সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সরকারের প্রথম একনেক সভা

নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়নি, পাঁচটি সংশোধনের অনুমোদন


প্রকাশ: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়নি, পাঁচটি সংশোধনের অনুমোদন

  • আগে নেওয়া প্রকল্প যাচাইয়ে কমিটি গঠন

বর্তমান সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম সভায় চলমান পাঁচটি প্রকল্প সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাথিমিক কার্যসূচিতে, সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার কথা ছিলো। তবে সেটি আলোচনার জন্য তোলা হয়নি। প্রকল্পটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা।

সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা হয়। নতুন সরকারের প্রথম এ একনেক শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের বদলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় যে পাঁচটি (চলমান) প্রকল্প সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৪৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং একটি প্রকল্পে খরচ কমানো হয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অন্য দুই প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে একনেকের সায় দেওয়ার কথা বৈঠকের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের জন্য বাড়তি ৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে।

মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৯০ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা সরকারিভাবে জোগান দেওয়া হবে এবং বাকি ৯২ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ বা অনুদান থেকে আসবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের নবম এবং বর্তমান সরকারের প্রথম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত পাঁচ প্রকল্প

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত ‘জেনারেল সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-২ (জিএসআইডিপি-২)’ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,৪৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং এর কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে ‘চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি-৪)’ প্রকল্পের মোট ব্যয় কমিয়ে ৩০ দশমিক ৭১৮৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ প্রকল্পের ব্যয় ২২৮ দশমিক ৪৪৫৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৫৩৩ দশমিক ৫৪৯২ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সুবিধা আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,২১৩ দশমিক ৭০৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় ২৬ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১৩৯ দশমিক ৩০৯৩ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা

একনেক সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ১৯টির মধ্যে ৭টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণের টাকার কথা মাথায় রেখে খুব সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, অপ্রয়োজনীয় কি না, এসব বিবেচনা করতে হচ্ছে।”

মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচ্য সূচিতে ১৯টি প্রকল্প ছিলো। প্রায় সব প্রকল্প আগের তৈরি। এগুলো পর্যালোচনা করে অনেক সমস্যা পাওয়া গেছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, সেটিও প্রশ্ন।

প্রকল্প পর্যালোচনায় কমিটি

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকাংশ প্রকল্পই অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, চলমান পুরোনো প্রকল্পগুলো শেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিগগির নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে।

চলমান প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্লেষণের পর অনেক প্রকল্প বাদ যাবে। বিগত দিনের প্রকল্পগুলোর ‘ক্লিনিং প্রসেস’ শেষ করে আগামী দিনে নতুন প্রকল্প আনা হবে।

তিনি জানান, দলের নির্বাচনী ইশতেহার ধারণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা যায়, সেভাবে এগোচ্ছে সরকার। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া ১ হাজার ৩০০ এর মতো উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর অনিয়ম ও যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিটি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়নি, পাঁচটি সংশোধনের অনুমোদন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • আগে নেওয়া প্রকল্প যাচাইয়ে কমিটি গঠন

বর্তমান সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম সভায় চলমান পাঁচটি প্রকল্প সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রাথিমিক কার্যসূচিতে, সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার কথা ছিলো। তবে সেটি আলোচনার জন্য তোলা হয়নি। প্রকল্পটি আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা।

সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা হয়। নতুন সরকারের প্রথম এ একনেক শেরে বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের বদলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় যে পাঁচটি (চলমান) প্রকল্প সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৪৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং একটি প্রকল্পে খরচ কমানো হয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অন্য দুই প্রকল্পের ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে একনেকের সায় দেওয়ার কথা বৈঠকের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের জন্য বাড়তি ৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে।

মোট ব্যয়ের মধ্যে ৩৯০ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা সরকারিভাবে জোগান দেওয়া হবে এবং বাকি ৯২ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ বা অনুদান থেকে আসবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের নবম এবং বর্তমান সরকারের প্রথম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত পাঁচ প্রকল্প

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত ‘জেনারেল সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-২ (জিএসআইডিপি-২)’ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,৪৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং এর কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে ‘চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি-৪)’ প্রকল্পের মোট ব্যয় কমিয়ে ৩০ দশমিক ৭১৮৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ প্রকল্পের ব্যয় ২২৮ দশমিক ৪৪৫৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৫৩৩ দশমিক ৫৪৯২ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সুবিধা আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,২১৩ দশমিক ৭০৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় ২৬ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১৩৯ দশমিক ৩০৯৩ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা

একনেক সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ১৯টির মধ্যে ৭টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণের টাকার কথা মাথায় রেখে খুব সতর্কভাবে প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, অপ্রয়োজনীয় কি না, এসব বিবেচনা করতে হচ্ছে।”

মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচ্য সূচিতে ১৯টি প্রকল্প ছিলো। প্রায় সব প্রকল্প আগের তৈরি। এগুলো পর্যালোচনা করে অনেক সমস্যা পাওয়া গেছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, সেটিও প্রশ্ন।

প্রকল্প পর্যালোচনায় কমিটি

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকাংশ প্রকল্পই অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, চলমান পুরোনো প্রকল্পগুলো শেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিগগির নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে।

চলমান প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্লেষণের পর অনেক প্রকল্প বাদ যাবে। বিগত দিনের প্রকল্পগুলোর ‘ক্লিনিং প্রসেস’ শেষ করে আগামী দিনে নতুন প্রকল্প আনা হবে।

তিনি জানান, দলের নির্বাচনী ইশতেহার ধারণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেন পূরণ করা যায়, সেভাবে এগোচ্ছে সরকার। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের আগে নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া ১ হাজার ৩০০ এর মতো উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর অনিয়ম ও যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিটি করা হয়েছে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত