সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আইনি অধিকার


সিরাজ প্রামাণিক
সিরাজ প্রামাণিক
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আইনি অধিকার
একজন ব্যক্তিকে যে কারণেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন হাজতখানায় তার বেশ কিছু আইনগত অধিকার রয়েছে

একজন ব্যক্তিকে যে কারণেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন পুলিশের হাজতখানায় তার বেশ কিছু আইনগত অধিকার রয়েছে। পুলিশের অজ্ঞতার কারণেই হোক কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সে অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হন-এমন অভিযোগ অধিকাংশ ভুক্তভোগীর। এমনকি অধিকার বঞ্চিত হয়ে তাদের কপালে মেলে নানা, হয়রানি, বিড়ম্বনা নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার ও জুলুম। 

অথচ দেশের সংবিধান, আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি, পিআরবি, সাক্ষ্য আইন, দÐবিধিসহ বেশ কিছু আইনে এই অধিকারগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে। 

আমাদের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ছাড়া এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।

সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনার দÐ দেয়া যাবে না কিংবা কারো সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। 

সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও তাকে দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুবিধা হতে বঞ্চিত করা যাবে না। আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট-এর সম্মুখে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধর ধারা- ৫৪, ৫৬, ৮০ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ নিজের পরিচয় দিবেন এবং কারণ দর্শাবেন কোন কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পুলিশের যুক্তিসংগত সন্দেহ হলে ওয়ারেন্ট ছাড়াই যেকোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি বাসস্থান বা কর্মস্থল ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে থানায় আনার পরবর্তী ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী আত্মীয় ও বন্ধুদেরকে টেলিফোনে বা বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানাতে হবে। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই পুলিশ একটি অ্যারেস্ট অব মমো তৈরি করবেন এবং উক্ত মেমোতে গ্রেপ্তারের সময় তারিখ এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন।

কোনো অবস্থায় মহিলাদের হাতকড়া/হ্যান্ডকাপ লাগানো যাবে না। বয়স বা দুর্বলতার কারণে আসামিদের ক্ষেত্রেও হাতকড়া লাগানো উচিত হবে না। জামিনযোগ্য মামলার আসামীর ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহার করা যাবে না। তবে উক্ত আসামী আক্রমণাত্মক হলে থানার ওসির আদেশ মোতাবেক হাতকড়া পরানো যেতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধর ধারা- ৫২ ও ১০২(৩) অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি একজন মহিলা হয় তাহলে অবশ্যই যথেষ্ট শালীনতার সঙ্গে অন্য কোনো একজন মহিলা দ্বারা তার দেহ তল্লাশি করতে হবে। সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে কোনো মহিলাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।

পুলিশের বাইবেল বলে খ্যাত পিআরবি’র ৩২২ রুল অনুয়ায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেহ তল্লাশির পর পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত প্রাপ্ত ব্যক্তিগত দ্রব্যাদিগুলো জিডিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এর এক কপি আসামিকে এবং এক কপি আদালতের মালখানায় রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চার্জশীটের সঙ্গে কোর্টে দিতে হবে। সেই সাথে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশির পর তার পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত তার প্রাপ্ত ব্যাক্তিগত দ্রব্যাদিগুলো পুলিশ অফিসার নিরাপদ হেফাজতে রাখবেন।

পিআরবি’র ৩২৮ ও ৩২১, ৩৩৩, ৭২০, ৪৮৭, ৭২১ রুল অনুয়ায়ী, থানায় নেয়ার আগে বা পরে কোনো আসামির শরীরে কোনো ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন থাকলে ইহার কারণসহ তা জিডিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ২ জন নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর সম্মুখে তা করতে হবে। কোনো রকম আহত বা অসুস্থ হলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। থানায় আসামির জন্য খাবারের ব্যাবস্থা করতে হবে। কোনো নিষিদ্ধ খাদ্য হাজতখানায় দেয় যাবে না। আদালতের হাজতে আসামিকে পানি সরবরাহ করা যাবে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে খাবার সরবরাহ করা যেতে পারে। থানা হাজতে আটক থাকার সময় কোনো আসামিকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা প্রলোভন দেখানো যাবে না। একজন আসামির মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র অর্থাৎ কেসের কপি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পুলিশ এসকর্টকালে বন্দিরা তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ও বিছানাপত্র বহন করতে পারবেন। তবে তার ওজন ১২-১৩ সেরের বেশি হবে না। 

এসবই হচ্ছে সংক্ষেপে একজন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির তথা নাগরিকের থানায় আইনগত অধকিার। নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ হতে হবে।

[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির আইনি অধিকার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

একজন ব্যক্তিকে যে কারণেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন পুলিশের হাজতখানায় তার বেশ কিছু আইনগত অধিকার রয়েছে। পুলিশের অজ্ঞতার কারণেই হোক কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সে অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হন-এমন অভিযোগ অধিকাংশ ভুক্তভোগীর। এমনকি অধিকার বঞ্চিত হয়ে তাদের কপালে মেলে নানা, হয়রানি, বিড়ম্বনা নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার ও জুলুম। 

অথচ দেশের সংবিধান, আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি, পিআরবি, সাক্ষ্য আইন, দÐবিধিসহ বেশ কিছু আইনে এই অধিকারগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে। 

আমাদের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনানুযায়ী ছাড়া এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।

সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনার দÐ দেয়া যাবে না কিংবা কারো সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। 

সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও তাকে দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুবিধা হতে বঞ্চিত করা যাবে না। আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট-এর সম্মুখে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধর ধারা- ৫৪, ৫৬, ৮০ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ নিজের পরিচয় দিবেন এবং কারণ দর্শাবেন কোন কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পুলিশের যুক্তিসংগত সন্দেহ হলে ওয়ারেন্ট ছাড়াই যেকোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি বাসস্থান বা কর্মস্থল ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে থানায় আনার পরবর্তী ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী আত্মীয় ও বন্ধুদেরকে টেলিফোনে বা বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানাতে হবে। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই পুলিশ একটি অ্যারেস্ট অব মমো তৈরি করবেন এবং উক্ত মেমোতে গ্রেপ্তারের সময় তারিখ এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন।

কোনো অবস্থায় মহিলাদের হাতকড়া/হ্যান্ডকাপ লাগানো যাবে না। বয়স বা দুর্বলতার কারণে আসামিদের ক্ষেত্রেও হাতকড়া লাগানো উচিত হবে না। জামিনযোগ্য মামলার আসামীর ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহার করা যাবে না। তবে উক্ত আসামী আক্রমণাত্মক হলে থানার ওসির আদেশ মোতাবেক হাতকড়া পরানো যেতে পারে।

ফৌজদারি কার্যবিধর ধারা- ৫২ ও ১০২(৩) অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি একজন মহিলা হয় তাহলে অবশ্যই যথেষ্ট শালীনতার সঙ্গে অন্য কোনো একজন মহিলা দ্বারা তার দেহ তল্লাশি করতে হবে। সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে কোনো মহিলাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।

পুলিশের বাইবেল বলে খ্যাত পিআরবি’র ৩২২ রুল অনুয়ায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেহ তল্লাশির পর পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত প্রাপ্ত ব্যক্তিগত দ্রব্যাদিগুলো জিডিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এর এক কপি আসামিকে এবং এক কপি আদালতের মালখানায় রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চার্জশীটের সঙ্গে কোর্টে দিতে হবে। সেই সাথে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১ ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশির পর তার পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত তার প্রাপ্ত ব্যাক্তিগত দ্রব্যাদিগুলো পুলিশ অফিসার নিরাপদ হেফাজতে রাখবেন।

পিআরবি’র ৩২৮ ও ৩২১, ৩৩৩, ৭২০, ৪৮৭, ৭২১ রুল অনুয়ায়ী, থানায় নেয়ার আগে বা পরে কোনো আসামির শরীরে কোনো ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন থাকলে ইহার কারণসহ তা জিডিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ২ জন নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর সম্মুখে তা করতে হবে। কোনো রকম আহত বা অসুস্থ হলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। থানায় আসামির জন্য খাবারের ব্যাবস্থা করতে হবে। কোনো নিষিদ্ধ খাদ্য হাজতখানায় দেয় যাবে না। আদালতের হাজতে আসামিকে পানি সরবরাহ করা যাবে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে খাবার সরবরাহ করা যেতে পারে। থানা হাজতে আটক থাকার সময় কোনো আসামিকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা প্রলোভন দেখানো যাবে না। একজন আসামির মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র অর্থাৎ কেসের কপি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। পুলিশ এসকর্টকালে বন্দিরা তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ও বিছানাপত্র বহন করতে পারবেন। তবে তার ওজন ১২-১৩ সেরের বেশি হবে না। 

এসবই হচ্ছে সংক্ষেপে একজন গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির তথা নাগরিকের থানায় আইনগত অধকিার। নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ হতে হবে।

[লেখক: আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট]


সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত