বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কেন্দ্রীয়
ব্যাংকে প্রিন্সটন
বা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী
অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে
নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর (বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর) নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সোয়েটার ফ্যাক্টরির
এমডি। একই ধরণের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও
দেখা গেছে। এসব জায়গায় দলীয় ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দল করাটা দোষের না হলেও দল না করলে যদি নিয়োগ দেওয়া না হয়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক।”
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হন। নির্বাচনে
দলের মনোনয়ন না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, এ কারণে তিনি দেশের লক্ষ মানুষের ভালোবাসা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য বারবার আলোচনা হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগে-পরে সব সময় বলা হয়েছে যে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা। বিএনপি তার ভিশন-২০৩০ ও ৩১ দফায় এ সম্পর্কিত প্রস্তাব রেখেছে। এ সব কারণে এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে ভাষণ দিতে পারবেন, এমন প্রত্যাশ্যা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু দেখা গেল এবারও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণ দিতে হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে। এতটুকু স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া যায়নি, তাহলে কোন ভারসাম্যের
কথা আমরা বলছি।”
তিনি বলেন, “হাজার মানুষের আত্মত্যাগ
হচ্ছে এই সংসদ। এই মানুষগুলো কারা যাদের আত্মত্যাগে
আজ আমরা কেউ এমপি, কেউ মন্ত্রী, কেউ বিরোধী দল হয়ে সংসদে এসেছি। তাদের স্বপ্ন কী ছিলো? তারা জানতো তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে তারা কেউ এমপি-মন্ত্রী হবেন না। তারা ছিলেন দেশের খেটে খাওয়া একেবারেই সাধারণ জনগণ। তারা নতুন বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “এখনও দেয়ালে দেয়ালে তাকালে দেখা যাবে তারা তাদের স্বপ্নের কথা লিখে গেছেন। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ কিংবা ‘দেশটা কারো বাপের না’।”
তিনি আরো বলেন, “এই লড়াইটা কেবল একটা সরকার পরিবর্তনের
লড়াই ছিল না। সকলকে নিয়ে সবার বাংলাদেশ গঠন করার স্বপ্ন নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো।”
স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমান টাকা পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে এর পরিমাণ ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তা ফেরত আনা না গেলে কিংবা ব্যাংক খাতে থাকা ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা না গেলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না। মিথ্যা ইনভয়েসিং বন্ধ করা না গেলে টাকা পাচার বন্ধ হবে না।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ
ও বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। আশা করবো আগামীতে সালমানের জায়গায় সাইফুর এসে বসবে না।”

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কেন্দ্রীয়
ব্যাংকে প্রিন্সটন
বা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী
অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে
নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর (বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর) নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সোয়েটার ফ্যাক্টরির
এমডি। একই ধরণের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও
দেখা গেছে। এসব জায়গায় দলীয় ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দল করাটা দোষের না হলেও দল না করলে যদি নিয়োগ দেওয়া না হয়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক।”
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হন। নির্বাচনে
দলের মনোনয়ন না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, এ কারণে তিনি দেশের লক্ষ মানুষের ভালোবাসা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য বারবার আলোচনা হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে চব্বিশের অভ্যুত্থানের আগে-পরে সব সময় বলা হয়েছে যে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা। বিএনপি তার ভিশন-২০৩০ ও ৩১ দফায় এ সম্পর্কিত প্রস্তাব রেখেছে। এ সব কারণে এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণের বাইরে গিয়ে নিজের মতো করে ভাষণ দিতে পারবেন, এমন প্রত্যাশ্যা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু দেখা গেল এবারও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণ দিতে হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে। এতটুকু স্বাধীনতা রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া যায়নি, তাহলে কোন ভারসাম্যের
কথা আমরা বলছি।”
তিনি বলেন, “হাজার মানুষের আত্মত্যাগ
হচ্ছে এই সংসদ। এই মানুষগুলো কারা যাদের আত্মত্যাগে
আজ আমরা কেউ এমপি, কেউ মন্ত্রী, কেউ বিরোধী দল হয়ে সংসদে এসেছি। তাদের স্বপ্ন কী ছিলো? তারা জানতো তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে তারা কেউ এমপি-মন্ত্রী হবেন না। তারা ছিলেন দেশের খেটে খাওয়া একেবারেই সাধারণ জনগণ। তারা নতুন বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “এখনও দেয়ালে দেয়ালে তাকালে দেখা যাবে তারা তাদের স্বপ্নের কথা লিখে গেছেন। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ কিংবা ‘দেশটা কারো বাপের না’।”
তিনি আরো বলেন, “এই লড়াইটা কেবল একটা সরকার পরিবর্তনের
লড়াই ছিল না। সকলকে নিয়ে সবার বাংলাদেশ গঠন করার স্বপ্ন নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো।”
স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশ থেকে যে বিপুল পরিমান টাকা পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে এর পরিমাণ ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। তা ফেরত আনা না গেলে কিংবা ব্যাংক খাতে থাকা ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা না গেলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না। মিথ্যা ইনভয়েসিং বন্ধ করা না গেলে টাকা পাচার বন্ধ হবে না।”
রুমিন ফারহানা বলেন, “রাষ্ট্রপতির ভাষণে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ
ও বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। আশা করবো আগামীতে সালমানের জায়গায় সাইফুর এসে বসবে না।”

আপনার মতামত লিখুন