রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং যানজট নিরসনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এবং গুলিস্তানের জিপিও লিংক রোড এলাকায় পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সায়েদাবাদ
বাস টার্মিনাল এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের
মতো পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১০০টি অবৈধ বাস কাউন্টার
সিলগালা করা হয়। একইসঙ্গে
গুঁড়িয়ে দেয়া হয় ফুটপাত
দখল করে গড়ে ওঠা
দীর্ঘদিনের অবৈধ স্থাপনাগুলোও। অন্য
এক অভিযানে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের দক্ষিণ পাশে জিপিও লিংক
রোডের উভয় পাশের রাস্তা
ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন
ধরে ফুটপাত দখল করে থাকা
অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনাগুলো
উচ্ছেদ করার ফলে পথচারীদের
চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত
হয়েছে।
এদিকে
নগরীর সড়ক ও ফুটপাত
দখলমুক্ত রাখতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে একটি
জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসসিসির আওতাধীন সব শপিংমল ও
মার্কেটের সামনের ফুটপাতে কোনও ধরনের মালামাল
রাখতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
এছাড়া
দখলদারদের নিজ উদ্যোগে অবিলম্বে
সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা
অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দোকান
বা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিলসহ প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে
ডিএসসিসির এ উচ্ছেদ ও
তদারকি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
হয়।
গত রোববার রাতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে
ঢাকা মহানগরীর ভেতরে তিনটি বাস টার্মিনাল ছাড়া
অন্য স্থানে থাকা আন্তঃজেলা নাইট
কোচ কাউন্টার সাত দিনের মধ্যে
সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ
(ডিএমপি)। এতে বলা
হয়, গণবিজ্ঞপ্তি জারির সাত দিনের মধ্যে
ঢাকা মহানগরের ভেতরে অবস্থিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা
(গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ) ছাড়া
অন্য কোনো স্থানে কার্যক্রম
পরিচালনা করা যাবে না।
এজন্য
যেসব স্থানে আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার
রয়েছে সেগুলো স্ব-উদ্যোগে অপসারণ
বা উচ্ছেদ করতে হবে। তা
না হলে সড়ক পরিবহন
আইনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি উচ্ছেদ অভিযান
শুরু করার আগে বুধবার
দুপুর ১২টার দিকে সায়েদাবাদ বাস
টার্মিনালের আশপাশের এলাকায় মাইকিং করে প্রথমে কাউন্টারগুলো
বন্ধ করার জন্য ৩০
মিনিট সময় দেয়।
যদিও
এদিন সকাল ৯টায় জনপদ
মোড়, গোপীবাগসহ সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের আশপাশের
এলাকায় অনুমোদনবিহীন বাস কাউন্টার উচ্ছেদে
অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল ডিএসসিসি।
তবে
নগর সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাস মালিকদের
প্রতিনিধিরা, সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্টেটও উপস্থিত ছিলেন। যে কারণে নির্ধারিত
সময়ের চেয়ে তিন ঘণ্টার
পরে মাইকিং করে কাউন্টার সরানোর
ঘোষণা আসে।
এসময়
কাউন্টারগুলো বন্ধ করে সরে
পড়েন অনেক কাউন্টার ম্যানেজার।
সাটার ফেলে দিয়ে তারা
চলে গেলে সিটি করপোরেশন
উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে সায়েদাবাদের
অদূরে টিটিপাড়া মোড় থেকে। তারপর
ধোলাইপাড়, গোপীবাগ ও জনপদ পর্যন্ত
থাকা একই বাসের একাধিক
কাউন্টার, অনুমোদন না নিয়ে চালু
করা কাউন্টার ও অবৈধ বাস
কাউন্টার উচ্ছেদ শুরু হয়।
দক্ষিণ
সিটি করপোরেশন বলেছে, গত ১০ মার্চ
ডিএসসিসির উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ,
সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি,
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন
মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক
কমিটির সঙ্গে এক সমন্বয় সভা
অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী এদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম
শুরু হল। সায়েদাবাদের পাশাপাশি
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত
ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
কার্যক্রমও পরিচালনা করছে দক্ষিণ সিটি
করপোরেশন। যানজটমুক্ত ও চলাচলে শৃঙ্খলা
আনতে এই কার্যক্রম চালিয়ে
যাবে বলে নগর সংস্থাটির
পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং যানজট নিরসনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল এবং গুলিস্তানের জিপিও লিংক রোড এলাকায় পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সায়েদাবাদ
বাস টার্মিনাল এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের
মতো পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১০০টি অবৈধ বাস কাউন্টার
সিলগালা করা হয়। একইসঙ্গে
গুঁড়িয়ে দেয়া হয় ফুটপাত
দখল করে গড়ে ওঠা
দীর্ঘদিনের অবৈধ স্থাপনাগুলোও। অন্য
এক অভিযানে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের দক্ষিণ পাশে জিপিও লিংক
রোডের উভয় পাশের রাস্তা
ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন
ধরে ফুটপাত দখল করে থাকা
অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ স্থাপনাগুলো
উচ্ছেদ করার ফলে পথচারীদের
চলাচলের পথ পুনরায় উন্মুক্ত
হয়েছে।
এদিকে
নগরীর সড়ক ও ফুটপাত
দখলমুক্ত রাখতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে একটি
জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ডিএসসিসির আওতাধীন সব শপিংমল ও
মার্কেটের সামনের ফুটপাতে কোনও ধরনের মালামাল
রাখতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
এছাড়া
দখলদারদের নিজ উদ্যোগে অবিলম্বে
সব মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা
অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দোকান
বা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিলসহ প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে
ডিএসসিসির এ উচ্ছেদ ও
তদারকি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
হয়।
গত রোববার রাতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে
ঢাকা মহানগরীর ভেতরে তিনটি বাস টার্মিনাল ছাড়া
অন্য স্থানে থাকা আন্তঃজেলা নাইট
কোচ কাউন্টার সাত দিনের মধ্যে
সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ
(ডিএমপি)। এতে বলা
হয়, গণবিজ্ঞপ্তি জারির সাত দিনের মধ্যে
ঢাকা মহানগরের ভেতরে অবস্থিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকা
(গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ) ছাড়া
অন্য কোনো স্থানে কার্যক্রম
পরিচালনা করা যাবে না।
এজন্য
যেসব স্থানে আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার
রয়েছে সেগুলো স্ব-উদ্যোগে অপসারণ
বা উচ্ছেদ করতে হবে। তা
না হলে সড়ক পরিবহন
আইনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি উচ্ছেদ অভিযান
শুরু করার আগে বুধবার
দুপুর ১২টার দিকে সায়েদাবাদ বাস
টার্মিনালের আশপাশের এলাকায় মাইকিং করে প্রথমে কাউন্টারগুলো
বন্ধ করার জন্য ৩০
মিনিট সময় দেয়।
যদিও
এদিন সকাল ৯টায় জনপদ
মোড়, গোপীবাগসহ সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের আশপাশের
এলাকায় অনুমোদনবিহীন বাস কাউন্টার উচ্ছেদে
অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল ডিএসসিসি।
তবে
নগর সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বাস মালিকদের
প্রতিনিধিরা, সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্টেটও উপস্থিত ছিলেন। যে কারণে নির্ধারিত
সময়ের চেয়ে তিন ঘণ্টার
পরে মাইকিং করে কাউন্টার সরানোর
ঘোষণা আসে।
এসময়
কাউন্টারগুলো বন্ধ করে সরে
পড়েন অনেক কাউন্টার ম্যানেজার।
সাটার ফেলে দিয়ে তারা
চলে গেলে সিটি করপোরেশন
উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে সায়েদাবাদের
অদূরে টিটিপাড়া মোড় থেকে। তারপর
ধোলাইপাড়, গোপীবাগ ও জনপদ পর্যন্ত
থাকা একই বাসের একাধিক
কাউন্টার, অনুমোদন না নিয়ে চালু
করা কাউন্টার ও অবৈধ বাস
কাউন্টার উচ্ছেদ শুরু হয়।
দক্ষিণ
সিটি করপোরেশন বলেছে, গত ১০ মার্চ
ডিএসসিসির উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ,
সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি,
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন
মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক
কমিটির সঙ্গে এক সমন্বয় সভা
অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত
অনুযায়ী এদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম
শুরু হল। সায়েদাবাদের পাশাপাশি
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত
ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
কার্যক্রমও পরিচালনা করছে দক্ষিণ সিটি
করপোরেশন। যানজটমুক্ত ও চলাচলে শৃঙ্খলা
আনতে এই কার্যক্রম চালিয়ে
যাবে বলে নগর সংস্থাটির
পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন