পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
বুধবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে আগামী সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ’ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলা, ড্রোন হামলা বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও তীব্রভাবে শুরু হবে।
এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেই বুধবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত শত শত মানুষের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার এই হাসপাতালে চালানো হামলায় আফগান তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
পাকিস্তান অবশ্য দাবি করছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
একসময়ের মিত্র থেকে প্রতিপক্ষে পরিণত হওয়া দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা গত মাসে চরম আকার ধারণ করে, যখন পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করে। এর আগে পাকিস্তান শুধু সীমান্ত অঞ্চলে থাকা টিটিপির স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাত। চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় সংঘাত কিছুটা কমে এলেও বর্তমান উত্তেজনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই যুদ্ধবিরতিকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে পাকিস্তানের শর্তসাপেক্ষ ঘোষণা এবং আফগানিস্তানের চলমান ক্ষোভ নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬
পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
বুধবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে আগামী সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ’ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলা, ড্রোন হামলা বা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও তীব্রভাবে শুরু হবে।
এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেই বুধবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত শত শত মানুষের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার এই হাসপাতালে চালানো হামলায় আফগান তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
পাকিস্তান অবশ্য দাবি করছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালায়। অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
একসময়ের মিত্র থেকে প্রতিপক্ষে পরিণত হওয়া দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা গত মাসে চরম আকার ধারণ করে, যখন পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করে। এর আগে পাকিস্তান শুধু সীমান্ত অঞ্চলে থাকা টিটিপির স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাত। চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় সংঘাত কিছুটা কমে এলেও বর্তমান উত্তেজনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই যুদ্ধবিরতিকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে পাকিস্তানের শর্তসাপেক্ষ ঘোষণা এবং আফগানিস্তানের চলমান ক্ষোভ নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন