সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

কেরানীগঞ্জের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: এই প্রাণহানির দায় কার


প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

কেরানীগঞ্জের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: এই প্রাণহানির দায় কার

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গত শনিবার একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন ৬ জন। এ ঘটনায় আরও দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটি সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি। শ্রমিকদের অভিযোগ, আগুন লাগার সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল। এ কারণে অনেকে দেয়াল টপকে বের হতে বাধ্য হন। যারা সময়মতো বের হতে পারেননি তারা আটকা পড়েন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, কারখানায় জরুরি অবস্থায় শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। 

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি পরিচালনার কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, এর আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। কারখানাটি সরিয়ে নিতে মালিককে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। বছরখানেক আগে অবৈধ কাগজপত্রের কারণে কারখানাটি বন্ধও করা হয়েছিল। পরে আবার চালু হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, কার অনুমতিতে কারখানা আবার চালু হয়েছিল?

দেশে অতীতেও কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, দায়ীদের বিচারের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে জবাবদিহি খুব কমই হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করতে গেলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কারখানায় নিরাপত্তা বিধি মানা হয় না। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অবৈধভাবে চলা কারখানাগুলোতে কোনো নজরদারি থাকে না। 

সরকার ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, এই তদন্ত যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত তদন্ত করে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। 

নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেয়া হয়েছে। জীবন অমূল্য। কোনো সহায়তাই যথেষ্ট নয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আগামীতে আর না ঘটে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। অবৈধ কারখানা চালানো বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। জরুরি অবস্থায় প্রধান ফটক যেন আর বন্ধ না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের জীবনের চেয়ে আর কিছুই মূল্যবান নয়। কোনো অজুহাতেই শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


কেরানীগঞ্জের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: এই প্রাণহানির দায় কার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গত শনিবার একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন ৬ জন। এ ঘটনায় আরও দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটি সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি। শ্রমিকদের অভিযোগ, আগুন লাগার সময় কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল। এ কারণে অনেকে দেয়াল টপকে বের হতে বাধ্য হন। যারা সময়মতো বের হতে পারেননি তারা আটকা পড়েন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, কারখানায় জরুরি অবস্থায় শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। 

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি পরিচালনার কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, এর আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। কারখানাটি সরিয়ে নিতে মালিককে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। বছরখানেক আগে অবৈধ কাগজপত্রের কারণে কারখানাটি বন্ধও করা হয়েছিল। পরে আবার চালু হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, কার অনুমতিতে কারখানা আবার চালু হয়েছিল?

দেশে অতীতেও কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, দায়ীদের বিচারের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে জবাবদিহি খুব কমই হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করতে গেলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কারখানায় নিরাপত্তা বিধি মানা হয় না। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অবৈধভাবে চলা কারখানাগুলোতে কোনো নজরদারি থাকে না। 

সরকার ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, এই তদন্ত যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত তদন্ত করে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। 

নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেয়া হয়েছে। জীবন অমূল্য। কোনো সহায়তাই যথেষ্ট নয়। এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আগামীতে আর না ঘটে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। অবৈধ কারখানা চালানো বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। জরুরি অবস্থায় প্রধান ফটক যেন আর বন্ধ না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের জীবনের চেয়ে আর কিছুই মূল্যবান নয়। কোনো অজুহাতেই শ্রমিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না। 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত