চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনে হরিণের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, হরিণের সংখ্যা বাড়লেও শিকার থামছে না। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর অসৎ বনকর্মকর্তা ও রক্ষীর সহায়তায় স্থানীয় চিহ্নিত চক্র সারা বছরই হরিণ শিকার করে। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
হরিণ ধরার ফাঁদে বন্য শুকর ও বাঘও আটকা পড়ছে। বনবিভাগের তথ্য অনুসারে, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে ফাঁদে আটকা ও জবাই করা হরিণ, মাংস, চামড়া এবং ফাঁদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দেখা গেছে, শিকারের সঙ্গে সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় মানুষই বেশি জড়িত। এদের মদতদাতারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় দেড়শরও বেশি চোরা শিকারি চক্র কাজ করে বলে জানা যায়। তারা জেলের ছদ্মবেশে বনে ঢুকে দড়ির ফাঁদ পাতে।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, যে পরিমাণ মাংস ও চামড়া আটক হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিকার হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু মাংস বহনকারীরা ধরা পড়েন। মূল চোরা শিকারি ও পাচারকারীরা অনেক সময় পার পেয়ে যান। আটক ব্যক্তিরা সহজেই জেল থেকে বেরিয়ে আবার একই কাজে ফিরে যান।
বনবিভাগ বলছে, তারা সবসময় তৎপর রয়েছে। মধু আহরণের মৌসুমে টহল জোরদার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডও চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অভিযান চালাচ্ছে। সরকার বলছে, সুন্দরবন ও এর প্রাণী রক্ষা জাতীয় দায়িত্ব। এ জন্য কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমরা বলতে চাই, শুধু টহল বা অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। নেপথ্যের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হরিণ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্যে সুন্দরবনে হরিণের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, হরিণের সংখ্যা বাড়লেও শিকার থামছে না। অভিযোগ রয়েছে, একশ্রেণীর অসৎ বনকর্মকর্তা ও রক্ষীর সহায়তায় স্থানীয় চিহ্নিত চক্র সারা বছরই হরিণ শিকার করে। এ নিয়ে সংবাদে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
হরিণ ধরার ফাঁদে বন্য শুকর ও বাঘও আটকা পড়ছে। বনবিভাগের তথ্য অনুসারে, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে ফাঁদে আটকা ও জবাই করা হরিণ, মাংস, চামড়া এবং ফাঁদসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দেখা গেছে, শিকারের সঙ্গে সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার স্থানীয় মানুষই বেশি জড়িত। এদের মদতদাতারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকায় দেড়শরও বেশি চোরা শিকারি চক্র কাজ করে বলে জানা যায়। তারা জেলের ছদ্মবেশে বনে ঢুকে দড়ির ফাঁদ পাতে।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, যে পরিমাণ মাংস ও চামড়া আটক হয়, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি শিকার হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু মাংস বহনকারীরা ধরা পড়েন। মূল চোরা শিকারি ও পাচারকারীরা অনেক সময় পার পেয়ে যান। আটক ব্যক্তিরা সহজেই জেল থেকে বেরিয়ে আবার একই কাজে ফিরে যান।
বনবিভাগ বলছে, তারা সবসময় তৎপর রয়েছে। মধু আহরণের মৌসুমে টহল জোরদার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডও চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অভিযান চালাচ্ছে। সরকার বলছে, সুন্দরবন ও এর প্রাণী রক্ষা জাতীয় দায়িত্ব। এ জন্য কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমরা বলতে চাই, শুধু টহল বা অভিযান দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় মানুষের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। নেপথ্যের গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। হরিণ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

আপনার মতামত লিখুন