অভাব নেই। কিন্তু কাজের সুযোগ না থাকায় অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।সমাধান কী
দেশীয় পণ্যের বাজার বাড়াতে তিনটি পর্যায়ে তথা ক্রেতা, বিক্রেতা ও সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করার কথা জানান ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি বলেন, “গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার তৈরি করা জরুরি। ”
এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।সরকারি মার্কেট, যেমন সিটি করপোরেশন বা সরকারি সংস্থার মার্কেটগুলোতে সহজ শর্তে দেশি পণ্যের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দেন শান্তা কবির। তিনি বলেন,“যদি প্রতিটি মার্কেটে দেশি পণ্যের জন্য জায়গা থাকে, তাহলে সেগুলোই এক সময় দেশি পণ্যের হাবে পরিণত হবে।”
অন্যদিকে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ করছে। এসএমই ফাউনন্ডেশ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন যেমন পাওয়ার অব শি- এর মতো উদ্যোগও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে। শান্তা কবিরের মতে, এমন উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।
ঈদের বাজারে বিদেশি পোশাকের আধিপত্য চোখে পড়লেও বাস্তবে দেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে- এমনটাই বলছেন উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের অনেকেই। তাদের মতে, পর্যাপ্ত উৎপাদন, সহজলভ্য বাজার ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় পোশাকই এক সময় ঈদের বাজারে প্রধান স্থান দখল করতে পারে।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
ঈদ সামনে এলেই দেশের বাজারগুলো রঙিন হয়ে ওঠে নতুন পোশাকের সমারোহে। রাজধানীর নিউমার্কেট থেকে শুরু করে গুলশান-বনানীর অভিজাত শপিংমল- সবখানেই এখন ঈদের কেনাকাটায় ভিড় জমছে ক্রেতাদের।
তবে বাজার ঘুরে একটি বিষয় চোখে পড়ে, বিভিন্ন দোকানের বেশিরভাগ দখল করে আছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় পোশাক। চোখ ধাঁধানো পাকিস্তানি অরগানজা, লন কিংবা ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রিপিসে সাজানো দোকানগুলোতে দেশীয় পোশাক অনেক সময় খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঈদের বাজারে বিদেশি পোশাকের দাপট কেন, এর উত্তর খুঁজতে রাজধানীর কয়েকটি শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে নানা চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতা ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতে, চাহিদা যথেষ্ট থাকলেও বাজারে দেশি পণ্যের সরবরাহ কম। বিপরীত দিকে, টিভি সিরিয়াল বা সিনেমার প্রভাবে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বেড়েছে।ফলে আধিপত্য তৈরি হয়েছে বিদেশি পোশাকের।
রাজধানীর কয়েকটি মার্কেটে কথা হয় বেশ কিছু দোকানির সঙ্গে। তারা জানান, দোকানে সেই ধরনের পোশাকই বেশি রাখা হয় ক্রেতাদের চাহিদার তালিকায় যেগুলো শীর্ষে থাকে। পিংসিটিতে কালার সিল্ক শোরুমের এক বিক্রেতা বললেন, “ক্রেতারা যে ধরনের ড্রেস বেশি খোঁজেন, আমরা সেটাই দোকানে রাখি। এখন পাকিস্তানি ও ভারতীয় ড্রেসের চাহিদা বেশি, তাই এগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে।”
সিল্ক শোরুমের বিক্রেতাদের মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি কমাতে এমন পণ্যই রাখেন যেগুলো দ্রুত বিক্রি হয়।ফলে দোকানের সামনের সারিতে বিদেশি পোশাকই বেশি দেখা যায়।
দেশি পণ্যের ‘সরবরাহ কম’
দেশীয় উদ্যোক্তাদের মতে, বাস্তবে দেশি পোশাকের চাহিদা ‘কম নয়’। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিদেশি পণ্যের মতো দৃশ্যমান আধিপত্য তৈরি করতে পারছে না।
আফরোজা সুলতানা শিউলি নামের এক দেশীয় উদ্যোক্তা বলেন, “ দেশি পণ্যের মেলা করলে প্রচুর বিক্রি হয়।এই ঈদেও কয়েকটি মেলায় অংশ নিয়েছি। ভালো বিক্রি হয়েছে। এতে বোঝা যায় দেশি পণ্যের চাহিদা আছে। প্রতিটি মার্কেটে দেশি থাকলে বেচাকেনায় আধিপত্যই দেখা যেত।”
হাফসা নামের একজন দেশীয় উদ্যোক্তা বলেন, “প্রতিবছর ঈদে আড়ং-এর শোরুমে যে ভিড় হয়, তা থেকেই বোঝা যায় দেশি পণ্যের চাহিদা কতটা। দেশে যদি আড়ং-এর মতো আরও বড় ব্র্যান্ড তৈরি হতো, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকত, তাহলে দেশি পণ্যের আধিপত্যই দেখা যেত।”ঈদের কেনাকাটায় রাজধানীর গুলশানে একটি শপিংমলে সহকর্মীদের নিয়ে পোশাক কিনতে এসেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট লাইফ বিভাগের জয়েন্ট ডিরেক্টর তাহসিনা রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দেশি পণ্য ব্যবহার করছেন। সংবাদকে বলেন, “আমি মসলিন কাপড়ে ন্যাচারাল ডাইয়ের ড্রেস কিনেছি। এতে কোনো কেমিক্যাল থাকে না। তাই শরীরের জন্যও ভালো। আবার আরামও বেশি। তার মতে, প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা হলে পোশাকের গুণগত মানও ভালো থাকে।
ট্রেন্ডের প্রভাব
ট্রেন্ডের কারণে অনেক ক্রেতা ঝুঁকছেন বিদেশি পোশাকের দিকে।গুলশানের পিংক সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কথা হয় এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ঈদে তিনি কিনবেন পাকিস্তানি পোশাক। তার ভাষ্য, “এবার পাকিস্তানি ড্রেস খুব হাইপে আছে। পাকিস্তানি সিরিয়ালে যেসব ড্রেস দেখি, সেগুলো ভালো লাগে। তাই সেগুলোই কিনতে চাই।”
মার্কেটে তার মতো অনেক ক্রেতাই পাকিস্তানি পোশাক খুঁজছেন।কয়েকজন ক্রেতার কথা বললে তারা জানান, পাকিস্তানি সালোয়ার-কামিজের ডিজাইন ভালো। তবে দেশীয় পোশাক একই মানের হয় কি না— তা অনেকেই জানেন না।
টেলিভিশন সিরিয়ালও ঈদের বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। গত কয়েকটি ঈদে ভারতীয় সিরিয়ালের চরিত্রের নাম অনুসারে বাজারে পোশাক বিক্রি হয়েছে। যেমন—‘পাখি’, ‘কিরণবালা’ ইত্যাদি নামে পরিচিত বিভিন্ন ড্রেস জনপ্রিয় হয়েছিল।এবার পাকিস্তানি সিরিয়ালের প্রভাবও বাজারে দেখা যাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
কী বলছেন ডিজাইনাররা
দেশীয় ফ্যাশন ডিজাইনার ও আজুরা বাই শান্তাকবিরের-এর স্বত্বাধিকারী শান্তা কবির সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, “বাজারে বিদেশি পণ্য আসা অস্বাভাবিক নয়। বাজার থাকলে বণিক আসবেই। আমাদের সেই বাস্তবতা মেনে এগোতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশীয় পণ্যের বিক্রি ভালো হলেও বিনিয়োগ কম থাকায় উৎপাদন সীমিত। আমাদের প্রডাকশন কম, পুঁজি কম, কাঁচামালের সংকট আছে। বড় বড় মার্কেটে আমাদের পণ্য নেই বললেই চলে। দোকান নিতে প্রচুর টাকা লাগে, যা অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে সম্ভব হয় না।” তার মতে, দেশে দক্ষ কারিগরের অভাব নেই। কিন্তু কাজের সুযোগ না থাকায় অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।সমাধান কী
দেশীয় পণ্যের বাজার বাড়াতে তিনটি পর্যায়ে তথা ক্রেতা, বিক্রেতা ও সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করার কথা জানান ফ্যাশন ডিজাইনার। তিনি বলেন, “গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার তৈরি করা জরুরি। ”
এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।সরকারি মার্কেট, যেমন সিটি করপোরেশন বা সরকারি সংস্থার মার্কেটগুলোতে সহজ শর্তে দেশি পণ্যের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দেন শান্তা কবির। তিনি বলেন,“যদি প্রতিটি মার্কেটে দেশি পণ্যের জন্য জায়গা থাকে, তাহলে সেগুলোই এক সময় দেশি পণ্যের হাবে পরিণত হবে।”
অন্যদিকে, দেশীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ করছে। এসএমই ফাউনন্ডেশ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন যেমন পাওয়ার অব শি- এর মতো উদ্যোগও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছে। শান্তা কবিরের মতে, এমন উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।
ঈদের বাজারে বিদেশি পোশাকের আধিপত্য চোখে পড়লেও বাস্তবে দেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে- এমনটাই বলছেন উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের অনেকেই। তাদের মতে, পর্যাপ্ত উৎপাদন, সহজলভ্য বাজার ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় পোশাকই এক সময় ঈদের বাজারে প্রধান স্থান দখল করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন