ভারতের দুটি রাজ্য আসাম ও কেরলের পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত পদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শেষ হয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ ভোটার অধ্যুষিত তিন রাজ্য ও অঞ্চলে ভোট গ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের জন্য অপেক্ষা।আগামী ৫ বছর কারা থাকবেন শাসনক্ষমতায় তা নির্ধারণ করতেই এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়। শেষ পর্যন্ত তিন রাজ্যেই দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি। দুপুর পর্যন্ত যে উচ্চ টার্নআউটের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই বজায় থেকেছে। বিশেষ করে আসাম ও পুদুচেরিতে ভোটের হার বেশ জোরালো। কেরলেও শেষবেলায় গতি বেড়েছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক কেন্দ্রে নারীরা পুরুষদের টেক্কা দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের উপস্থিতিও নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিন রাজ্যেই ভোটগ্রহণ মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি আর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বড় কোনো সহিংসতা, সংঘর্ষ বা অশান্তির খবর সামনে আসেনি। কিছু জায়গায় ইভিএম সংক্রান্ত সামান্য সমস্যা, দীর্ঘ লাইন বা প্রশাসনিক ধীরগতির অভিযোগ উঠলেও তা ছিল বিচ্ছিন্ন, স্থানীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ।
কোথাও বড় আকারে ভোট কারচুপি, ভুয়া ভোটার বা গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসেনি। একইভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের ঘটনাও আসেনি।সামগ্রিকভাবে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বলেই মনে করা হচ্ছে।
আসাম : মোট ১২৬টি আসনে লড়াই হয়েছে। এখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি)প্রধান শক্তি হিসেবে লড়াই করেছে।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে ভোটে নেমেছে।
সাংগঠনিকভাবে বিজেপি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও কংগ্রেস বিরোধী ভোট একত্রিত করার চেষ্টা করেছে। উচ্চ ভোটের হার গ্রামীণ ও নারী ভোট কোনদিকে গেছে, সেটাই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
কেরল: মোট ১৪০টি আসনে মূল লড়াই হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ও যুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) মধ্যে, যেখানে এলডিএফের নেতৃত্বে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই-এম) আর ইউডিএফের নেতৃত্বে আইএনসি। পাশাপাশি জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ), যার নেতৃত্বে রয়েছে বিজেপি, তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কেরলে ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষমতার পালাবদল হয়। তাই উচ্চ ভোটার উপস্থিতি অনেক সময় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়—যা ইউডিএফের পক্ষে যেতে পারে। তবে এলডিএফের শক্তিশালী সংগঠনও বড় ফ্যাক্টর।
সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ
সামগ্রিকভাবে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ- দুই মিলিয়ে নির্বাচনের ছবি ইতিবাচক। নারী ও তরুণ ভোটাররা গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারেন। আসামে বিজেপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেস লড়াইয়ে রয়েছে। কেরলে এলডিএফ বনাম ইউডিএফের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই প্রত্যাশিত। আর পুদুচেরিতে জোটের সমীকরণই নির্ধারণ করবে ফলাফল।
ভোটগ্রহণ শেষে তাই নজর এখন ৪ মে ফল ঘোষণার দিকে।এর আগে এক্সিট পোল, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জোট সমীকরণ নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে, তিন রাজ্যের এই নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে- এবার দেখার, এই জনমত শেষ পর্যন্ত কাকে ক্ষমতায় বসায়।

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের দুটি রাজ্য আসাম ও কেরলের পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত পদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শেষ হয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ ভোটার অধ্যুষিত তিন রাজ্য ও অঞ্চলে ভোট গ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের জন্য অপেক্ষা।আগামী ৫ বছর কারা থাকবেন শাসনক্ষমতায় তা নির্ধারণ করতেই এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়। শেষ পর্যন্ত তিন রাজ্যেই দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য ভোটার উপস্থিতি। দুপুর পর্যন্ত যে উচ্চ টার্নআউটের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই বজায় থেকেছে। বিশেষ করে আসাম ও পুদুচেরিতে ভোটের হার বেশ জোরালো। কেরলেও শেষবেলায় গতি বেড়েছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক কেন্দ্রে নারীরা পুরুষদের টেক্কা দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের উপস্থিতিও নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিন রাজ্যেই ভোটগ্রহণ মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি আর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বড় কোনো সহিংসতা, সংঘর্ষ বা অশান্তির খবর সামনে আসেনি। কিছু জায়গায় ইভিএম সংক্রান্ত সামান্য সমস্যা, দীর্ঘ লাইন বা প্রশাসনিক ধীরগতির অভিযোগ উঠলেও তা ছিল বিচ্ছিন্ন, স্থানীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ।
কোথাও বড় আকারে ভোট কারচুপি, ভুয়া ভোটার বা গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসেনি। একইভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের ঘটনাও আসেনি।সামগ্রিকভাবে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বলেই মনে করা হচ্ছে।
আসাম : মোট ১২৬টি আসনে লড়াই হয়েছে। এখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি)প্রধান শক্তি হিসেবে লড়াই করেছে।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে ভোটে নেমেছে।
সাংগঠনিকভাবে বিজেপি শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও কংগ্রেস বিরোধী ভোট একত্রিত করার চেষ্টা করেছে। উচ্চ ভোটের হার গ্রামীণ ও নারী ভোট কোনদিকে গেছে, সেটাই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
কেরল: মোট ১৪০টি আসনে মূল লড়াই হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ও যুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ) মধ্যে, যেখানে এলডিএফের নেতৃত্বে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই-এম) আর ইউডিএফের নেতৃত্বে আইএনসি। পাশাপাশি জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ), যার নেতৃত্বে রয়েছে বিজেপি, তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। কেরলে ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষমতার পালাবদল হয়। তাই উচ্চ ভোটার উপস্থিতি অনেক সময় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়—যা ইউডিএফের পক্ষে যেতে পারে। তবে এলডিএফের শক্তিশালী সংগঠনও বড় ফ্যাক্টর।
সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ
সামগ্রিকভাবে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ- দুই মিলিয়ে নির্বাচনের ছবি ইতিবাচক। নারী ও তরুণ ভোটাররা গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারেন। আসামে বিজেপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেস লড়াইয়ে রয়েছে। কেরলে এলডিএফ বনাম ইউডিএফের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই প্রত্যাশিত। আর পুদুচেরিতে জোটের সমীকরণই নির্ধারণ করবে ফলাফল।
ভোটগ্রহণ শেষে তাই নজর এখন ৪ মে ফল ঘোষণার দিকে।এর আগে এক্সিট পোল, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জোট সমীকরণ নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে, তিন রাজ্যের এই নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে- এবার দেখার, এই জনমত শেষ পর্যন্ত কাকে ক্ষমতায় বসায়।

আপনার মতামত লিখুন