সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামাবাদে চলমান ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার শুরুতেই বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে আলোচনার জন্য একটিইতিবাচক সংকেতহিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, এই সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটিই ছিল চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান এবং জটিল ইস্যু।

অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার ছাড় দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন বা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির লভ্যাংশ। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন শর্ত ছিল, এই অর্থ কেবল খাদ্য ওষুধের মতো মানবিক কাজে ব্যয় করা যাবে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ওই বছরের অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর এবার ইসলামাবাদ আলোচনার টেবিলে সেই জট খোলার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিলিয়ন ডলার ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বরফ গলার প্রথম ধাপ। যদি এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে।

বর্তমানে ইসলামাবাদের বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবস্থান করছেন, যেখানে এই অর্থ ছাড়ের খুঁটিনাটি তার বিপরীতে ইরানের অঙ্গীকারগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইসলামাবাদে চলমান ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার শুরুতেই বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে আলোচনার জন্য একটিইতিবাচক সংকেতহিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, এই সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত। মূলত এটিই ছিল চলমান আলোচনার অন্যতম প্রধান এবং জটিল ইস্যু।

অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, কাতারের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার ছাড় দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন বা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির লভ্যাংশ। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়। ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন শর্ত ছিল, এই অর্থ কেবল খাদ্য ওষুধের মতো মানবিক কাজে ব্যয় করা যাবে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ওই বছরের অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ স্থগিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকার পর এবার ইসলামাবাদ আলোচনার টেবিলে সেই জট খোলার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিলিয়ন ডলার ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বরফ গলার প্রথম ধাপ। যদি এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাস এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে।

বর্তমানে ইসলামাবাদের বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবস্থান করছেন, যেখানে এই অর্থ ছাড়ের খুঁটিনাটি তার বিপরীতে ইরানের অঙ্গীকারগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত