সুদূর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ব্যস্ততম হামরা এলাকায় গত বুধবার (৮ এপ্রিল) যখন ইসরায়েলি বিমান থেকে বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ শুরু হয়, তখন কেউ ভাবেনি সেই আগুনের লেলিহান শিখা ফরিদপুরের এক সাধারণ পরিবারের স্বপ্নকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।
নিজ পরিবারের সাথে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশি প্রবাসী নারী দিপালীর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের সেই ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশের এই সন্তান।
ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ এলাকার শেখ মোফাজ্জল ও রোজিনা খাতুন দম্পতির কন্যা দিপালী জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে।
দূতাবাসের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দিপালী যখন তার কফিলের (নিয়োগকর্তা) বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, তখনই ইসরায়েলি বিমান হামলার আঘাতে তছনছ হয়ে যায় পুরো ভবনটি। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে দূতাবাস জানিয়েছে, ওই পৈশাচিক হামলায় দিপালীর কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যও ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই তথ্যগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
দিপালীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, তারা মরহুমার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সাথে তারা নিশ্চিত করেছে, দিপালীর মরদেহ বর্তমানে বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং দূতাবাস নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে দূতাবাস আরও জানিয়েছে, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বৈরুতের আকাশে বারুদের গন্ধ আর শোকের ছায়া আজ প্রবাসীদের মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যেখানে দিপালীর মতো একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
সুদূর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের ব্যস্ততম হামরা এলাকায় গত বুধবার (৮ এপ্রিল) যখন ইসরায়েলি বিমান থেকে বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ শুরু হয়, তখন কেউ ভাবেনি সেই আগুনের লেলিহান শিখা ফরিদপুরের এক সাধারণ পরিবারের স্বপ্নকে পুড়িয়ে ছাই করে দেবে।
নিজ পরিবারের সাথে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশি প্রবাসী নারী দিপালীর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের সেই ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশের এই সন্তান।
ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ এলাকার শেখ মোফাজ্জল ও রোজিনা খাতুন দম্পতির কন্যা দিপালী জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে।
দূতাবাসের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দিপালী যখন তার কফিলের (নিয়োগকর্তা) বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, তখনই ইসরায়েলি বিমান হামলার আঘাতে তছনছ হয়ে যায় পুরো ভবনটি। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে দূতাবাস জানিয়েছে, ওই পৈশাচিক হামলায় দিপালীর কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যও ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই তথ্যগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।
দিপালীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, তারা মরহুমার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সাথে তারা নিশ্চিত করেছে, দিপালীর মরদেহ বর্তমানে বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং দূতাবাস নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে দূতাবাস আরও জানিয়েছে, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বৈরুতের আকাশে বারুদের গন্ধ আর শোকের ছায়া আজ প্রবাসীদের মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যেখানে দিপালীর মতো একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

আপনার মতামত লিখুন