মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ইরানকে পরাজয় মেনে নিয়ে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যথায় তেহরানে আরও ভয়াবহ আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা ৫ দফা শর্ত দিয়েছে ইরান।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস
সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’
চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান যদি বাস্তবতা মেনে
নিতে ব্যর্থ হয় এবং বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তাদের ওপর আগের চেয়েও ভয়াবহ আঘাত হানা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
কোনো ফাঁকা বুলি দেন না।"
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে
প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভিকে এক কর্মকর্তা
জানান, ইরান নিজস্ব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামাবে না। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা
যে ৫ দফা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: ১. ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা বন্ধ করা। ২. ভবিষ্যতে
আর কোনো হামলা হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদান। ৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪. সামগ্রিক সংঘাতের অবসান। ৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত
করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের
সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার গ্রহণ
এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে হবে।
সংলাপের আলোচনার মধ্যেই ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে
হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েলের ডিমোনা ও হাইফায়
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। হিজবুল্লাহর রকেট
আঘাত হেনেছে মেতুলা, দাফনা ও নাহারিয়া এলাকায়।
এছাড়া কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ইরানি
ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান
ঘাঁটি এবং দুবাই বিমানবন্দরের আশেপাশেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব
ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা সফলভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত
করেছে।
লেবাননেও জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে একটি 'বাফার জোন' বা
নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণ করছে তার দেশ।
সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি
সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে
এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ইরানকে পরাজয় মেনে নিয়ে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যথায় তেহরানে আরও ভয়াবহ আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা ৫ দফা শর্ত দিয়েছে ইরান।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস
সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’
চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান যদি বাস্তবতা মেনে
নিতে ব্যর্থ হয় এবং বুঝতে না পারে যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট
ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তাদের ওপর আগের চেয়েও ভয়াবহ আঘাত হানা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
কোনো ফাঁকা বুলি দেন না।"
যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে
প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভিকে এক কর্মকর্তা
জানান, ইরান নিজস্ব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামাবে না। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা
যে ৫ দফা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: ১. ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা বন্ধ করা। ২. ভবিষ্যতে
আর কোনো হামলা হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদান। ৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪. সামগ্রিক সংঘাতের অবসান। ৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত
করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের
সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার গ্রহণ
এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে হবে।
সংলাপের আলোচনার মধ্যেই ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে
হামলা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েলের ডিমোনা ও হাইফায়
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। হিজবুল্লাহর রকেট
আঘাত হেনেছে মেতুলা, দাফনা ও নাহারিয়া এলাকায়।
এছাড়া কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ইরানি
ড্রোন হামলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান
ঘাঁটি এবং দুবাই বিমানবন্দরের আশেপাশেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব
ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা সফলভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত
করেছে।
লেবাননেও জোরালো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে একটি 'বাফার জোন' বা
নিরাপত্তা অঞ্চল সম্প্রসারণ করছে তার দেশ।
সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি
সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে
এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন