কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার কারণ উদঘাটনে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। শনিবার (৬ এপ্রিল) রাতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্পিতার অকাল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শৃঙ্খলা) ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের (সদস্যসচিব)। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্পিতার মৃত্যুর প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং ওই মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ওপর।
শিক্ষার্থীর ওপর কোনো ধরনের মানসিক চাপ, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছিল কি না এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এই কমিটি। প্রয়োজনে পরীক্ষার ফলাফল ও উপস্থিতির রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন একটি বিষয়ে কয়েকবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। গত ২ এপ্রিল আবারও ফরম পূরণের জন্য বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মানসিক চাপ সইতে না পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষে বিপুল পরিমাণ ওষুধ সেবন করেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সহপাঠীদের অভিযোগ, এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়ে অর্পিতা বারবার একই বিষয়ে অকৃতকার্য হচ্ছিলেন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্য সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমিতে তিনি টানা পাঁচবার ফেল করেন।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে।
খুলনা সদরের বাসিন্দা অর্পিতা নওশিনরা এক ভাই ও এক বোন। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন