সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ফরিদপুরে ফুটবলের মাইকিং নিয়ে ৬ গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১০০


নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
নাজিম বকাউল, ফরিদপুর
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

ফরিদপুরে ফুটবলের মাইকিং নিয়ে ৬ গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১০০
ছবি : সংবাদ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার রেশ ধরে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা, সিঙ্গারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার জেরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজারে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও আজ শনিবার সকাল সাতটা থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের মানুষ আবারও মুখোমুখি অবস্থানে নামে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে মনসুরাবাদ গ্রামের অধিবাসীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাপুরা, সিঙ্গারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী হামিরদী ও গোপীনাথপুর গ্রামের লোকজনও এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মনসুরাবাদ বাজারের বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই সংঘাত থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ ও অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ডিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবারের ঘটনার জেরে আজ সকাল থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


ফরিদপুরে ফুটবলের মাইকিং নিয়ে ৬ গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১০০

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার রেশ ধরে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পাশের খাপুরা, সিঙ্গারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনার জেরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মনসুরাবাদ বাজারে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়। রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও আজ শনিবার সকাল সাতটা থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের মানুষ আবারও মুখোমুখি অবস্থানে নামে।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে মনসুরাবাদ গ্রামের অধিবাসীরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাপুরা, সিঙ্গারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সড়কি নিয়ে হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী হামিরদী ও গোপীনাথপুর গ্রামের লোকজনও এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মনসুরাবাদ বাজারের বেশ কিছু দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই সংঘাত থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ ও অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ডিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবারের ঘটনার জেরে আজ সকাল থেকে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত