সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

এমপি টিপুর বাসায় ‘টর্চার সেল’, নিজ দলের নেতাকে ‘নির্যাতন’


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

এমপি টিপুর বাসায় ‘টর্চার সেল’, নিজ দলের নেতাকে ‘নির্যাতন’
নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। ছবি : সংগৃহীত

নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে নিজ বাসভবনে ‘টর্চার সেল’ বানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা বিএনপির নেতারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) প্রসাদপুর বাজার এলাকা থেকে এমপির ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র প্রধান ও এপিএস মোহাম্মদ আলীসহ ১০-১২ জন মান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়ে যান। তাকে এমপির বাসভবনের নিচতলায় একটি টর্চার সেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, এর আগে এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদলের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই এমপি টিপু ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করছেন বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এমপি তার ব্যক্তিগত বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি সরকারি কৃষি ভর্তুকি, চাল বিতরণ ও ত্রাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতিতে লিপ্ত। পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে তিনি অন্যের জমি ও খাস পুকুর দখল করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিচার চেয়ে বক্তারা বলেন, এমপির বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুমার বিশ্বজিৎ সরকার, শামসুল ইসলাম বাদল, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ও ভারশো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী বকুলসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তার সঙ্গে আমার কোনো যুক্ততা নেই। সংসদ অধিবেশন চলার কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে আমি এলাকায় নেই। বলা হচ্ছে আমার এপিএস মারধর করেছে, প্রকৃতপক্ষে আমার কোনো এপিএস কিংবা পিএস নাই। দলীয় কোনো নেতাকর্মীর কলহ হলে এ ঘটনার বিচার করবে উপজলো কিংবা জেলা বিএনপি। এছাড়া মারামারির ঘটনা প্রকৃতপক্ষে ঘটে থাকলে থানায় মামলা করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এতে যেই অপরাধী হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার চালিয়েছে। এখনও ওই পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। আশা করি, তাদের কোনো চক্রান্ত সফল হবে না।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন বলেন, ‘গতকাল ঘটনাটি ঘটার পর একটি পক্ষ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। এরপর আমিই আহত বিএনপি নেতাকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছি। যেহেতু দলীয় কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬


এমপি টিপুর বাসায় ‘টর্চার সেল’, নিজ দলের নেতাকে ‘নির্যাতন’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে নিজ বাসভবনে ‘টর্চার সেল’ বানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা বিএনপির নেতারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) প্রসাদপুর বাজার এলাকা থেকে এমপির ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’র প্রধান ও এপিএস মোহাম্মদ আলীসহ ১০-১২ জন মান্দা উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে তুলে নিয়ে যান। তাকে এমপির বাসভবনের নিচতলায় একটি টর্চার সেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ না নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, এর আগে এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদলের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই এমপি টিপু ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করছেন বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এমপি তার ব্যক্তিগত বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তিনি সরকারি কৃষি ভর্তুকি, চাল বিতরণ ও ত্রাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা দুর্নীতিতে লিপ্ত। পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে তিনি অন্যের জমি ও খাস পুকুর দখল করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বিচার চেয়ে বক্তারা বলেন, এমপির বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুমার বিশ্বজিৎ সরকার, শামসুল ইসলাম বাদল, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ও ভারশো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী বকুলসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মারধরের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে কল করা হলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তার সঙ্গে আমার কোনো যুক্ততা নেই। সংসদ অধিবেশন চলার কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে আমি এলাকায় নেই। বলা হচ্ছে আমার এপিএস মারধর করেছে, প্রকৃতপক্ষে আমার কোনো এপিএস কিংবা পিএস নাই। দলীয় কোনো নেতাকর্মীর কলহ হলে এ ঘটনার বিচার করবে উপজলো কিংবা জেলা বিএনপি। এছাড়া মারামারির ঘটনা প্রকৃতপক্ষে ঘটে থাকলে থানায় মামলা করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এতে যেই অপরাধী হোক না কেন, তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার চালিয়েছে। এখনও ওই পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। আশা করি, তাদের কোনো চক্রান্ত সফল হবে না।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন বলেন, ‘গতকাল ঘটনাটি ঘটার পর একটি পক্ষ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। এরপর আমিই আহত বিএনপি নেতাকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছি। যেহেতু দলীয় কর্মীকে মারধর করা হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত