জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধন করার সময় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, ১৯৭১ সালের চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী।’ গণতন্ত্র হত্যা করে ৭ মিনিটেই বাকশাল হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর আলোচনাকালে শফিকুর রহমান এই দাবি জানান।
বিলের সংজ্ঞায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এই দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
ওই সংজ্ঞা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানান শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের নাম স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি, এই তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম সংজ্ঞায় আনা হয়েছে। আমরা চাই প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে চলুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না। ’সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত বিবেচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে তিনি জানান।
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাকশালের ইতিহাস তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৩ সালের সংসদ মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম দিয়েছিল। এরপর পঁচাত্তরের পট-পরিবর্তনের পর মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে। তিনি জনগণের মনের ভাষা পড়তে পেরেছিলেন, এজন্য দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৪৭ সালে একবার এবং ২৩ বছর পর একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যারা দেশ ও জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, এ বিলের বিষয়ে বিরোধী দল কোনো আপত্তি জানায়নি এবং তারা লিখিতভাবে সংসদকে তাদের মতামত জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধন করার সময় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন, ১৯৭১ সালের চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহ তাআলা তার নিখুঁত পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী।’ গণতন্ত্র হত্যা করে ৭ মিনিটেই বাকশাল হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। বিলটির ওপর আলোচনাকালে শফিকুর রহমান এই দাবি জানান।
বিলের সংজ্ঞায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এই দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন।
ওই সংজ্ঞা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানান শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের নাম স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেন নাই। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আনেন নাই। তিনবারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) তিনিও আনেন নাই। এ জিনিসটা সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি, এই তিনটি রাজনৈতিক দলের নাম সংজ্ঞায় আনা হয়েছে। আমরা চাই প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে চলুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না। ’সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত বিবেচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে তিনি জানান।
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাকশালের ইতিহাস তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭৩ সালের সংসদ মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম দিয়েছিল। এরপর পঁচাত্তরের পট-পরিবর্তনের পর মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে। তিনি জনগণের মনের ভাষা পড়তে পেরেছিলেন, এজন্য দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১৯৪৭ সালে একবার এবং ২৩ বছর পর একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যারা দেশ ও জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, এ বিলের বিষয়ে বিরোধী দল কোনো আপত্তি জানায়নি এবং তারা লিখিতভাবে সংসদকে তাদের মতামত জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন