সংবাদ | বাংলা নিউজ পোর্টাল - সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন

মতামত

ডিগ্রির পাহাড় ও দক্ষতার মরুভূমি

একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন সাধারণত শুরু হয় সন্তানের হাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের আকাক্সক্ষা দিয়ে। বছরের পর বছর ধরে বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি আর জমানো শেষ সম্বলটুকু বাজি রেখে সন্তানকে উচ্চশিক্ষার আঙিনায় পাঠানো হয় এই বিশ্বাসে যে, একটি ডিগ্রি মানেই হলো উন্নত জীবনের চাবিকাঠি। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দিকে তাকালে এক রূঢ় ও বিষণ্ন চিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে রাজপথে হাজার হাজার স্নাতকের দীর্ঘশ্বাস, যারা পকেটে সিভির স্তূপ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন; অন্যদিকে বড় বড় শিল্পপতি ও নিয়োগকর্তাদের আক্ষেপ যে, তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না।এই যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকারের পাশে শূন্য পড়ে থাকা উচ্চপদস্থ চাকরির অবস্থানÑ একে অর্থনীতিবিদরা ‘স্কিল মিসম্যাচ’ বা দক্ষতার অসংগতি বলে অভিহিত করেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বিপুল পরিমাণ সনদ তৈরি করছে ঠিকই, কিন্তু সেই সনদগুলো যখন কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতায় পা রাখছে, তখন সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে অকেজো কাগজে পরিণত হচ্ছে। এই কাঠামোগত অসংগতি কেবল শিক্ষিত তরুণদের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় ধরনের অন্তরায়।বাংলাদেশের এই উন্নয়ন যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকটি হলো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চ‚ড়ান্ত উত্তরণ। ১৯৭৫ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালে জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি শর্ত মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচক সফলভাবে পূরণ করে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উত্তরণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডভ্যালু বাড়িয়ে দেবে, বৈদেশিক বিনিয়োগের দুয়ার খুলে দেবে এবং ঋণের ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা প্রমাণ করবে।তবে মুদ্রার উল্টো পিঠটিও আমাদের অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বা জিএসপি হারাব, ওষুধের মেধাস্বত্ব বা ট্রিপস চুক্তির বিশেষ ছাড় সংকুচিত হবে এবং সহজ শর্তের ঋণের পরিবর্তে আমাদের কঠিন শর্তে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থায়ন করতে হবে। এই পরিবর্তিত ও প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চতর উৎপাদনশীলতায় মনোনিবেশ করতে হবে। আর সেই উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র হাতিয়ার হলো দক্ষ জনবল। এলডিসি উত্তরণের পক্ষে যেমন আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির যুক্তি রয়েছে, তেমনই বিপক্ষে রয়েছে বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাÑ যা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের বর্তমানের ‘শিক্ষা-চাকরি সংযোগের ব্যর্থতা’ দূর করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।আমাদের উচ্চশিক্ষার একটি বড় ট্র্যাজেডি হলো তাত্তি¡ক জ্ঞানের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা। শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে ক্লাসরুমে গাদা গাদা বই মুখস্থ করছে এবং পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নে জিপিএ-৫ পাওয়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় সফট স্কিল যেমনÑ দলগত কাজ, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীল সমস্যা সমাধান এবং অভিযোজন ক্ষমতা শেখার কোনো সুযোগ তারা পাচ্ছে না। একজন শিক্ষার্থী চার বছর একটি বিষয়ে স্নাতক শেষ করার পরেও যখন দেখা যায় সে একটি সাধারণ পেশাদার ইমেইল লিখতে পারছে না কিংবা মাইক্রোসফট এক্সেলের প্রাথমিক কাজগুলো করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বুঝতে হবে আমাদের শিক্ষাক্রমের গোড়াতেই গলদ রয়ে গেছে। এই তত্ত¡সর্বস্ব শিক্ষা তরুণদের মনে এক ধরনের কৃত্রিম আত্মবিশ্বাস তৈরি করে, যা চাকরির বাজারের প্রথম ইন্টারভিউতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ফলে ডিগ্রি অর্জনের আনন্দ দ্রæতই বেকারত্বের বিষাদে রূপ নেয়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্প খাতের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব। উন্নত বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরাসরি গবেষণাগার হিসেবে কাজ করে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য। সেখানে কারিকুলাম তৈরি করা হয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী। কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এই সেতুবন্ধনটি এখনও অত্যন্ত দুর্বল। নিয়োগকর্তারা কী ধরনের কর্মী চান আর শিক্ষকরা কী পড়াচ্ছেন এই দুইয়ের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বললেই চলে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে যে প্রযুক্তির চাহিদা দশ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে, আমাদের পাঠ্যবইয়ে এখনও সেই পুরনো প্রযুক্তিই পড়ানো হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন বা শিল্প-শিক্ষা সংযোগ না থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা তাত্তি¡কভাবে শক্তিশালী হলেও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে পুরোপুরি আনাড়ি থেকে যাচ্ছে। ইন্টার্নশিপ বা হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগগুলো এখনও কেবল কিছু মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা দেশের বৃহত্তর স্নাতক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের বঞ্চনা।চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আমাদের শ্রমবাজারকে আমূল বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং অটোমেশন এখন কোনো শৌখিন শব্দ নয়, বরং এগুলো এখন পেশাদার জীবনের অপরিহার্য অংশ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের উচ্চশিক্ষার একটি বড় অংশ এখনও এই নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। নিয়োগকর্তারা এখন আর কেবল সনদের নাম দেখেন না, তারা দেখেন প্রার্থীর ডিজিটাল লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। যে শিক্ষার্থী দ্রæত পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে না, তার জন্য এখনকার বৈশ্বিক বাজারে কোনো জায়গা নেই। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও পুরনো শিক্ষাদান পদ্ধতি আঁকড়ে ধরে আছে এবং নতুন যুগের কারিগরি দক্ষতাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে অনীহা দেখাচ্ছে। এই স্থবিরতা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপ পিছিয়ে দিচ্ছে।সামাজিকভাবে আমাদের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রতি অবজ্ঞা। আমাদের সমাজে একজন সাধারণ স্নাতক ডিগ্রিকে যতটা সম্মানের চোখে দেখা হয়, একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান বা মেকানিককে ততটা মূল্যায়ন করা হয় না। এই ভ্রান্ত মানসিকতার কারণে মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্তে¡ও অনেক তরুণ কারিগরি শিক্ষার পরিবর্তে তথাকথিত সাধারণ ডিগ্রির পেছনে ছুটছে। এর ফলে বাজারে বিএ বা এমএ পাস করা বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অথচ দক্ষ প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান বা আধুনিক মেশিন অপারেটরের জন্য আমাদের বিদেশিদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এই সামাজিক কলঙ্ক বা স্টিগমা দূর করা না গেলে শ্রমবাজারের ভারসাম্য কখনই ফিরবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি জাতির উন্নয়নের জন্য কেবল পিএইচডিধারী গবেষক প্রয়োজন নেই, তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন একঝাঁক দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন পেশাদার।এই দক্ষতার ঘাটতি কেবল ব্যক্তিগত বেকারত্ব বাড়াচ্ছে না, বরং আমাদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাকেও কমিয়ে দিচ্ছে। যখন একটি কোম্পানি উপযুক্ত কর্মী পায় না, তখন তারা হয় উচ্চ বেতনে বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয় অথবা তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। উভয় ক্ষেত্রেই দেশের টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে অথবা জাতীয় প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন তার তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে অন্য খাতগুলোতে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার চেষ্টা করছে, তখন এই স্কিল মিসম্যাচ একটি বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশের জন্য যে ধরনের বিশেষায়িত জ্ঞান প্রয়োজন, তা আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে আমরা সস্তা শ্রমের বৃত্তে আটকে আছি, যা এলডিসি-পরবর্তী সময়ে আমাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই বেকারত্ব এক ধরনের সামাজিক অস্থিরতারও জন্ম দিচ্ছে। যখন একজন যুবক তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো পড়ালেখায় ব্যয় করে শূন্য হাতে ঘরে ফেরে, তখন তার মধ্যে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি এক ধরনের চরম অনীহা ও হতাশা তৈরি হয়। এই হতাশা থেকেই অনেক সময় মাদকাসক্তি বা অনৈতিক কর্মকাÐের পথে পা বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দেয়। মেধাবী তরুণদের এই অপচয় একটি দেশের জন্য বিশাল অপূরণীয় ক্ষতি। বর্তমান এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের সময়টিকে যদি আমরা সঠিক দক্ষতায় রূপান্তর করতে না পারি, তবে এই লভ্যাংশ অচিরেই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টার’ বা জনমিতিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্যকে কেবল জ্ঞান আহরণ নয়, বরং কর্মমুখী যোগ্যতায় রূপান্তরিত করতে হবে।এই সংকট উত্তরণের জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। প্রথমত, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং প্লেসমেন্ট সেল থাকতে হবেÑ যা সরাসরি শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পাঠ্যক্রমে তাত্তি¡ক জ্ঞানের পাশাপাশি অন্তত ছয় মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ বা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কারিগরি শিক্ষাকে সামাজিকভাবে জনপ্রিয় করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা কেবল মগজের উন্নয়ন নয়, এটি হাতের কাজের উন্নয়নও বটে। তৃতীয়ত, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং রিফ্রেশার কোর্সের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত রাখতে হবে যাতে তারা শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দিতে পারেন। শিল্প খাতের নেতাদেরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়োগকর্তাদের উচিত হবে কেবল অভিজ্ঞ কর্মী না খুঁজে নবীন স্নাতকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার মানসিকতা রাখা। প্রতিটি বড় প্রতিষ্ঠানে লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থাকা উচিতÑ যা নতুন কর্মীদের আধুনিক দক্ষতায় ঝালিয়ে নেবে। সরকার নীতিগত প্রণোদনার মাধ্যমে সেই সব প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করতে পারে যারা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখছে। আমাদের তরুণরা মেধাবী, কেবল প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সুযোগের। শিক্ষা আর কর্মসংস্থানের মাঝখানের এই সাঁকোটি যদি আমরা মজবুত করতে পারি, তবেই ২০২৬ পরবর্তী উন্নয়নশীল বাংলাদেশ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।শিক্ষা হওয়া উচিত মুক্তির আনন্দ, বোঝার বোঝা নয়। একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হবে, তখন তার হাতে কেবল একটি কাগজ নয় বরং একটি নিশ্চিত আত্মবিশ্বাস থাকা উচিত যে, সে তার মেধা দিয়ে যেকোনো কর্মক্ষেত্রে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে। আমাদের জাতীয় আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন তখনই সার্থক হবে যখন আমাদের ডিগ্রির পাহাড় দক্ষতার মরুভ‚মিতে হারিয়ে যাবে না, বরং প্রতিটি সনদ একেকটি দক্ষ হাতের শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এলডিসি উত্তরণের এই ক্রান্তিকালে আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং স্মার্ট কর্মসংস্থান। তবেই আমরা বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।[লেখক : গবেষক ও উন্নয়নকর্মী]

ডিগ্রির পাহাড় ও দক্ষতার মরুভূমি