সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ট্রাম্পের আলোচনার দাবি নাকচ ইরানের: ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬

 ট্রাম্পের আলোচনার দাবি নাকচ ইরানের: ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব ভালো’ আলোচনা চলছে বলে দাবি করার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একইসঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। বার্তা সংস্থা এএফপি আজ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্ট্রেইট অব হরমুজে নৌপথ খুলে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে ট্রাম্পের হঠাৎ ‘আলোচনা চলছে’ এমন মন্তব্যে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানের এক ‘শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে কথা বলছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার হুমকিও দেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কোনো আলোচনা হচ্ছে না।’ তার মতে, ট্রাম্প মূলত বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতে এমন ভিত্তিহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই-ও কোনো বাস্তব আলোচনার খবর অস্বীকার করেছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওয়াশিংটন সমঝোতার সম্ভাবনা দেখলেও নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান ও লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলের উত্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতেও রাতভর সাতটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথ সীমিত করায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে এক সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতের প্রভাবে ইরানেও অন্তত ৩ হাজার ২৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশই বেসামরিক নাগরিক।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬


ট্রাম্পের আলোচনার দাবি নাকচ ইরানের: ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব ভালো’ আলোচনা চলছে বলে দাবি করার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইসরায়েলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একইসঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। বার্তা সংস্থা এএফপি আজ মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্ট্রেইট অব হরমুজে নৌপথ খুলে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তবে ট্রাম্পের হঠাৎ ‘আলোচনা চলছে’ এমন মন্তব্যে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম কিছুটা কমে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইরানের এক ‘শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে কথা বলছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বোমা হামলা অব্যাহত রাখার হুমকিও দেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তবে গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কোনো আলোচনা হচ্ছে না।’ তার মতে, ট্রাম্প মূলত বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতে এমন ভিত্তিহীন বক্তব্য দিচ্ছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই-ও কোনো বাস্তব আলোচনার খবর অস্বীকার করেছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওয়াশিংটন সমঝোতার সম্ভাবনা দেখলেও নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান ও লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলের উত্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতেও রাতভর সাতটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। স্ট্রেইট অব হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। ইরান এই পথ সীমিত করায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ইতিমধ্যে এক সহস্রাধিক মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতের প্রভাবে ইরানেও অন্তত ৩ হাজার ২৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশই বেসামরিক নাগরিক।

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত