সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

যুদ্ধবিরতির মাঝেও মিলল না ইরানের অনুমতি

হরমুজের দোলাচলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’


প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

হরমুজের দোলাচলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় গত ৪০ দিন ধরে আটকা পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নিয়ে উদ্বেগ কাটছেই না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি নিলেও শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ফলে ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া জাহাজটির যাত্রা ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জটিলতায় জাহাজটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিলো। কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত। নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কার্যত আটকা পড়ে বিএসসির এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি। পরবর্তী সময়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিতে জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কেপটাউনের জন্য সার বোঝাই করা হয়।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে এক বুক আশা নিয়ে জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করেছিলো, কিন্তু শুক্রবার হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছে ট্রান্সজিট ক্লিয়ারেন্স চাইলে ইরান সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
​পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক সরাসরি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর হরমুজ পার হতে রাস আল খায়ের থেকে বুধবার রওনা হয়েছিলো বাংলার জয়যাত্রা। তবে শুক্রবার জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার ট্রান্সজিট ক্লিয়ারেন্স চাইলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ থেকে সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জাহাজটিকে নিরাপদে রাখার স্বার্থে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আপাতত শারজাহ বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
​বর্তমানে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে জাহাজটির চলাচলের অনুমতি পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ।
কমোডর মাহমুদুল মালেক এই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অনুমতি পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং জাহাজটি এখনো হরমুজ প্রণালির কাছেই অবস্থান করছে। যুদ্ধাবস্থা কাটিয়ে শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে দ্রুত গন্তব্যে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রীয় সংস্থার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬


হরমুজের দোলাচলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় গত ৪০ দিন ধরে আটকা পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নিয়ে উদ্বেগ কাটছেই না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি নিলেও শুক্রবার (১০ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ফলে ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া জাহাজটির যাত্রা ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জটিলতায় জাহাজটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন বন্দরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিলো। কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাত। নিরাপত্তার স্বার্থে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কার্যত আটকা পড়ে বিএসসির এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি। পরবর্তী সময়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিতে জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কেপটাউনের জন্য সার বোঝাই করা হয়।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে এক বুক আশা নিয়ে জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করেছিলো, কিন্তু শুক্রবার হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছে ট্রান্সজিট ক্লিয়ারেন্স চাইলে ইরান সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
​পরিস্থিতি সম্পর্কে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক সরাসরি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর হরমুজ পার হতে রাস আল খায়ের থেকে বুধবার রওনা হয়েছিলো বাংলার জয়যাত্রা। তবে শুক্রবার জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার ট্রান্সজিট ক্লিয়ারেন্স চাইলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ থেকে সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে জাহাজটিকে নিরাপদে রাখার স্বার্থে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আপাতত শারজাহ বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
​বর্তমানে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে জাহাজটির চলাচলের অনুমতি পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ।
কমোডর মাহমুদুল মালেক এই বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অনুমতি পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং জাহাজটি এখনো হরমুজ প্রণালির কাছেই অবস্থান করছে। যুদ্ধাবস্থা কাটিয়ে শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে দ্রুত গন্তব্যে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রীয় সংস্থার জন্য।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত