কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের চার বছর পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দীর্ঘদিনের সারথি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া অবসরে যাওয়ায় লিওনেল মেসির পাশে এখন সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আলভারেজের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, আগামী বিশ্বকাপে মেসির প্রধান সেনাপতি কি তবে এই ‘স্পাইডার’ খ্যাত তরুণই?
রিভার প্লেটের একাডেমি থেকে উঠে আসা আলভারেজ বর্তমানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপ কাঁপিয়েছেন। বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের রাতে তার করা দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলটি ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আলভারেজ এখন আর কেবল একজন ফিনিশার নন, বরং সেট-পিসেও তিনি অনন্য।
ম্যাচ শেষে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে আলভারেজ বলেন, “বল মারার সময়ই বুঝেছিলাম শটটা ভালো হয়েছে। নেওয়ার আগেই আমার মনে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস কাজ করছিল। মজার ব্যাপার হলো, আগের দিন অনুশীলনে পাঁচ-ছয়টা শট নিয়েও গোল পাইনি, কিন্তু আজ ঠিকই পেরেছি।”
আলভারেজের এই বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি প্রিয় শিষ্য সম্পর্কে বলেন, “হুলিয়ান এমন একজন ফুটবলার যে যেকোনো কোচ বা যেকোনো ট্যাকটিকসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সে যেমন গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিতে দুর্দান্ত ছিল, এখন দিয়েগো সিমিওনের অধীনে অ্যাটলেটিকোতেও সমান উজ্জ্বল।
বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদ, বিশ্বের যেকোনো বড় দলই তাকে পেতে চাইবে।” কোচের আস্থার প্রতিদান আলভারেজ মাঠে দেন কঠোর পরিশ্রম দিয়ে। স্কালোনি আরও যোগ করেন, “কোচ যা চায়, সে ঠিক তাই করে। অনেক সময় পজিশন নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও সে হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে এবং সেটা নিখুঁতভাবেই শেষ করে।”
২০২২ বিশ্বকাপে লওতারো মার্টিনেজের বিকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরিস্থিতির প্রয়োজনে আলভারেজ হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোল কিংবা সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ চূর্ণ করে জোড়া গোল, আলভারেজ প্রমাণ করেছেন বড় মঞ্চের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা তার সহজাত।
মেসির সাথে তার রসায়ন এখন আর কেবল গোল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; মাঠের প্রেসিং, প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই নসাৎ করে দেওয়া এবং ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তায় তিনি এখন অপরিহার্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আলভারেজের এই নিরন্তর উন্নতি আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
কাতার বিশ্বকাপের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের চার বছর পেরিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দীর্ঘদিনের সারথি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া অবসরে যাওয়ায় লিওনেল মেসির পাশে এখন সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আলভারেজের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, আগামী বিশ্বকাপে মেসির প্রধান সেনাপতি কি তবে এই ‘স্পাইডার’ খ্যাত তরুণই?
রিভার প্লেটের একাডেমি থেকে উঠে আসা আলভারেজ বর্তমানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপ কাঁপিয়েছেন। বার্সেলোনার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের রাতে তার করা দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলটি ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আলভারেজ এখন আর কেবল একজন ফিনিশার নন, বরং সেট-পিসেও তিনি অনন্য।
ম্যাচ শেষে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়ে আলভারেজ বলেন, “বল মারার সময়ই বুঝেছিলাম শটটা ভালো হয়েছে। নেওয়ার আগেই আমার মনে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস কাজ করছিল। মজার ব্যাপার হলো, আগের দিন অনুশীলনে পাঁচ-ছয়টা শট নিয়েও গোল পাইনি, কিন্তু আজ ঠিকই পেরেছি।”
আলভারেজের এই বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি প্রিয় শিষ্য সম্পর্কে বলেন, “হুলিয়ান এমন একজন ফুটবলার যে যেকোনো কোচ বা যেকোনো ট্যাকটিকসে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। সে যেমন গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিতে দুর্দান্ত ছিল, এখন দিয়েগো সিমিওনের অধীনে অ্যাটলেটিকোতেও সমান উজ্জ্বল।
বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদ, বিশ্বের যেকোনো বড় দলই তাকে পেতে চাইবে।” কোচের আস্থার প্রতিদান আলভারেজ মাঠে দেন কঠোর পরিশ্রম দিয়ে। স্কালোনি আরও যোগ করেন, “কোচ যা চায়, সে ঠিক তাই করে। অনেক সময় পজিশন নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও সে হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে এবং সেটা নিখুঁতভাবেই শেষ করে।”
২০২২ বিশ্বকাপে লওতারো মার্টিনেজের বিকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরিস্থিতির প্রয়োজনে আলভারেজ হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গোল কিংবা সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ চূর্ণ করে জোড়া গোল, আলভারেজ প্রমাণ করেছেন বড় মঞ্চের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা তার সহজাত।
মেসির সাথে তার রসায়ন এখন আর কেবল গোল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; মাঠের প্রেসিং, প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই নসাৎ করে দেওয়া এবং ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তায় তিনি এখন অপরিহার্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আলভারেজের এই নিরন্তর উন্নতি আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন