সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

এতোদিন পালিয়ে কোথায় ছিলেন

হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে শিরীন শারমিনের চিৎকার


প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে শিরীন শারমিনের চিৎকার

জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলায় তাকে দুইদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন দুটি নাকচ করে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দৃশ্যপটে ছিলেন না শিরীন শারমিন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন।

হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে শিরীন শারমিনের চিৎকার

আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে যান শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও পড়ে যান। ৬০ বছর বয়সি শিরীন ব্যথায় চিৎকার দেওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত টেনে তুলেন পুলিশ সদস্যরাই।

যখন কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান শিরীন শারমিন, তখন কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দেন। হাত উঁচিয়ে সালামের উত্তর দেন শিরীন শারমিন। মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন,‘এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী। এ মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এতোদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ মামলার ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ইবনুল কাওসার ও এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। ইবনুল কাওসার বলেন, ‘এ মামলায় ১৩০ জন আসামি, যার মধ্যে শিরীন শারমিন ৩ নম্বর আসামি। মামলায় শুধু তার নামটাই রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলা করা হয়েছে।’

আইনজীবী কাওসার বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরী সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর কাউকে কিন্তু এমনটা করতে দেখা যায়নি। বাদীর গুলি লেগেছে। তার জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে। কিন্তু তিনি তো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তখন তিনি রানিং স্পিকার। তার যেতে হলে তো প্রোটোকল নিয়ে যেতে হবে। এ মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।’

শুনানি নিয়ে আদালত তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে আবার সিএমএম আদালতে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শিরীন শারমিনকে তাড়াহুড়ো করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে যান তিনি। এ দিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এতোদিন পালিয়ে কোথায় ছিলেন শিরীন শারমিন

বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। কিন্তু ২০ মাসে তার প্রকাশ্যে উপস্থিতি না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন? কী করছিলেন? তিনি কি নিজে থেকে আড়ালে ছিলেন? ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার অবস্থান নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। 

স্পিকারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে বের হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্বপরিবারে একটি সাধারণ প্রাইভেট কারে করে তড়িঘড়ি বের হন তিনি। এ সময় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ও সংসদ সচিবালয়ের পরিবহন পুল থেকে পাঠানো গাড়িও ব্যবহার করেননি। তবে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি কোথায় গেছেন তা বলতে পারেননি তারা।

একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেও স্পিকারের অবস্থান সম্পর্কে এতোদিন কিছুই জানা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছিলো, তিনি কি দেশে না-কি বিদেশে চলে গেছেন।

তবে ডিবির একটি সূত্র জানায়, শিরীন শারমিন এতদিন বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের ওই বাসা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে শিরীন শারমিনের চিৎকার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলায় তাকে দুইদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন দুটি নাকচ করে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দৃশ্যপটে ছিলেন না শিরীন শারমিন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন।

হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে শিরীন শারমিনের চিৎকার

আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে যান শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যও পড়ে যান। ৬০ বছর বয়সি শিরীন ব্যথায় চিৎকার দেওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত টেনে তুলেন পুলিশ সদস্যরাই।

যখন কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান শিরীন শারমিন, তখন কয়েকজন আইনজীবী তাকে সালাম দেন। হাত উঁচিয়ে সালামের উত্তর দেন শিরীন শারমিন। মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন,‘এই আসামি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের একজন উপকারভোগী। এ মামলায় তিনি এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি। এতোদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ মামলার ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া এই ঘটনার সাথে আর কারা জড়িত ও আলামত উদ্ধারের জন্য তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ইবনুল কাওসার ও এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। ইবনুল কাওসার বলেন, ‘এ মামলায় ১৩০ জন আসামি, যার মধ্যে শিরীন শারমিন ৩ নম্বর আসামি। মামলায় শুধু তার নামটাই রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনার ১০ মাস পর এ মামলা করা হয়েছে।’

আইনজীবী কাওসার বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরী সরাসরি পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর কাউকে কিন্তু এমনটা করতে দেখা যায়নি। বাদীর গুলি লেগেছে। তার জন্য আমাদের সহানুভূতি আছে। কিন্তু তিনি তো সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তখন তিনি রানিং স্পিকার। তার যেতে হলে তো প্রোটোকল নিয়ে যেতে হবে। এ মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।’

শুনানি নিয়ে আদালত তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে আবার সিএমএম আদালতে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শিরীন শারমিনকে তাড়াহুড়ো করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে যান তিনি। এ দিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এতোদিন পালিয়ে কোথায় ছিলেন শিরীন শারমিন

বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। কিন্তু ২০ মাসে তার প্রকাশ্যে উপস্থিতি না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন? কী করছিলেন? তিনি কি নিজে থেকে আড়ালে ছিলেন? ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার অবস্থান নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। 

স্পিকারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে বের হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। স্বপরিবারে একটি সাধারণ প্রাইভেট কারে করে তড়িঘড়ি বের হন তিনি। এ সময় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ও সংসদ সচিবালয়ের পরিবহন পুল থেকে পাঠানো গাড়িও ব্যবহার করেননি। তবে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি কোথায় গেছেন তা বলতে পারেননি তারা।

একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেও স্পিকারের অবস্থান সম্পর্কে এতোদিন কিছুই জানা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছিলো, তিনি কি দেশে না-কি বিদেশে চলে গেছেন।

তবে ডিবির একটি সূত্র জানায়, শিরীন শারমিন এতদিন বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের ওই বাসা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত