সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্কুলমুখী করতে সারা দেশের মতো বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাতেও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভালো। শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসবে, পুষ্টিকর খাবার পাবে। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর মাত্র তিন দিনের মাথায় এতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। গত বুধবার শরণখোলা উপজেলার ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ হাজার ৪৮১ জন শিশুর জন্য একটি করে বন রুটি ও একটি সিদ্ধ ডিম বরাদ্দ ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোনো শিশুকেই রুটি সরবরাহ করতে পারেনি। শুধু ডিম দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ২৯ মার্চ থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম তিন দিন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গত দুই দিন রুটি দেয়া সম্ভব হয়নি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বলেছে, তারা বাগেরহাটসহ ১৩টি জেলায় স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে। রুটি তৈরি হয় ঝিনাইদহের একটি কারখানায়। ঈদের ছুটির কারণে শ্রমিক সংকট হয়েছে। তাছাড়া দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের অভাবে পরিবহন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি ও উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর প্রথম সপ্তাহেই এমন ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি সমস্যার কথা বলছে। তবে কর্মসূচি চালুর আগেই পরিকল্পনা করে সব ধরনের সমস্যা মোকাবিলার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
স্কুল ফিডিংয়ে যদি নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা না হয় তাহলে শিশুদের স্কুলে আসার আগ্রহ কমতে পারে। অভিভাবকদের আস্থাও নষ্ট হবে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত মনিটরিং বাড়াতে হবে।

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের স্কুলমুখী করতে সারা দেশের মতো বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলাতেও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভালো। শিশুরা নিয়মিত স্কুলে আসবে, পুষ্টিকর খাবার পাবে। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর মাত্র তিন দিনের মাথায় এতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। গত বুধবার শরণখোলা উপজেলার ১১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ হাজার ৪৮১ জন শিশুর জন্য একটি করে বন রুটি ও একটি সিদ্ধ ডিম বরাদ্দ ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোনো শিশুকেই রুটি সরবরাহ করতে পারেনি। শুধু ডিম দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ২৯ মার্চ থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম তিন দিন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গত দুই দিন রুটি দেয়া সম্ভব হয়নি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বলেছে, তারা বাগেরহাটসহ ১৩টি জেলায় স্কুল ফিডিংয়ের খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে। রুটি তৈরি হয় ঝিনাইদহের একটি কারখানায়। ঈদের ছুটির কারণে শ্রমিক সংকট হয়েছে। তাছাড়া দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের অভাবে পরিবহন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি ও উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর প্রথম সপ্তাহেই এমন ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি সমস্যার কথা বলছে। তবে কর্মসূচি চালুর আগেই পরিকল্পনা করে সব ধরনের সমস্যা মোকাবিলার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।
স্কুল ফিডিংয়ে যদি নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা না হয় তাহলে শিশুদের স্কুলে আসার আগ্রহ কমতে পারে। অভিভাবকদের আস্থাও নষ্ট হবে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত মনিটরিং বাড়াতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন