সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, ভিডিও প্রকাশ: প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬

মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, ভিডিও প্রকাশ: প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে আকাশপথে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে তেহরান। চাবাহার অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ (F/A-18) হর্নেট যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর প্রমাণ হিসেবে তারা একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) চাবাহার অঞ্চলে তারা একটি মার্কিন বহুমুখী যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’তে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে উড়ন্ত একটি যুদ্ধবিমানের কাছে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যাচ্ছে এবং বিমানটি ধোঁয়া ছেড়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। তবে হামলার সঠিক স্থান বা পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তেহরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, "ইরানের দ্বারা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।"

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান যদি বাস্তবতা মেনে পরাজয় স্বীকার না করে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তাদের ওপর আগের চেয়েও ভয়াবহ আঘাত হানা হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ‘ফাঁকা বুলি’ দেন না।

সংলাপের গুঞ্জন থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্র মোটেও শান্ত নয়। সর্বশেষ পরিস্থিতি একনজরে:

  • ইরানি হামলা: ইসরায়েলের ডিমোনা ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে ইরান। কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক এবং আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটির কাছেও ড্রোন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
  • ইসরায়েলি ও মার্কিন অভিযান: জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এবং অস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানায় কয়েক দফা বোমা বর্ষণ করেছে। মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
  • লেবানন সীমান্ত: হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের মেতুলা ও নাহারিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসন বহুগুণ বাড়িয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।

হোয়াইট হাউস ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না। যেকোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার গ্রহণ এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের ষড়যন্ত্র চলছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী থমকে গেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, সেখানে বর্তমানে ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, ভিডিও প্রকাশ: প্রত্যাখ্যান করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে আকাশপথে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছে তেহরান। চাবাহার অঞ্চলে একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ (F/A-18) হর্নেট যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর প্রমাণ হিসেবে তারা একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (২৫ মার্চ) চাবাহার অঞ্চলে তারা একটি মার্কিন বহুমুখী যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’তে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে উড়ন্ত একটি যুদ্ধবিমানের কাছে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যাচ্ছে এবং বিমানটি ধোঁয়া ছেড়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। তবে হামলার সঠিক স্থান বা পাইলটের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তেহরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, "ইরানের দ্বারা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।"

এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান যদি বাস্তবতা মেনে পরাজয় স্বীকার না করে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তাদের ওপর আগের চেয়েও ভয়াবহ আঘাত হানা হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ‘ফাঁকা বুলি’ দেন না।

সংলাপের গুঞ্জন থাকলেও যুদ্ধক্ষেত্র মোটেও শান্ত নয়। সর্বশেষ পরিস্থিতি একনজরে:

  • ইরানি হামলা: ইসরায়েলের ডিমোনা ও হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে ইরান। কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক এবং আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটির কাছেও ড্রোন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
  • ইসরায়েলি ও মার্কিন অভিযান: জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এবং অস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানায় কয়েক দফা বোমা বর্ষণ করেছে। মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
  • লেবানন সীমান্ত: হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের মেতুলা ও নাহারিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসন বহুগুণ বাড়িয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।

হোয়াইট হাউস ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র কথা বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না। যেকোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে ধ্বংসযজ্ঞের দায়ভার গ্রহণ এবং পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, একটি আঞ্চলিক দেশের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের ষড়যন্ত্র চলছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী থমকে গেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, সেখানে বর্তমানে ২ হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত