সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

গণমাধ্যম সংস্কারে দ্রুত হাত দিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৩ এএম

গণমাধ্যম সংস্কারে দ্রুত হাত দিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

  • সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নীতিমালায় আসছে আমূল পরিবর্তন

দেশের গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসন কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার অবিলম্বে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনেবাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার: গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতাশীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন।

ইআরএফ এবং সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক . দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তাত্ত্বিক আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে সকল অংশীজনকে নিয়ে এখন বাস্তব কাজ শুরু করা অপরিহার্য।

তিনি নতুন সরকারের অধীনে সংস্কারের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেন। মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনকে ব্রিটিশ মডেলের আদলে পুনর্গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের সুরক্ষা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অবসর সুবিধা, বয়সসীমা পেনশন কাঠামো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পত্রিকার প্রচারসংখ্যায় স্বচ্ছতা আনা এবং একটি সুস্পষ্ট বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে সম্পাদক পরিষদ, টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এবং ডিজিটাল যোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই, যাতে আমাদের প্রতিশ্রুতি দৃশ্যমান বাস্তবে রূপ পায়।প্রযুক্তির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক আখ্যানের প্রতিযোগিতার ফলে গণমাধ্যমের ভূমিকা নতুনভাবে নির্ধারিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। এখন থেকে সাংবাদিকদের সমালোচনা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে সুশাসনের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে . দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘রিফর্ম ট্র্যাকারনির্বাচনী অঙ্গীকার পর্যবেক্ষণউদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা প্রায়ই অবমূল্যায়ন আর্থিক সংকটে থাকেন। এই অংশীদারিত্ব তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে সংস্কার কার্যক্রমকে পদ্ধতিগতভাবে এগিয়ে নিতে ইআরএফ সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬


গণমাধ্যম সংস্কারে দ্রুত হাত দিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নীতিমালায় আসছে আমূল পরিবর্তন

দেশের গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসন কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার অবিলম্বে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনেবাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার: গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতাশীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন।

ইআরএফ এবং সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি, বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক . দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তাত্ত্বিক আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে সকল অংশীজনকে নিয়ে এখন বাস্তব কাজ শুরু করা অপরিহার্য।

তিনি নতুন সরকারের অধীনে সংস্কারের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করেন। মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনকে ব্রিটিশ মডেলের আদলে পুনর্গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের সুরক্ষা, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

নির্যাতিত সাংবাদিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অবসর সুবিধা, বয়সসীমা পেনশন কাঠামো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পত্রিকার প্রচারসংখ্যায় স্বচ্ছতা আনা এবং একটি সুস্পষ্ট বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে ইতোমধ্যে সম্পাদক পরিষদ, টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এবং ডিজিটাল যোগাযোগ খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই, যাতে আমাদের প্রতিশ্রুতি দৃশ্যমান বাস্তবে রূপ পায়।প্রযুক্তির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশ্বিক আখ্যানের প্রতিযোগিতার ফলে গণমাধ্যমের ভূমিকা নতুনভাবে নির্ধারিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। এখন থেকে সাংবাদিকদের সমালোচনা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে সুশাসনের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে . দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘রিফর্ম ট্র্যাকারনির্বাচনী অঙ্গীকার পর্যবেক্ষণউদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরা প্রায়ই অবমূল্যায়ন আর্থিক সংকটে থাকেন। এই অংশীদারিত্ব তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে সংস্কার কার্যক্রমকে পদ্ধতিগতভাবে এগিয়ে নিতে ইআরএফ সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত