দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্মরণকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে সারাবিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের দিকে।
বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার রাতেই তেহরান থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ পৌঁছেছে। মার্কিন প্রতিনিধিরাও পাকিস্তানের পথে রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়।" তবে ইরান আলোচনার টেবিলে কিছু কঠিন শর্ত রেখেছে। তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া ইরানের হাতে এখন আর কোনো পথ নেই।
বৈঠক শুরু হলেও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল এখনো প্রকট। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানি স্পিকার বাকের গালিবাফ ইসলামাবাদে পৌঁছেই বলেছেন, "আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই। তাদের সঙ্গে আলোচনার পূর্ব অভিজ্ঞতা কেবল ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের।"
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কোনো কৌশল করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন আলোচক দল মোটেও সহনশীল হবে না।
বৈঠক উপলক্ষে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকের স্থান 'সেরেনা হোটেল' এর আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শহরজুড়ে 'ইসলামাবাদ টকস' লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই আলোচনাকে 'মেক অর ব্রেক' (হয় সফল, না হয় সব শেষ) পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে চলা এই উত্তেজনা নিরসনে অগ্রগতি অর্জন করা সহজ হবে না।

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্মরণকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে সারাবিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের দিকে।
বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার রাতেই তেহরান থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ পৌঁছেছে। মার্কিন প্রতিনিধিরাও পাকিস্তানের পথে রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়।" তবে ইরান আলোচনার টেবিলে কিছু কঠিন শর্ত রেখেছে। তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া ইরানের হাতে এখন আর কোনো পথ নেই।
বৈঠক শুরু হলেও দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের দেয়াল এখনো প্রকট। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানি স্পিকার বাকের গালিবাফ ইসলামাবাদে পৌঁছেই বলেছেন, "আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আমেরিকানদের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই। তাদের সঙ্গে আলোচনার পূর্ব অভিজ্ঞতা কেবল ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের।"
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি কোনো কৌশল করার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন আলোচক দল মোটেও সহনশীল হবে না।
বৈঠক উপলক্ষে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকের স্থান 'সেরেনা হোটেল' এর আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং শহরজুড়ে 'ইসলামাবাদ টকস' লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এই আলোচনাকে 'মেক অর ব্রেক' (হয় সফল, না হয় সব শেষ) পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, বছরের পর বছর ধরে চলা এই উত্তেজনা নিরসনে অগ্রগতি অর্জন করা সহজ হবে না।

আপনার মতামত লিখুন