সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

জাটকা ধরলে মিলবে না ইলিশ

মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু


প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু

দেশের রুপালি ইলিশের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামীকাল এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছেজাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬

আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় এই বিশেষ সপ্তাহ পালন করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জাটকা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, "ইলিশের টেকসই স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জাতীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবী, ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ভোক্তাসহ সব শ্রেণির জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো বছরও থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্তজাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬উদযাপন করা হবে।"

তিনি আরও জানান, এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছেজাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী আগামী এপ্রিল চাঁদপুরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

অবৈধ জাল নির্মূলে বিশেষ অভিযান

ইলিশের বংশবৃদ্ধিতে প্রধান বাধা হিসেবে কারেন্ট জাল বেহুন্দি জালকে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, "ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে কারেন্ট জাল বেহুন্দি জালসহ অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা নিধন। জাটকা নিধন রোধে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি আইন বাস্তবায়ন জোরদার করা হচ্ছে। অবৈধ ক্ষতিকর জাল ধ্বংসে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে।"

তিনি জানান, গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান আগামী জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী অব্যাহত থাকবে।

জেলেদের জন্য ভিজিএফ বিকল্প কর্মসংস্থান

সরকার কেবল নিষেধাজ্ঞাই দিচ্ছে না, বরং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "সরকার জাটকা রক্ষায় জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। প্রতি বছর লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবারকে মাসে মাসিক ৪০ কেজি হারে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রজনন মৌসুমে লাখ ১৯ হাজার ৩১২টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি হারে মোট ১৫ হাজার ৪৮২ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"

এ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য জেলেদের প্রশিক্ষণ বকনা বাছুরসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের রুপালি ইলিশের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামীকাল এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছেজাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬

আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় এই বিশেষ সপ্তাহ পালন করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জাটকা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, "ইলিশের টেকসই স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জাতীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবী, ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ভোক্তাসহ সব শ্রেণির জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো বছরও থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্তজাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬উদযাপন করা হবে।"

তিনি আরও জানান, এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছেজাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী আগামী এপ্রিল চাঁদপুরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

অবৈধ জাল নির্মূলে বিশেষ অভিযান

ইলিশের বংশবৃদ্ধিতে প্রধান বাধা হিসেবে কারেন্ট জাল বেহুন্দি জালকে চিহ্নিত করে মন্ত্রী বলেন, "ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে কারেন্ট জাল বেহুন্দি জালসহ অবৈধ জাল দিয়ে নির্বিচারে জাটকা নিধন। জাটকা নিধন রোধে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি আইন বাস্তবায়ন জোরদার করা হচ্ছে। অবৈধ ক্ষতিকর জাল ধ্বংসে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে।"

তিনি জানান, গত জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান আগামী জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী অব্যাহত থাকবে।

জেলেদের জন্য ভিজিএফ বিকল্প কর্মসংস্থান

সরকার কেবল নিষেধাজ্ঞাই দিচ্ছে না, বরং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "সরকার জাটকা রক্ষায় জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। প্রতি বছর লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবারকে মাসে মাসিক ৪০ কেজি হারে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রজনন মৌসুমে লাখ ১৯ হাজার ৩১২টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি হারে মোট ১৫ হাজার ৪৮২ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।"

এ ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য জেলেদের প্রশিক্ষণ বকনা বাছুরসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত