ঈদ উপলক্ষে রংপুর সরকারি চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ বাস রিজার্ভ করে ছুটে আসছেন এই চিড়িয়াখানায়।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, জলহস্তি ও হরিণের পালসহ আড়াইশ’র বেশি প্রাণী ও পাখি শিশুদের নির্মল আনন্দ দিচ্ছে।
ঢাকার মীরপুরের পরই দেশের অন্যতম বৃহৎ রংপুর সরকারি চিড়িয়াখানায় ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছে।
রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন হাজার হাজার দর্শক। বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুরাও আসছেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে। সব ধরনের প্রাণীর সমাহারের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক। প্রবেশের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন দর্শনার্থীরা।
রংপুর সরকারি চিড়িয়াখানা নগরীর কেন্দ্রস্থল ইসলামপুর হনুমানতলা এলাকায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এখানে বাঘ, সিংহ, হনুমান, জলহস্তি, হরিণসহ দুই শতাধিক প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আসছেন দর্শনার্থীরা। বাস রিজার্ভ করে শিশুসহ সব বয়সী নারী-পুরুষের আগমনে চিড়িয়াখানা এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।সরেজমিনে রংপুর চিড়িয়াখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ লাইন এলাকা অতিক্রম করে প্রবেশ পথ পর্যন্ত প্রচণ্ড যানজট। রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানের বিশাল সারি। নগরীর পুলিশ লাইন থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে বাস ও মাইক্রোবাসের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসছেন চিড়িয়াখানায়।
চিড়িয়াখানার ভেতরে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচার সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। অল্প কিছুদিন আগে মা বাঘ দুইটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। খাঁচার ভেতরে বাঘের বাচ্চাগুলোর ছোটাছুটি দর্শনার্থীদের, বিশেষ করে শিশুদের বেশ আনন্দ দিচ্ছিল। এ ছাড়াও সিংহ, ভল্লুক, হরিণের বিরাট পাল, জলহস্তি, বানরের ঝাপাঝাপি ও ময়ূরের পাখা মেলাসহ অন্যান্য প্রাণী ও পাখি দেখতেও ছিল প্রচণ্ড ভিড়।
পঞ্চগড় থেকে দুই সন্তানকে চিড়িয়াখানা দেখাতে নিয়ে এসেছেন হারুন দম্পতি। তারা জানান, ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখাতে এসেছেন। চিড়িয়াখানার শিশু পার্কে বিভিন্ন রাইডে উঠে বাচ্চারা খুব আনন্দ করেছে। একটি মিনিবাস ভাড়া করে ২০টি পরিবার এসেছেন রংপুর চিড়িয়াখানায় বলে জানান তারা।
ঠাকুরগাঁও থেকে আসা আফজাল হোসেন ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, একমাত্র কন্যা রাইসাকে নিয়ে এসেছেন। চিড়িয়াখানার জলহস্তি আর বাঘ দেখে তার মেয়ে খুব খুশি।
রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে বড় বাস রিজার্ভ করে এসেছেন অনেক পরিবার। শিক্ষক সালাম জানান, তার তিন কন্যাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। পাশাপাশি শিশু পার্কটিও ভালো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের রাইড দিয়ে বাচ্চাদের আনন্দ দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুর থেকেও দর্শনার্থীরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন রংপুর চিড়িয়াখানায়।
তারা জানান, এবার কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য ভালো ব্যবস্থা করেছেন। আগে থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। নতুন নতুন প্রজাতির পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী নিয়ে আসায় চিড়িয়াখানা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
চিড়িয়াখানার ইজারাদার সোহরাব হোসেন বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রংপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. ওমর ফারুখ জানান, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এবার ঈদে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। বিশেষ করে শিশুদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্য প্রাণী ও পাখি বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু পার্কে নতুন রাইডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি করছে।

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
ঈদ উপলক্ষে রংপুর সরকারি চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ বাস রিজার্ভ করে ছুটে আসছেন এই চিড়িয়াখানায়।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, জলহস্তি ও হরিণের পালসহ আড়াইশ’র বেশি প্রাণী ও পাখি শিশুদের নির্মল আনন্দ দিচ্ছে।
ঢাকার মীরপুরের পরই দেশের অন্যতম বৃহৎ রংপুর সরকারি চিড়িয়াখানায় ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছে।
রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন হাজার হাজার দর্শক। বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুরাও আসছেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে। সব ধরনের প্রাণীর সমাহারের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক। প্রবেশের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন দর্শনার্থীরা।
রংপুর সরকারি চিড়িয়াখানা নগরীর কেন্দ্রস্থল ইসলামপুর হনুমানতলা এলাকায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এখানে বাঘ, সিংহ, হনুমান, জলহস্তি, হরিণসহ দুই শতাধিক প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে রংপুর বিভাগের আট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও আসছেন দর্শনার্থীরা। বাস রিজার্ভ করে শিশুসহ সব বয়সী নারী-পুরুষের আগমনে চিড়িয়াখানা এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।সরেজমিনে রংপুর চিড়িয়াখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ লাইন এলাকা অতিক্রম করে প্রবেশ পথ পর্যন্ত প্রচণ্ড যানজট। রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানের বিশাল সারি। নগরীর পুলিশ লাইন থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে বাস ও মাইক্রোবাসের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসছেন চিড়িয়াখানায়।
চিড়িয়াখানার ভেতরে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচার সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। অল্প কিছুদিন আগে মা বাঘ দুইটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। খাঁচার ভেতরে বাঘের বাচ্চাগুলোর ছোটাছুটি দর্শনার্থীদের, বিশেষ করে শিশুদের বেশ আনন্দ দিচ্ছিল। এ ছাড়াও সিংহ, ভল্লুক, হরিণের বিরাট পাল, জলহস্তি, বানরের ঝাপাঝাপি ও ময়ূরের পাখা মেলাসহ অন্যান্য প্রাণী ও পাখি দেখতেও ছিল প্রচণ্ড ভিড়।
পঞ্চগড় থেকে দুই সন্তানকে চিড়িয়াখানা দেখাতে নিয়ে এসেছেন হারুন দম্পতি। তারা জানান, ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখাতে এসেছেন। চিড়িয়াখানার শিশু পার্কে বিভিন্ন রাইডে উঠে বাচ্চারা খুব আনন্দ করেছে। একটি মিনিবাস ভাড়া করে ২০টি পরিবার এসেছেন রংপুর চিড়িয়াখানায় বলে জানান তারা।
ঠাকুরগাঁও থেকে আসা আফজাল হোসেন ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, একমাত্র কন্যা রাইসাকে নিয়ে এসেছেন। চিড়িয়াখানার জলহস্তি আর বাঘ দেখে তার মেয়ে খুব খুশি।
রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে বড় বাস রিজার্ভ করে এসেছেন অনেক পরিবার। শিক্ষক সালাম জানান, তার তিন কন্যাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। পাশাপাশি শিশু পার্কটিও ভালো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের রাইড দিয়ে বাচ্চাদের আনন্দ দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও দিনাজপুর থেকেও দর্শনার্থীরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে এসেছেন রংপুর চিড়িয়াখানায়।
তারা জানান, এবার কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের জন্য ভালো ব্যবস্থা করেছেন। আগে থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। নতুন নতুন প্রজাতির পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণী নিয়ে আসায় চিড়িয়াখানা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।
চিড়িয়াখানার ইজারাদার সোহরাব হোসেন বলেন, দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রংপুর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. ওমর ফারুখ জানান, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এবার ঈদে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। বিশেষ করে শিশুদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্য প্রাণী ও পাখি বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু পার্কে নতুন রাইডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি করছে।

আপনার মতামত লিখুন