পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোনো দেশ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, কোনো দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে দিন নির্ধারণ করে। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা নির্ভর পদ্ধতি চালু থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বৈচিত্র্য।
বাংলাদেশের পদ্ধতি
বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ২০ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি ধর্মমন্ত্রী ও সহসভাপতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৯-১০ সদস্যের কমিটি চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে। তারা একটি অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকায় জাতীয় কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহায়তায় বায়তুল মোকাররমের ছাদে থিওডোলাইট মেশিন স্থাপন করে চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণও করা হয়। সব তথ্য পর্যালোচনা করে জাতীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়।
সৌদির পদ্ধতি
সৌদি আরবে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে চাঁদ দেখা কমিটি কাজ করে। দেশটিতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের পাশাপাশি চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সৌদি আরবে সাধারণত চাঁদ দেখা গেলে পরের দিনই ঈদ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের চেয়ে একদিন আগে সৌদি আরবে ঈদ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
তুরস্কের পদ্ধতি
তুরস্ক ইসলামি মাস শুরুর ক্ষেত্রে প্রচলিত চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে। দেশটি পূর্ব-গণনাকৃত ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ ঘোষণা করে। চলতি বছর তুরস্ক শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে একদিন আগে।
সিঙ্গাপুরের পদ্ধতি
সিঙ্গাপুরও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে। দেশটির কর্তৃপক্ষ পূর্ব-গণনাকৃত চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছর সিঙ্গাপুর শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের মতোই।
ভারতের পদ্ধতি
ভারতে চাঁদ দেখা নির্ভর পদ্ধতি চালু আছে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেরালা ও জম্মু-কাশ্মীরের মতো কিছু রাজ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের প্রবণতা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের পদ্ধতি
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদ পালন করে। তবে ওমান কখনো কখনো ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তারা শুধু স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে।
পশ্চিমা পদ্ধতি
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। কেউ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেন। কেউ স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেন। আবার কেউ কেউ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসরণ করেন। বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে।
পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণ
চাঁদ দেখার পদ্ধতিতে এই পার্থক্যের কারণ হলো ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতভেদ। কোনো মতবাদ চাক্ষুষ চাঁদ দেখাকে বাধ্যতামূলক মনে করে। আবার কোনো মতবাদ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদের দিনে ভিন্নতা দেখা যায়।
বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়, এটি সঠিক নয়। আমাদের কমিটি আছে, তারা চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।'

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোনো দেশ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, কোনো দেশ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে দিন নির্ধারণ করে। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা নির্ভর পদ্ধতি চালু থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বৈচিত্র্য।
বাংলাদেশের পদ্ধতি
বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির মাধ্যমে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ২০ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি ধর্মমন্ত্রী ও সহসভাপতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৯-১০ সদস্যের কমিটি চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে। তারা একটি অ্যাপের মাধ্যমে ঢাকায় জাতীয় কমিটিতে প্রতিবেদন পাঠায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহায়তায় বায়তুল মোকাররমের ছাদে থিওডোলাইট মেশিন স্থাপন করে চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণও করা হয়। সব তথ্য পর্যালোচনা করে জাতীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়।
সৌদির পদ্ধতি
সৌদি আরবে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে চাঁদ দেখা কমিটি কাজ করে। দেশটিতে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের পাশাপাশি চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সৌদি আরবে সাধারণত চাঁদ দেখা গেলে পরের দিনই ঈদ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের চেয়ে একদিন আগে সৌদি আরবে ঈদ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
তুরস্কের পদ্ধতি
তুরস্ক ইসলামি মাস শুরুর ক্ষেত্রে প্রচলিত চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর নির্ভর করে। দেশটি পূর্ব-গণনাকৃত ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ ঘোষণা করে। চলতি বছর তুরস্ক শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে একদিন আগে।
সিঙ্গাপুরের পদ্ধতি
সিঙ্গাপুরও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে। দেশটির কর্তৃপক্ষ পূর্ব-গণনাকৃত চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছর সিঙ্গাপুর শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। যা বাংলাদেশের মতোই।
ভারতের পদ্ধতি
ভারতে চাঁদ দেখা নির্ভর পদ্ধতি চালু আছে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেরালা ও জম্মু-কাশ্মীরের মতো কিছু রাজ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের প্রবণতা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের পদ্ধতি
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদ পালন করে। তবে ওমান কখনো কখনো ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তারা শুধু স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে।
পশ্চিমা পদ্ধতি
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। কেউ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেন। কেউ স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেন। আবার কেউ কেউ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসরণ করেন। বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে।
পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণ
চাঁদ দেখার পদ্ধতিতে এই পার্থক্যের কারণ হলো ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মতভেদ। কোনো মতবাদ চাক্ষুষ চাঁদ দেখাকে বাধ্যতামূলক মনে করে। আবার কোনো মতবাদ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে গ্রহণযোগ্য মনে করে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদের দিনে ভিন্নতা দেখা যায়।
বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সৌদি আরবের এক দিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়, এটি সঠিক নয়। আমাদের কমিটি আছে, তারা চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।'

আপনার মতামত লিখুন