সারাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চৈত্রের প্রচণ্ড তাপদাহ। তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল আরোহী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার জয়পুর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জয়পুর ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। প্রচণ্ড গরমে যখন গ্রাহকেরা তৃষ্ণায় হাঁপিয়ে উঠছিলেন, ঠিক তখনই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন আবু সাইদ চৌধুরী (অনিক)। পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের হাতে ঠান্ডা শরবত ও বিস্কুটের প্যাকেট তুলে দেন।
এই সহমর্মিতামূলক উদ্যোগে উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তির ছোঁয়া লাগে। শরবত ও খাবার পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত অন্য ব্যবসায়ীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সাপাহার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোত্তাকিম হোসেন জুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মানবিক অনিক আজ যে উদ্যোগটি নিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তেলের পাম্পগুলোতে এমন মানবিক কাজ সচরাচর চোখে পড়ে না। একজন মানুষ কতটা জনবান্ধব হলে সারা রাত জেগে তেল সরবরাহ করার পাশাপাশি প্রচণ্ড রোদে মানুষের তৃষ্ণা মেটানোর কথা ভাবতে পারেন! আমরা সত্যিই মুগ্ধ।’
এ বিষয়ে আবু সাইদ চৌধুরী অনিক বলেন, ‘বর্তমানে তেলের ওপর চাপ বেশি। আমরা দিন-রাত নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তীব্র গরমে মানুষ যখন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তাদের কষ্টটা আমরা অনুভব করি। সেই বোধ থেকেই পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সামান্য এই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মানুষের মুখে একটু স্বস্তির হাসি দেখতে পারাটাই আমাদের সার্থকতা।’
আপনার মতামত লিখুন