ঈদের সকাল মানেই শিশুদের চোখে চমক। নামাজ শেষে বড়দের সামনে দাঁড়িয়ে হাত পাতার মুহূর্তটার অপেক্ষায় তারা থাকে সারা বছর। কিন্তু এই ‘ঈদ সালামি’ শুধুই কি নতুন নোটের টান? নাকি এর গল্প অনেক পুরোনো, আরেকটু গভীরে?
‘ঈদিয়া’ শব্দটা শুনলেই বোঝা যায়, এটা ‘ঈদ’ আর ‘হাদিয়া’র মিলনমেলা। আর ‘হাদিয়া’ মানেই উপহার। শুধু অর্থের বিনিময় নয়, বরং মহানবী (সা.)-এর ভাষায়- এটি ভালোবাসার প্রতীক। হাদিসে তো আছেই, “তোমরা একে অন্যকে উপহার দাও, এতে ভালোবাসা বাড়ে।”
তবে এই উপহারের ‘আনুষ্ঠানিক রূপ’ কোথা থেকে এলো? ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরালে দেখা যায়, খিলাফতের দরবার থেকে ঈদ সালামি শুরু। ফাতিমীয় যুগে শিশু আর বয়স্কদের মিষ্টি আর পোশাক দিয়ে শুরু হয়েছিল। মামলুক আমলে পোশাক কেনার জন্য ‘নগদ টাকা’ বরাদ্দ দেওয়ার রেওয়াজ হয়। তখন টাকার অঙ্কটা নির্ধারিত হতো মানুষের মর্যাদা আর সামাজিক অবস্থান দেখে।
এরপর উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ দিকে এই প্রথা দরবার ছেড়ে নেমে আসে সাধারণ পরিবারের মধ্যে। বাবা-মা আর দাদা-দাদির হাত থেকে শিশুদের হাতে নগদ টাকা ওঠার চল শুরু হয় সেখান থেকেই।
ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সঙ্গে এই রীটিও পাড়ি দেয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। আর এখানে এসে জড়িয়ে যায় আবহমান বাঙালিয়ানায়। এখন তো শুধু শিশু নয়, অফিস-আদালত, বিয়ে-আকিকা, সর্বত্রই সালামির ছোঁয়া। বড়দের কাছে এটি শৈশবের স্মৃতির লাড্ডু ভাঙার আনন্দ। আর ছোটদের কাছে এটি উৎসবের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অধ্যায়।
সালামির টাকার সঙ্গে জুড়ে যায় আরেকটি ‘শর্ত’- সেটি চকচকে নতুন নোট হতে হবে। আর এই চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির যুগে এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়েও হাতবদল হয় সালামি। কিন্তু শিশুদের হাতে নতুন নোট ওঠার আনন্দের জায়গাটা যেন আজও অমলিন।
তবে সালামির আসল অর্থ কী? টাকার অঙ্কটা নয়, বরং, ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে জড়িয়ে পড়ার এক চিরায়ত আয়োজন। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হাত বদল হয়- আজ যে শিশু হাত পেতে নেয়, কাল সে-ই অন্য হাতে তুলে দেয় এই ঐতিহ্য।
তাহলে, এবারের ঈদে আপনার হাতের নতুন নোটটি কি শুধুই একটি উপহার? নাকি এটি হাজার বছরের এক টুকরো ইতিহাস, যে ইতিহাসের বিনিময়ে লেখা হয় সম্পর্কের আরেক নাম- ভালোবাসা?

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬
ঈদের সকাল মানেই শিশুদের চোখে চমক। নামাজ শেষে বড়দের সামনে দাঁড়িয়ে হাত পাতার মুহূর্তটার অপেক্ষায় তারা থাকে সারা বছর। কিন্তু এই ‘ঈদ সালামি’ শুধুই কি নতুন নোটের টান? নাকি এর গল্প অনেক পুরোনো, আরেকটু গভীরে?
‘ঈদিয়া’ শব্দটা শুনলেই বোঝা যায়, এটা ‘ঈদ’ আর ‘হাদিয়া’র মিলনমেলা। আর ‘হাদিয়া’ মানেই উপহার। শুধু অর্থের বিনিময় নয়, বরং মহানবী (সা.)-এর ভাষায়- এটি ভালোবাসার প্রতীক। হাদিসে তো আছেই, “তোমরা একে অন্যকে উপহার দাও, এতে ভালোবাসা বাড়ে।”
তবে এই উপহারের ‘আনুষ্ঠানিক রূপ’ কোথা থেকে এলো? ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরালে দেখা যায়, খিলাফতের দরবার থেকে ঈদ সালামি শুরু। ফাতিমীয় যুগে শিশু আর বয়স্কদের মিষ্টি আর পোশাক দিয়ে শুরু হয়েছিল। মামলুক আমলে পোশাক কেনার জন্য ‘নগদ টাকা’ বরাদ্দ দেওয়ার রেওয়াজ হয়। তখন টাকার অঙ্কটা নির্ধারিত হতো মানুষের মর্যাদা আর সামাজিক অবস্থান দেখে।
এরপর উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ দিকে এই প্রথা দরবার ছেড়ে নেমে আসে সাধারণ পরিবারের মধ্যে। বাবা-মা আর দাদা-দাদির হাত থেকে শিশুদের হাতে নগদ টাকা ওঠার চল শুরু হয় সেখান থেকেই।
ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সঙ্গে এই রীটিও পাড়ি দেয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। আর এখানে এসে জড়িয়ে যায় আবহমান বাঙালিয়ানায়। এখন তো শুধু শিশু নয়, অফিস-আদালত, বিয়ে-আকিকা, সর্বত্রই সালামির ছোঁয়া। বড়দের কাছে এটি শৈশবের স্মৃতির লাড্ডু ভাঙার আনন্দ। আর ছোটদের কাছে এটি উৎসবের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অধ্যায়।
সালামির টাকার সঙ্গে জুড়ে যায় আরেকটি ‘শর্ত’- সেটি চকচকে নতুন নোট হতে হবে। আর এই চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির যুগে এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়েও হাতবদল হয় সালামি। কিন্তু শিশুদের হাতে নতুন নোট ওঠার আনন্দের জায়গাটা যেন আজও অমলিন।
তবে সালামির আসল অর্থ কী? টাকার অঙ্কটা নয়, বরং, ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে জড়িয়ে পড়ার এক চিরায়ত আয়োজন। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হাত বদল হয়- আজ যে শিশু হাত পেতে নেয়, কাল সে-ই অন্য হাতে তুলে দেয় এই ঐতিহ্য।
তাহলে, এবারের ঈদে আপনার হাতের নতুন নোটটি কি শুধুই একটি উপহার? নাকি এটি হাজার বছরের এক টুকরো ইতিহাস, যে ইতিহাসের বিনিময়ে লেখা হয় সম্পর্কের আরেক নাম- ভালোবাসা?

আপনার মতামত লিখুন