ঢাকা শহরে মশার উপদ্রব বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে মশা নিধনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম ‘ফগিং’ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফগিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধ তৈরিতে ডিজেলের প্রয়োজন হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে ঠিকাদাররা ডিজেল পাচ্ছেন না। এ কারণে দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মশা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা অন্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেশে একাধিকবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখেছে। মশাবাহিত রোগের প্রভাব শুধু ব্যক্তি মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই মশার বিস্তার রোধ করা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ।
বাস্তবতা হচ্ছে মশা নিধনে ফগিং কার্যক্রম ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। যে কারণে জ্বালানি সংকট মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করছে। আমরা বলব, গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম একক কোনো উপাদানের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলে সংকটের সময় সেটি ঝুঁকিতে পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
ফগিং কার্যক্রমে জ্বালানি সংকট নিয়ে তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও রয়েছে। প্রয়োজনীয় মজুতের সুনির্দিষ্ট হিসাব ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র না থাকলে কার্যকর পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত চাহিদা নিরূপণ, মজুত পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ সমন্বয় করা জরুরি।
মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। জমে থাকা পানি অপসারণ ও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো সমানভাবে জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হলে টেকসই ফল পাওয়া যেতে পারে। এজন্য সিটি করপোরেশনগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। মশা নিয়ন্ত্রণে সামান্য শৈথিল্যও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা শহরে মশার উপদ্রব বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে মশা নিধনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম ‘ফগিং’ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফগিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধ তৈরিতে ডিজেলের প্রয়োজন হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে ঠিকাদাররা ডিজেল পাচ্ছেন না। এ কারণে দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মশা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা অন্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দেশে একাধিকবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখেছে। মশাবাহিত রোগের প্রভাব শুধু ব্যক্তি মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই মশার বিস্তার রোধ করা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ।
বাস্তবতা হচ্ছে মশা নিধনে ফগিং কার্যক্রম ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। যে কারণে জ্বালানি সংকট মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করছে। আমরা বলব, গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম একক কোনো উপাদানের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলে সংকটের সময় সেটি ঝুঁকিতে পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
ফগিং কার্যক্রমে জ্বালানি সংকট নিয়ে তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও রয়েছে। প্রয়োজনীয় মজুতের সুনির্দিষ্ট হিসাব ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঠিক চিত্র না থাকলে কার্যকর পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত চাহিদা নিরূপণ, মজুত পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ সমন্বয় করা জরুরি।
মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিংয়ের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। জমে থাকা পানি অপসারণ ও নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো সমানভাবে জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হলে টেকসই ফল পাওয়া যেতে পারে। এজন্য সিটি করপোরেশনগুলোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। মশা নিয়ন্ত্রণে সামান্য শৈথিল্যও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন