সুনামগঞ্জে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের বোরো ফসল জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ কাটা নিয়ে জেলা সদর ও ধর্মপাশা উপজেলায় গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই উপজেলায় অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
স্থানীয় কৃষক ও হাওর-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনের নির্মিত ‘অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয়’ বাঁধের কারণেই হাওরে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন হাওর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কেটে দেয় পার্শ্ববর্তী ছনুয়ার হাওর এলাকার নোয়াগাঁও, গোলেরগাঁও, কান্দাগাঁও ও উলুতুলু গ্রামের সশস্ত্র লোকজন। ছনুয়ার হাওরের জলাবদ্ধতা দূর করতে ডাকুয়ার হাওরের এই বাঁধটি কাটতে গেলে মোহনপুর গ্রামের কৃষকেরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২১ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আলী, আফিজ, সুকুর আলী, আজিজুল ও জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে এ সমস্যা সমাধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুনজিত কুমার চন্দ দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়। কিন্তু বৈঠক চলাকালেই কয়েক শ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাঁধটি কেটে দেয়। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
মোহনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নূরুল আমিন বলেন, ‘প্রশাসনের সিদ্ধান্ত চলাকালেই চার গ্রামের লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় অস্ত্র নিয়ে এসে বাঁধ কেটে দিয়েছে। আমাদের লোকজন বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’ তবে অপর পক্ষের ইউপি সদস্য আব্দুল মুছাব্বির বলেন, বাঁধ কারা কেটেছে তা তিনি জানেন না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পাউবোর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) খায়রুল আলম বলেন, ‘প্রশাসনের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা জোরপূর্বক বাঁধ কেটেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এডিএম সুনজিত কুমার চন্দও একই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, আজ দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরেও বাঁধ কাটা নিয়ে রাজাপুর ও বালিজুরি গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল্লাহ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধর্মপাশার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় ও ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানেও উত্তেজনা নিরসনে সন্ধ্যায় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধ কাটা ও রক্ষা করা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে এমন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ চাষিদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন