সংবাদ

চিতলমারীতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট


প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

চিতলমারীতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিল, কনডম ও ইনজেকশন বিতরণ করতে পারছেন না। ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা চরম অসুবিধায় পড়েছেন। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এই সংকট শুধু চিতলমারীতেই সীমাবদ্ধ নয়। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ জানিয়েছে, সারা দেশেই এ ধরনের সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক সেবাপ্রত্যাশী খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। প্রান্তিক দরিদ্র অনেক মানুষের পক্ষে বাজার থেকে এসব সামগ্রী কেনা অনেক সময় সম্ভব হয় না। ফলে অপরিকল্পিত গর্ভধারণের আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এক হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশে মোট প্রজননের হার ছিল প্রায় ৬। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২.৪-এর কাছাকাছি। এই সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহের এই ঘাটতি এতদিনের অর্জিত অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ বাড়লে মাতৃমৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে অপূর্ণ চাহিদা ও মাতৃমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট দূর করা না গেলে এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দরিদ্র ও গ্রামীণ নারীরা।

সরকারের উচিত উদ্ভূত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। এই অগ্রাধিকার যেন কোনো কারণে ক্ষুণ্ন না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


চিতলমারীতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পিল, কনডম ও ইনজেকশন বিতরণ করতে পারছেন না। ফলে সেবাপ্রত্যাশীরা চরম অসুবিধায় পড়েছেন। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এই সংকট শুধু চিতলমারীতেই সীমাবদ্ধ নয়। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ জানিয়েছে, সারা দেশেই এ ধরনের সংকট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক সেবাপ্রত্যাশী খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। প্রান্তিক দরিদ্র অনেক মানুষের পক্ষে বাজার থেকে এসব সামগ্রী কেনা অনেক সময় সম্ভব হয় না। ফলে অপরিকল্পিত গর্ভধারণের আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এক হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশে মোট প্রজননের হার ছিল প্রায় ৬। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২.৪-এর কাছাকাছি। এই সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহের এই ঘাটতি এতদিনের অর্জিত অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ বাড়লে মাতৃমৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে অপূর্ণ চাহিদা ও মাতৃমৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট দূর করা না গেলে এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দরিদ্র ও গ্রামীণ নারীরা।

সরকারের উচিত উদ্ভূত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। এই অগ্রাধিকার যেন কোনো কারণে ক্ষুণ্ন না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত