জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার ৮টি বিল পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে এসব বিল পাস করা হয়। বিলগুলোতে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। বিল পাসের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বিতর্ক হয়। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিল তুলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কথায় কিছুটা হাস্যরস সৃষ্টি হয় সংসদে।
অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে
অনুমোদনের সুপারিশ করেছিলো জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা
এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
মঙ্গলবার পাস হওয়া
বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এরপর পৃথকভাবে কোড
অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল,
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট)
বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে
পাস হয়।
আইনমন্ত্রী ও
বিরোধীদলীয় নেতার বিতর্ক
এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল
ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি
এমন একটি বিল, যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যারা বলছেন, সরকার
গুম প্রতিরোধের আইন করতে চাচ্ছে না, তাদের তিনি এ আইন ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।
বিলটি পাস হওয়ার
পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী
বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন, তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট
সময় যখন আসবে, তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী
বলেন, সংসদের বাইরে অনেকে গুমের বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার
চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে তিনি পরিষ্কার করেছেন, গুমের বিচারে
সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরে আইনমন্ত্রীর
উদ্দেশ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাইরে কতজন কত কথা বলে! আপনি সংসদের আলোচনার
মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী
যেটা গৃহীত হবে, সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
পরে অন্য বিল পাসের
কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
সম্পর্কিত অন্য বিলগুলো পাসের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে ফেলেন। মূলত নাম পরিবর্তনে
আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিলো। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
অনপুস্থিতিতে তার তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো
হলো: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ, সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)।
এর মধ্যে শেষের দু’টি বিল পাস হয়।
বিল উত্থাপনের সময়
সালাহউদ্দিন কিছুটা হেসে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার
শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।’
এ সময় সংসদ সদস্যদের
অনেককে হাসতেও দেখা যায়।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়,
সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার ৮টি বিল পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে এসব বিল পাস করা হয়। বিলগুলোতে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। বিল পাসের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বিতর্ক হয়। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিল তুলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কথায় কিছুটা হাস্যরস সৃষ্টি হয় সংসদে।
অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে
অনুমোদনের সুপারিশ করেছিলো জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা
এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
মঙ্গলবার পাস হওয়া
বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এরপর পৃথকভাবে কোড
অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল,
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট)
বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে
পাস হয়।
আইনমন্ত্রী ও
বিরোধীদলীয় নেতার বিতর্ক
এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল
ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি
এমন একটি বিল, যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যারা বলছেন, সরকার
গুম প্রতিরোধের আইন করতে চাচ্ছে না, তাদের তিনি এ আইন ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।
বিলটি পাস হওয়ার
পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী
বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন, তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট
সময় যখন আসবে, তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী
বলেন, সংসদের বাইরে অনেকে গুমের বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার
চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে তিনি পরিষ্কার করেছেন, গুমের বিচারে
সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরে আইনমন্ত্রীর
উদ্দেশ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাইরে কতজন কত কথা বলে! আপনি সংসদের আলোচনার
মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী
যেটা গৃহীত হবে, সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
পরে অন্য বিল পাসের
কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
সম্পর্কিত অন্য বিলগুলো পাসের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে ফেলেন। মূলত নাম পরিবর্তনে
আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিলো। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
অনপুস্থিতিতে তার তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো
হলো: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ, সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)।
এর মধ্যে শেষের দু’টি বিল পাস হয়।
বিল উত্থাপনের সময়
সালাহউদ্দিন কিছুটা হেসে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার
শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।’
এ সময় সংসদ সদস্যদের
অনেককে হাসতেও দেখা যায়।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়,
সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আপনার মতামত লিখুন