সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

পুনরুত্থান দিবস: আশা, বিশ্বাস ও বিজয়ের বার্তা


মিথুশিলাক মুরমু
মিথুশিলাক মুরমু
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

পুনরুত্থান দিবস: আশা, বিশ্বাস ও বিজয়ের বার্তা
পুনরুত্থান মানুষের জীবনে আশা জাগায়, নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে। যারা যিশুকে অনুসরণ করেন, তারা মৃত্যুকে শেষ বলে মনে করেন না; বরং এটিকে চিরন্তন জীবনের পথে এক ধাপ হিসেবে দেখেন

আজ পবিত্র পুনরুত্থান দিবস। মানব ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিশু খ্রিস্ট, যিনি মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়েছেন। পবিত্র বাইবেল সাক্ষ্য দেয় যে, কবর থেকে উঠে তিনি এক-দু’জন নয়, শতাধিক মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়েছিলেন। তার শিষ্যদের মধ্যে থোমার মনে সন্দেহ জাগলে পুনরুত্থিত যিশু তার সামনে উপস্থিত হন। তিনি তার দু’হাত বাড়িয়ে দেন এবং কুক্ষিদেশ দেখান, যেখানে রোমান সৈন্যরা পেরেক গেঁথেছিল এবং আঘাত করেছিল। তখন অবিশ্বাসী থোমা অন্তর থেকে বলে উঠলেন— ‘হে আমার প্রভু, হে আমার ঈশ্বর’। যিশু শিষ্যদের সঙ্গে আহার করে প্রমাণ করেছিলেন যে, তিনি কোনো আত্মা নন, বরং সশরীরে জীবিত হয়েছেন (যোহন ২০:১৯-২৯)। 

এর আগে কূন্য কবরে স্বর্গদূত উপস্থিত থেকে মগদালিনী মরিয়ম, অন্য নারী এবং শিষ্যদের জানান— যিশু কবরে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন (লূক ২৪:১৬)। খ্রিস্টবিশ্বাসীদের কাছে যিশুর পুনরুত্থান হলো পাপ ও মৃত্যুর ওপর পরম বিজয়। যদি প্রভু যিশু পুনরুত্থিত না হতেন, তবে খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি থাকত না। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, তিনি ঈশ্বরের পুত্র (১ করিন্থীয় ১৫:১৪)। 

পুনরুত্থানের শক্তিতে শিষ্যরা সাহসী হয়ে ওঠেন। যারা একসময় ধর্মীয় নেতাদের ভয়ে আত্মগোপনে ছিলেন, তারাই পরে অসীম সাহসে ঘুরে দাঁড়ান। নানা বাধা ও বিপদের মধ্যেও তারা প্রভু যিশুর আদর্শকে সমুন্নত রাখেন। যিরূশালেম, যিহুদা, শমরিয়া থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত তারা ভালোবাসার বাণী পৌঁছে দেন। যিশু মানুষের অন্তর পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়েছেন, নতুন জীবনের চেতনা জাগ্রত করেছেন। 

আশ্চর্যের বিষয়, মৃত্যুভয় তাদের টলাতে পারেনি। যিশুর শিষ্যরা কঠিন যন্ত্রণা ও মৃত্যুর মুখেও নিজেদের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। প্রভু যিশুর মৃত্যু ও পুনরুত্থান তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল, যার প্রভাব আজও বিদ্যমান। খ্রিস্টের বাণী ধারণ করে মিশনারিরা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। অজানা-অচেনা ভূমিতে, প্রতিকূল পরিবেশেও তারা এই বাণী প্রচার করেছেন। অনেকে নিজ মাতৃভূমিতে আর ফিরে আসেননি; বিদেশের মাটিতেই তাদের সমাধি হয়েছে। এসবই সম্ভব হয়েছে প্রভু যিশুর পুনরুত্থানের শক্তিতে। 

সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ রোববার প্রভাতেই, সূর্যের আলো পৃথিবী আলোকিত করার আগেই প্রভু যিশু পুনরুত্থিত হন। তিনি শয়তানের শক্তিকে পরাজিত করে নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করেন। পুনরুত্থান মানুষের জীবনে আশা জাগায়, নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে। যারা যিশুকে অনুসরণ করেন, তারা মৃত্যুকে শেষ বলে মনে করেন না; বরং এটিকে চিরন্তন জীবনের পথে এক ধাপ হিসেবে দেখেন। 

শাস্ত্র অনুযায়ী, বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে একটিই মৃত্যু— জাগতিক মৃত্যু; কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে জাগতিক মৃত্যুর পাশাপাশি অনন্ত শাস্তি। তাই পুনরুত্থান কেবল একটি ধর্মীয় ঘটনা নয়, এটি এক জীবনদায়ী চেতনা। 

আসুন, আমরা সত্যকে ধারণ করি এবং সত্যময় ঈশ্বরের উপাসনা করি। কারণ সত্যই ঈশ্বর। পবিত্র পুনরুত্থান দিবসে এই কামনা— পুনরুত্থানের আলো আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব, প্রেম ও স্বর্গীয় ভালোবাসা। 

[লেখক: কলামিস্ট]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


পুনরুত্থান দিবস: আশা, বিশ্বাস ও বিজয়ের বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

আজ পবিত্র পুনরুত্থান দিবস। মানব ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিশু খ্রিস্ট, যিনি মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়েছেন। পবিত্র বাইবেল সাক্ষ্য দেয় যে, কবর থেকে উঠে তিনি এক-দু’জন নয়, শতাধিক মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়েছিলেন। তার শিষ্যদের মধ্যে থোমার মনে সন্দেহ জাগলে পুনরুত্থিত যিশু তার সামনে উপস্থিত হন। তিনি তার দু’হাত বাড়িয়ে দেন এবং কুক্ষিদেশ দেখান, যেখানে রোমান সৈন্যরা পেরেক গেঁথেছিল এবং আঘাত করেছিল। তখন অবিশ্বাসী থোমা অন্তর থেকে বলে উঠলেন— ‘হে আমার প্রভু, হে আমার ঈশ্বর’। যিশু শিষ্যদের সঙ্গে আহার করে প্রমাণ করেছিলেন যে, তিনি কোনো আত্মা নন, বরং সশরীরে জীবিত হয়েছেন (যোহন ২০:১৯-২৯)। 

এর আগে কূন্য কবরে স্বর্গদূত উপস্থিত থেকে মগদালিনী মরিয়ম, অন্য নারী এবং শিষ্যদের জানান— যিশু কবরে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন (লূক ২৪:১৬)। খ্রিস্টবিশ্বাসীদের কাছে যিশুর পুনরুত্থান হলো পাপ ও মৃত্যুর ওপর পরম বিজয়। যদি প্রভু যিশু পুনরুত্থিত না হতেন, তবে খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি থাকত না। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, তিনি ঈশ্বরের পুত্র (১ করিন্থীয় ১৫:১৪)। 

পুনরুত্থানের শক্তিতে শিষ্যরা সাহসী হয়ে ওঠেন। যারা একসময় ধর্মীয় নেতাদের ভয়ে আত্মগোপনে ছিলেন, তারাই পরে অসীম সাহসে ঘুরে দাঁড়ান। নানা বাধা ও বিপদের মধ্যেও তারা প্রভু যিশুর আদর্শকে সমুন্নত রাখেন। যিরূশালেম, যিহুদা, শমরিয়া থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত তারা ভালোবাসার বাণী পৌঁছে দেন। যিশু মানুষের অন্তর পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়েছেন, নতুন জীবনের চেতনা জাগ্রত করেছেন। 

আশ্চর্যের বিষয়, মৃত্যুভয় তাদের টলাতে পারেনি। যিশুর শিষ্যরা কঠিন যন্ত্রণা ও মৃত্যুর মুখেও নিজেদের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। প্রভু যিশুর মৃত্যু ও পুনরুত্থান তাদের অনুপ্রাণিত করেছিল, যার প্রভাব আজও বিদ্যমান। খ্রিস্টের বাণী ধারণ করে মিশনারিরা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। অজানা-অচেনা ভূমিতে, প্রতিকূল পরিবেশেও তারা এই বাণী প্রচার করেছেন। অনেকে নিজ মাতৃভূমিতে আর ফিরে আসেননি; বিদেশের মাটিতেই তাদের সমাধি হয়েছে। এসবই সম্ভব হয়েছে প্রভু যিশুর পুনরুত্থানের শক্তিতে। 

সপ্তাহের প্রথম দিন, অর্থাৎ রোববার প্রভাতেই, সূর্যের আলো পৃথিবী আলোকিত করার আগেই প্রভু যিশু পুনরুত্থিত হন। তিনি শয়তানের শক্তিকে পরাজিত করে নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করেন। পুনরুত্থান মানুষের জীবনে আশা জাগায়, নতুন উদ্যম সৃষ্টি করে। যারা যিশুকে অনুসরণ করেন, তারা মৃত্যুকে শেষ বলে মনে করেন না; বরং এটিকে চিরন্তন জীবনের পথে এক ধাপ হিসেবে দেখেন। 

শাস্ত্র অনুযায়ী, বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে একটিই মৃত্যু— জাগতিক মৃত্যু; কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে জাগতিক মৃত্যুর পাশাপাশি অনন্ত শাস্তি। তাই পুনরুত্থান কেবল একটি ধর্মীয় ঘটনা নয়, এটি এক জীবনদায়ী চেতনা। 

আসুন, আমরা সত্যকে ধারণ করি এবং সত্যময় ঈশ্বরের উপাসনা করি। কারণ সত্যই ঈশ্বর। পবিত্র পুনরুত্থান দিবসে এই কামনা— পুনরুত্থানের আলো আমাদের প্রত্যেকের জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব, প্রেম ও স্বর্গীয় ভালোবাসা। 

[লেখক: কলামিস্ট]



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত