চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিবর্তে এবার সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি শান্ত করতে হোয়াইট হাউস প্রশাসন এখন সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত শুক্রবার (২০ মার্চ) এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, "মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসানের বিষয়ে এটিই এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সবচেয়ে জোরালো বার্তা।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি তৈরিতে কাজ করছেন। সরাসরি যোগাযোগ না হলেও মিশর, কাতার ও যুক্তরাজ্যের মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য ছয়টি কঠোর শর্ত নির্ধারণ করেছে: ১. আগামী ৫ বছর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রাখা যাবে না। ২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ৩. হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ৪. সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। ৫. আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করতে হবে (ক্ষেপণাস্ত্রের
সীমা ১ হাজারের নিচে রাখা)। ৬. হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারাও শান্তি আলোচনার জন্য নিজস্ব ৬টি শর্ত দিয়েছেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তেহরান: ১. ভবিষ্যতে আর কখনও যুদ্ধ হবে না এমন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে হবে। ২. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সকল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। ৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. পুরো অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ করতে হবে। ৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। ৬. ইরানবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে বিচারের মুখোমুখি ও প্রত্যর্পণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১৫টি প্রদেশে ২০৬টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। ড্রোন ও মিসাইল হামলায় উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এখন দেখার বিষয়, এই পাল্টাপাল্টি শর্তের বেড়াজাল টপকে দুই দেশ টেবিল টক বা আলোচনার টেবিলে বসতে পারে কি না।

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিবর্তে এবার সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি শান্ত করতে হোয়াইট হাউস প্রশাসন এখন সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপরেখা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত শুক্রবার (২০ মার্চ) এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, "মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসানের বিষয়ে এটিই এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সবচেয়ে জোরালো বার্তা।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি তৈরিতে কাজ করছেন। সরাসরি যোগাযোগ না হলেও মিশর, কাতার ও যুক্তরাজ্যের মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য ছয়টি কঠোর শর্ত নির্ধারণ করেছে: ১. আগামী ৫ বছর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রাখা যাবে না। ২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ৩. হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ৪. সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। ৫. আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করতে হবে (ক্ষেপণাস্ত্রের
সীমা ১ হাজারের নিচে রাখা)। ৬. হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারাও শান্তি আলোচনার জন্য নিজস্ব ৬টি শর্ত দিয়েছেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তেহরান: ১. ভবিষ্যতে আর কখনও যুদ্ধ হবে না এমন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে হবে। ২. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সকল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। ৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. পুরো অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ করতে হবে। ৫. কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। ৬. ইরানবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে বিচারের মুখোমুখি ও প্রত্যর্পণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১৫টি প্রদেশে ২০৬টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। ড্রোন ও মিসাইল হামলায় উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এখন দেখার বিষয়, এই পাল্টাপাল্টি শর্তের বেড়াজাল টপকে দুই দেশ টেবিল টক বা আলোচনার টেবিলে বসতে পারে কি না।

আপনার মতামত লিখুন