দীর্ঘ ৪৮ বছর পর এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সাক্ষী হলো পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রমজানের শেষ দিকে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও ফিলিস্তিনিদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আল-আকসার দ্বার। ফলে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরের রাস্তায় এবং পুরনো শহরের প্রবেশপথে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজানজুড়ে আল-আকসা কমপ্লেক্স কার্যত বন্ধ রাখা হয়। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এটি পবিত্র এই স্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুগভীর কৌশল। ওল্ড সিটির প্রবেশপথে কড়া পাহারা ও তল্লাশির কারণে শত শত মানুষ আজ (শুক্রবার) সকালে জেরুজালেমের রাস্তায় দাঁড়িয়েই মোনাজাত করেন।
জেরুজালেমের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী হাজেন বুলবুল বলেন, "এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। এটি একটি ভয়াবহ নজির তৈরি করল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।" সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটি লোকেলোকারণ্য থাকলেও এবার পুরো এলাকা ছিল জনশূন্য। ওষুধ ও খাবারের দোকান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আল-আকসা বন্ধের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা একে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের উস্কানি আঞ্চলিক শান্তিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।
এদিকে গাজা উপত্যকায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে। উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নেওয়া ৩২ বছর বয়সী সাদিকা ওমর বলেন, "কারো বাড়ি নেই, কারো পরিবার নেই। ধ্বংসস্তূপের মাঝেই আমরা আমাদের ধর্মীয় রীতি পালনের চেষ্টা করছি।"
খান ইউনিসের আশ্রয়শিবিরে সীমিত সাধ্যের মধ্যেই মায়েদের তৈরি 'কায়েক' ও 'মামুল' পেস্ট্রির সুগন্ধ কিছুটা ঈদের আমেজ দিলেও তা অনেকেরই নাগালের বাইরে। রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গত ১৯ মার্চ জাতিসংঘের ত্রাণবাহী বহর প্রবেশের অনুমতি পেলেও গাজার মানুষের মনে কাটেনি আতঙ্ক। গাজা সিটির খলুদ বাবা জানান, ঈদ উদযাপনের বদলে মানুষ এখনো প্রাণ বাঁচাতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটছেন।

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ ৪৮ বছর পর এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সাক্ষী হলো পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রমজানের শেষ দিকে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও ফিলিস্তিনিদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আল-আকসার দ্বার। ফলে হাজার হাজার মুসল্লি বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরের রাস্তায় এবং পুরনো শহরের প্রবেশপথে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই অজুহাতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজানজুড়ে আল-আকসা কমপ্লেক্স কার্যত বন্ধ রাখা হয়। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এটি পবিত্র এই স্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুগভীর কৌশল। ওল্ড সিটির প্রবেশপথে কড়া পাহারা ও তল্লাশির কারণে শত শত মানুষ আজ (শুক্রবার) সকালে জেরুজালেমের রাস্তায় দাঁড়িয়েই মোনাজাত করেন।
জেরুজালেমের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী হাজেন বুলবুল বলেন, "এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। এটি একটি ভয়াবহ নজির তৈরি করল, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।" সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটি লোকেলোকারণ্য থাকলেও এবার পুরো এলাকা ছিল জনশূন্য। ওষুধ ও খাবারের দোকান ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আল-আকসা বন্ধের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা একে আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের উস্কানি আঞ্চলিক শান্তিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।
এদিকে গাজা উপত্যকায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে। উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নেওয়া ৩২ বছর বয়সী সাদিকা ওমর বলেন, "কারো বাড়ি নেই, কারো পরিবার নেই। ধ্বংসস্তূপের মাঝেই আমরা আমাদের ধর্মীয় রীতি পালনের চেষ্টা করছি।"
খান ইউনিসের আশ্রয়শিবিরে সীমিত সাধ্যের মধ্যেই মায়েদের তৈরি 'কায়েক' ও 'মামুল' পেস্ট্রির সুগন্ধ কিছুটা ঈদের আমেজ দিলেও তা অনেকেরই নাগালের বাইরে। রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গত ১৯ মার্চ জাতিসংঘের ত্রাণবাহী বহর প্রবেশের অনুমতি পেলেও গাজার মানুষের মনে কাটেনি আতঙ্ক। গাজা সিটির খলুদ বাবা জানান, ঈদ উদযাপনের বদলে মানুষ এখনো প্রাণ বাঁচাতে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটছেন।

আপনার মতামত লিখুন