সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কুড়িগ্রামে দুর্যোগে সাড়ে তিন হাজার কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ, ক্ষতি ৮ কোটি টাকা


হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

কুড়িগ্রামে দুর্যোগে সাড়ে তিন হাজার কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ, ক্ষতি ৮ কোটি টাকা
তিস্তার চরাঞ্চলে ফলন ভালো হলেও দুর্যোগে দিশাহারা মরিচ চাষিরা। ছবি : সংবাদ

কুড়িগ্রামে তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ৩ হাজার ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় ৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ চাষিরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ বাজারে নিয়ে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। ফলে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন চরাঞ্চলের চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ খেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের হাহাকার।

চর গতিয়াসামের কৃষক আব্দুল আজিজ (৭০) বলেন, ‘১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ লাগিয়েছি। এখনো খরচই ওঠেনি। তার ওপর শিলা আর বৃষ্টিতে অনেক মরিচ গাছ পচে গেছে।’

তার স্ত্রী আনোয়ার বেগম বলেন, ‘আশা ছিল মরিচ বিক্রির লাভে অনেক কিছু করব। কিন্তু বাজারে মরিচের দাম অনেক কম। এমন দাম থাকলে আমরা বড় লোকসানে পড়ব।’

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় এবার ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক কৃষক মরিচ তুলে ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক কৃষক একসঙ্গে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে আনায় হঠাৎ দরপতন ঘটেছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন নাজার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচ ও বাদামসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাঁদের পরিশ্রম দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


কুড়িগ্রামে দুর্যোগে সাড়ে তিন হাজার কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ, ক্ষতি ৮ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামে তিস্তার চরাঞ্চলে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ৩ হাজার ৫৬৩ জন কৃষকের প্রায় ৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাকসবজি, মরিচ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ চাষিরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ বাজারে নিয়ে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। ফলে উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই হিমশিম খাচ্ছেন চরাঞ্চলের চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে ২৮ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও শিলাঝড়ে ৫১৭ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৯৬ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ হাজার ২২ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন ফসল কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ খেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের হাহাকার।

চর গতিয়াসামের কৃষক আব্দুল আজিজ (৭০) বলেন, ‘১২ হাজার টাকা খরচ করে ৯ শতক জমিতে মরিচ লাগিয়েছি। এখনো খরচই ওঠেনি। তার ওপর শিলা আর বৃষ্টিতে অনেক মরিচ গাছ পচে গেছে।’

তার স্ত্রী আনোয়ার বেগম বলেন, ‘আশা ছিল মরিচ বিক্রির লাভে অনেক কিছু করব। কিন্তু বাজারে মরিচের দাম অনেক কম। এমন দাম থাকলে আমরা বড় লোকসানে পড়ব।’

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় এবার ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক কৃষক মরিচ তুলে ভালো দাম পেয়েছেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক কৃষক একসঙ্গে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে আনায় হঠাৎ দরপতন ঘটেছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন নাজার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচ ও বাদামসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষকরা তাঁদের পরিশ্রম দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত