‘আমি কোনো দলিলপত্র দেখতে ইচ্ছুক নই। বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। মোবাইল কোর্ট নিয়ে এসেছি। বাড়াবাড়ি করলে দলিল বাতিল করব। সবাইকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাব"- এভাবেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক একজন প্রধান শিক্ষকসহ এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে চলে যান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) সঞ্জয় ঘোষ। এলাকাবাসী বলছেন, এসিল্যান্ড স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে এমন আচরণ করায় তাদের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারের।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারের গণ শৌচাগার ও টিউবওয়েল নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে। এগুলোর তদারকির দায়িত্ব রয়েছেন রাজনৈতিক নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির।
ঘটনার দিন এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ সার্ভেয়ার ও পুলিশসহ গোলকপুর বাজারে যান। তারা বাজারের পাশেই গোলকপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী ও তার ভাইদের জায়গায় জোর করে গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য স্থান চিহ্নিত করে আসেন।
মো. ইউসুফ আলী জানান, ৫০ থেকে ৬০ বছর তার বাবা জমিদারদের কাছ থেকে এই জায়গা কিনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ও তার ভাইয়েরা উত্তরাধিকার সূত্রে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত জরিপে ভুলক্রমে তাদের দখলকৃত কয়েক শতাংশ জায়গা রেকর্ড হয়ে আসেনি। ফলে গত ২৯ মার্চ মো. ইউসুফ আলী গং জজ আদালত, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জে সত্ত্ব মামলা দায়ের করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বড় অংকের সরকারি বরাদ্দ আসায় একটি প্রভাবশালী চক্র নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা জানান, চক্রটি যখন জানতে পারে মো. ইউসুফ আলী গংদের কিছু জায়গা রেকর্ড হয়ে আসেনি, ঠিক তখনই তারা ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে ওই জায়গাটিতে গণশৌচাগার করার পরামর্শ দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গণশৌচাগার করার আগেই দ্রুত নামমাত্র কাজ করে টাকা আত্মসাতের সুযোগ পাবে। এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ বাজারে এলে জমির মালিকসহ অন্যরা তারা নিজস্ব দলিলের জায়গা হিসেবে দাবি করেন। তবে এসিল্যান্ড তাদের কথা না শুনে হুমকি-ধমকি, গ্রেপ্তার এমনকি দলিল বাতিলের হুংকার দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা শঙ্কিত।
প্রতিবেদক সরেজমিনে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গেলে অর্ধশতাধিক গ্রামীবাসী আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ, এসিল্যান্ড তাদের সঙ্গে খুবই অসদাচরণ করেছেন।
৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার ভূমি অফিস থেকে লোকজন এসে অনেকটা জোরপূর্বক মো. ইউসুফ আলী গংদের জায়গা চিহ্নিত করেন। আমরা কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তিনি তা দেখতে চাননি।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, ভূমি অফিস থেকে লোকজন এসে মো. ইউসুফ আলী গংদের জায়গা গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করে। এ সময় তারা দলিলপত্র দেখাতে চাইলে কোনো কাগজই দেখতে চাননি এসিল্যান্ড। এমনকি এলাকার লোকজন কাগজ দেখার দাবি জানালেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি।
এলাকার গৃহিণী হুসনে আরা বেগম বলেন, ‘এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ আমাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা এর যথাযথ বিচার দাবি করছি।’
এলাকার লোকজন জানান, ভুক্তভোগীদের পূর্বের বসতভিটা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে যে জায়গাটিতে আছেন সেখানেই তাদের একমাত্র ঠাঁই।
তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে বিরোধপূর্ণ জায়গাটির দলিলে মো. ইউসুফ আলী গংরা মালিক কিনা তা আমার জানা নেই।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মপাশা উপজেলার এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘এখানে কয়েক শতক সরকারি জায়গা পাওয়া গেছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারি জায়গা উদ্ধার করা। যেহেতু একটি বাড়ির সামনে জায়গাটি সেখানে গণশৌচাগার আমরা হয়তো করব না। মানবিক দিক থেকে সেটা বিবেচনা করেছি। ’দলিল বাতিল ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে এসিল্যান্ড বলেন, ‘দলিল তো আমার অফিসেই রয়েছে। তাছাড়া ঘটনার দিন সেখানে অনেক লোকজন ছিল। স্থানীয় যারা ওই জায়গায় শৌচাগার করতে চাচ্ছে তাদের সঙ্গে অভিযোগকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। তাই আইন মতো বলেছি কেউ যাতে কোনো আইন লঙ্ঘন না করে। লংঘন করলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে এসিল্যান্ড বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ ন্যায়ের পথে আছি। ’

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘আমি কোনো দলিলপত্র দেখতে ইচ্ছুক নই। বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। মোবাইল কোর্ট নিয়ে এসেছি। বাড়াবাড়ি করলে দলিল বাতিল করব। সবাইকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাব"- এভাবেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক একজন প্রধান শিক্ষকসহ এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে চলে যান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) সঞ্জয় ঘোষ। এলাকাবাসী বলছেন, এসিল্যান্ড স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে এমন আচরণ করায় তাদের মধ্যে অনেকটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারের।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলকপুর বাজারের গণ শৌচাগার ও টিউবওয়েল নির্মাণের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে। এগুলোর তদারকির দায়িত্ব রয়েছেন রাজনৈতিক নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির।
ঘটনার দিন এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ সার্ভেয়ার ও পুলিশসহ গোলকপুর বাজারে যান। তারা বাজারের পাশেই গোলকপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী ও তার ভাইদের জায়গায় জোর করে গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য স্থান চিহ্নিত করে আসেন।
মো. ইউসুফ আলী জানান, ৫০ থেকে ৬০ বছর তার বাবা জমিদারদের কাছ থেকে এই জায়গা কিনে নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ও তার ভাইয়েরা উত্তরাধিকার সূত্রে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত জরিপে ভুলক্রমে তাদের দখলকৃত কয়েক শতাংশ জায়গা রেকর্ড হয়ে আসেনি। ফলে গত ২৯ মার্চ মো. ইউসুফ আলী গং জজ আদালত, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জে সত্ত্ব মামলা দায়ের করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বড় অংকের সরকারি বরাদ্দ আসায় একটি প্রভাবশালী চক্র নামমাত্র কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা জানান, চক্রটি যখন জানতে পারে মো. ইউসুফ আলী গংদের কিছু জায়গা রেকর্ড হয়ে আসেনি, ঠিক তখনই তারা ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে ওই জায়গাটিতে গণশৌচাগার করার পরামর্শ দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গণশৌচাগার করার আগেই দ্রুত নামমাত্র কাজ করে টাকা আত্মসাতের সুযোগ পাবে। এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ বাজারে এলে জমির মালিকসহ অন্যরা তারা নিজস্ব দলিলের জায়গা হিসেবে দাবি করেন। তবে এসিল্যান্ড তাদের কথা না শুনে হুমকি-ধমকি, গ্রেপ্তার এমনকি দলিল বাতিলের হুংকার দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা শঙ্কিত।
প্রতিবেদক সরেজমিনে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গেলে অর্ধশতাধিক গ্রামীবাসী আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেন। তাদের অভিযোগ, এসিল্যান্ড তাদের সঙ্গে খুবই অসদাচরণ করেছেন।
৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার ভূমি অফিস থেকে লোকজন এসে অনেকটা জোরপূর্বক মো. ইউসুফ আলী গংদের জায়গা চিহ্নিত করেন। আমরা কাগজপত্র দেখাতে চাইলে তিনি তা দেখতে চাননি।
সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, ভূমি অফিস থেকে লোকজন এসে মো. ইউসুফ আলী গংদের জায়গা গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করে। এ সময় তারা দলিলপত্র দেখাতে চাইলে কোনো কাগজই দেখতে চাননি এসিল্যান্ড। এমনকি এলাকার লোকজন কাগজ দেখার দাবি জানালেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি।
এলাকার গৃহিণী হুসনে আরা বেগম বলেন, ‘এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ আমাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা এর যথাযথ বিচার দাবি করছি।’
এলাকার লোকজন জানান, ভুক্তভোগীদের পূর্বের বসতভিটা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে যে জায়গাটিতে আছেন সেখানেই তাদের একমাত্র ঠাঁই।
তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে বিরোধপূর্ণ জায়গাটির দলিলে মো. ইউসুফ আলী গংরা মালিক কিনা তা আমার জানা নেই।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মপাশা উপজেলার এসিল্যান্ড সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘এখানে কয়েক শতক সরকারি জায়গা পাওয়া গেছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারি জায়গা উদ্ধার করা। যেহেতু একটি বাড়ির সামনে জায়গাটি সেখানে গণশৌচাগার আমরা হয়তো করব না। মানবিক দিক থেকে সেটা বিবেচনা করেছি। ’দলিল বাতিল ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া প্রসঙ্গে এসিল্যান্ড বলেন, ‘দলিল তো আমার অফিসেই রয়েছে। তাছাড়া ঘটনার দিন সেখানে অনেক লোকজন ছিল। স্থানীয় যারা ওই জায়গায় শৌচাগার করতে চাচ্ছে তাদের সঙ্গে অভিযোগকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। তাই আইন মতো বলেছি কেউ যাতে কোনো আইন লঙ্ঘন না করে। লংঘন করলে সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে এসিল্যান্ড বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে শতভাগ ন্যায়ের পথে আছি। ’

আপনার মতামত লিখুন