দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওয়াশিংটনের দেওয়া ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘অযৌক্তিক’ শর্ত তেহরান মেনে না নেওয়ায় আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে দাবি
করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব দাবি তুলেছে যা তারা সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন
করতে পারেনি। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্যই
ওয়াশিংটন এই আলোচনার পথ খুঁজেছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির পরও তারা তাদের কঠোর অবস্থান
থেকে সরেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কঠিন শর্তগুলোই
ছিল সমঝোতার প্রধান বাধা। তেহরানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত খুঁজছিল বলেই এমন সব ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করেছে যা
ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস
প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন:
"আমরা আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, কিন্তু
ইরান তাতে রাজি হয়নি। এমন কোনো অবস্থায় আমরা পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের
দাবিগুলো মেনে নেবে।"
তবে দীর্ঘ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসাকে তিনি
‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন
বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এরপর গত ৭ এপ্রিল কূটনৈতিক
উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং ইসলামাবাদে সংলাপে বসে, যা
শেষ পর্যন্ত আবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারল না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওয়াশিংটনের দেওয়া ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘অযৌক্তিক’ শর্ত তেহরান মেনে না নেওয়ায় আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে দাবি
করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব দাবি তুলেছে যা তারা সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন
করতে পারেনি। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্যই
ওয়াশিংটন এই আলোচনার পথ খুঁজেছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির পরও তারা তাদের কঠোর অবস্থান
থেকে সরেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কঠিন শর্তগুলোই
ছিল সমঝোতার প্রধান বাধা। তেহরানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত খুঁজছিল বলেই এমন সব ‘রেড লাইন’ নির্ধারণ করেছে যা
ইরানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস
প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন:
"আমরা আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছিলাম, কিন্তু
ইরান তাতে রাজি হয়নি। এমন কোনো অবস্থায় আমরা পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের
দাবিগুলো মেনে নেবে।"
তবে দীর্ঘ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসাকে তিনি
‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন
বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এরপর গত ৭ এপ্রিল কূটনৈতিক
উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং ইসলামাবাদে সংলাপে বসে, যা
শেষ পর্যন্ত আবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।

আপনার মতামত লিখুন