সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

১৯৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬

১৯৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার ওহিও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাবটি পেশ করেন।

​বর্তমানে প্রস্তাবটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বিবেচনায় রয়েছে।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্বরতার বিবরণ

​প্রস্তাবটিতে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়েছে, সে সময় বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সুপরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। মার্কিন আইনসভা ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘গভট্র্যাক’-এর তথ্য অনুসারে, তৎকালীন মার্কিন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্ব সংস্থার নথিভুক্ত বিবরণকে এই প্রস্তাবের তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।


অপারেশন সার্চলাইট ও আর্চার ব্লাডের বার্তা

​প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর অভিযান শুরু করে।

​এতে তৎকালীন ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের পাঠানো ঐতিহাসিক বার্তার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতাকে ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ (Selective Genocide) হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।


আন্তর্জাতিক নথি ও অকাট্য প্রমাণ

​প্রস্তাবটিতে প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন ও মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির নেতৃত্বাধীন উপকমিটির রিপোর্টের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো সুপরিকল্পিত নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসের সচিবালয়ের গবেষণায় ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এই লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘অকাট্য প্রমাণ’ পাওয়া গেছে বলে প্রস্তাবে বলা হয়।


স্বীকৃতির গুরুত্ব

​প্রস্তাবটি পাস হলেও তা সরাসরি আইন হিসেবে কার্যকর হবে না। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি ১৯৭১-এর নৃশংসতাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। ঐতিহাসিক সত্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে যেকোনো স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ রোধে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন প্রস্তাবটির উদ্যোক্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬


১৯৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার ওহিও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাবটি পেশ করেন।

​বর্তমানে প্রস্তাবটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বিবেচনায় রয়েছে।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্বরতার বিবরণ

​প্রস্তাবটিতে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়েছে, সে সময় বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সুপরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। মার্কিন আইনসভা ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘গভট্র্যাক’-এর তথ্য অনুসারে, তৎকালীন মার্কিন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্ব সংস্থার নথিভুক্ত বিবরণকে এই প্রস্তাবের তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।


অপারেশন সার্চলাইট ও আর্চার ব্লাডের বার্তা

​প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর অভিযান শুরু করে।

​এতে তৎকালীন ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের পাঠানো ঐতিহাসিক বার্তার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতাকে ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ (Selective Genocide) হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।


আন্তর্জাতিক নথি ও অকাট্য প্রমাণ

​প্রস্তাবটিতে প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন ও মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির নেতৃত্বাধীন উপকমিটির রিপোর্টের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো সুপরিকল্পিত নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসের সচিবালয়ের গবেষণায় ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এই লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘অকাট্য প্রমাণ’ পাওয়া গেছে বলে প্রস্তাবে বলা হয়।


স্বীকৃতির গুরুত্ব

​প্রস্তাবটি পাস হলেও তা সরাসরি আইন হিসেবে কার্যকর হবে না। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি ১৯৭১-এর নৃশংসতাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। ঐতিহাসিক সত্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে যেকোনো স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ রোধে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন প্রস্তাবটির উদ্যোক্তারা।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত