সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

হত্যা মামলায় ফের রিমান্ডে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুন খালেদ


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম

হত্যা মামলায় ফের রিমান্ডে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুন খালেদ

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা আলোচিতরাজনৈতিক হত্যামামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে ফের দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন জোনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে একই মামলায় তাকে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিলো।

শুনানির শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন আদালতে আসামিকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, "অভিযোগের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দায়িত্বকালেই গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।"

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহীন মোর্শেদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। তিনি আদালতকে বলেন, "আসামি ইতিমধ্যে তিন দফায় ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, বরং সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।"

শুনানি চলাকালে শেখ মামুন খালেদ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি ২০২০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছি। ১৯ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে আমি মূলত একাডেমিক কার্যক্রমেই বেশি যুক্ত ছিলাম। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ আমি একাধিক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছি। এই হামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।"

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। ওই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট গুলিবর্ষণের ঘটনায় মকবুল নামে এক কর্মী নিহত হন। এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬


হত্যা মামলায় ফের রিমান্ডে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুন খালেদ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা আলোচিতরাজনৈতিক হত্যামামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে ফের দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন জোনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে একই মামলায় তাকে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিলো।

শুনানির শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন আদালতে আসামিকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, "অভিযোগের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দায়িত্বকালেই গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।"

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহীন মোর্শেদ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। তিনি আদালতকে বলেন, "আসামি ইতিমধ্যে তিন দফায় ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, বরং সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।"

শুনানি চলাকালে শেখ মামুন খালেদ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি ২০২০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছি। ১৯ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে আমি মূলত একাডেমিক কার্যক্রমেই বেশি যুক্ত ছিলাম। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ আমি একাধিক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছি। এই হামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।"

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন আশপাশের এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। ওই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট গুলিবর্ষণের ঘটনায় মকবুল নামে এক কর্মী নিহত হন। এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত