একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। তাহলে ‘একাত্তর’ কীভাবে বিএনপির হয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
রবিবার
(১২ এপ্রিল) ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও
জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্যে
তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য
ঢাকার কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স
বাংলাদেশে (আইডিইবি) এ সভা আয়োজন
করে।
সভায়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বক্তব্য দেন।
জামায়াত
আমির বলেন, “একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই
হয়নি; একাত্তর তাদের হয় কীভাবে। এখন
যদি বলে যে, একাত্তরে
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধ করেছেন সেই কারণে! হ্যাঁ,
ঘোষণা উনি দিয়েছেন, প্রথমবার
নিজের পক্ষ থেকে; দ্বিতীয়বার
আরেকজনের পক্ষ থেকে।”
জিয়াউর
রহমানের বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন,
“যুদ্ধ উনি করেছেন, আমরা
অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু এককভাবে
একক ক্রেডিট, এক ব্যক্তিকে সবকিছু
দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বাকি
যোদ্ধাদের পজিশন কোথায় থাকে?”
শফিকুর
রহমান বলেন, “বিএনপি এখন গর্ব করে
বলে, একাত্তরও তাদের, নব্বইও তাদের, চব্বিশও তাদের, সবকিছু তাদের; আর কারো কিছু
নাই।”
আওয়ামী
লীগের সমালোচনা করে জামায়াত আমির
বলেন, “এটাও যুদ্ধকে কুক্ষিগত
করা। আগের আমলেও যারা
ছিল, ‘ফ্যাসিবাদি’ আমলে, তারাও এভাবে করেছে। এবং তারা করতে
গিয়ে লজ্জাজনকভাবে জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের দালাল, চর, কোনো কিছু
বলতেই বাদ দেয় নাই।
আমরা ওই রাজনীতি আর
দেখতে চাই না।”
ইউনূস
যদি এটা করে থাকেন, নিন্দা
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর
বলেন, “বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, ধোঁকা এবং গাদ্দারি করে
তাদের যাত্রা শুরু করেছে এবার।
তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। তারা
তখন বলেছে গণভোট হারাম। বাংলাদেশের প্রথম গণভোটও কিন্তু সংবিধানে ছিল না। একজন
সামরিক ব্যক্তি, তিনি বেসামরিক প্রেসিডেন্ট
হওয়ার জন্য সেই গণভোট
দিয়েছিলেন।”
জামায়াত
আমির বলেন, “আপনারা দেখেছেন, বর্তমান সরকারি দল সংসদ নির্বাচনে
‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ স্বীকার করে নিয়েছে সংসদের
ভেতরে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম,
তিনি বলেছেন, ‘ছাত্ররা আন্দোলন করে সরকারের পতন
ঘটিয়েছে, আমরাও ছিলাম। তবে ক্যাপ্টেনের হাতে
মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি তুলে
দিয়েছেন’।”
জামায়াত
আমির বলেন, “লজ্জা! আন্দোলন যে ছাত্ররা করেছে,
সেই ছাত্ররা এবং তাদের মা-বাবারা মিলে যাকে দেশের
ক্ষমতায় বসাতে চাইবে তারাই বসবে। ড. ইউনূস যদি
এটা করে থাকেন, তাহলে
আমি তার নিন্দা জানাই
এবং এই আত্মস্বীকৃতির মধ্য
দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো,
যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা নির্বাচনে উঠেছে,
এটা সত্য।”
তিনি
বলেন, “এখন বলতে পারেন,
আপনারা কী করলেন? ভোট
দিলাম সত্তর ভাগ মানুষ, আপনারা
ভোটটা ঘরে তুলতে পারলেন
না কেন? আমরা কেন
পারিনি, তার জবাব আমার
চাইতে আপনারা কম জানেন না।
তবে এটা ঠিক আমি
সেদিন পার্লামেন্টে বলেছিলাম, ঘুঘু বার বার
ধান খেতে আসে, কিন্তু
কপাল যখন মন্দ হয়,
তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়।
ইনশাল্লাহ, ঘুঘু বেঁধে যাবে;
দেরি হবে না ইনশাল্লাহ।”

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। তাহলে ‘একাত্তর’ কীভাবে বিএনপির হয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
রবিবার
(১২ এপ্রিল) ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও
জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্যে
তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য
ঢাকার কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স
বাংলাদেশে (আইডিইবি) এ সভা আয়োজন
করে।
সভায়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বক্তব্য দেন।
জামায়াত
আমির বলেন, “একাত্তরে তো বিএনপির জন্মই
হয়নি; একাত্তর তাদের হয় কীভাবে। এখন
যদি বলে যে, একাত্তরে
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধ করেছেন সেই কারণে! হ্যাঁ,
ঘোষণা উনি দিয়েছেন, প্রথমবার
নিজের পক্ষ থেকে; দ্বিতীয়বার
আরেকজনের পক্ষ থেকে।”
জিয়াউর
রহমানের বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন,
“যুদ্ধ উনি করেছেন, আমরা
অবশ্যই সম্মান করি। কিন্তু এককভাবে
একক ক্রেডিট, এক ব্যক্তিকে সবকিছু
দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে বাকি
যোদ্ধাদের পজিশন কোথায় থাকে?”
শফিকুর
রহমান বলেন, “বিএনপি এখন গর্ব করে
বলে, একাত্তরও তাদের, নব্বইও তাদের, চব্বিশও তাদের, সবকিছু তাদের; আর কারো কিছু
নাই।”
আওয়ামী
লীগের সমালোচনা করে জামায়াত আমির
বলেন, “এটাও যুদ্ধকে কুক্ষিগত
করা। আগের আমলেও যারা
ছিল, ‘ফ্যাসিবাদি’ আমলে, তারাও এভাবে করেছে। এবং তারা করতে
গিয়ে লজ্জাজনকভাবে জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের দালাল, চর, কোনো কিছু
বলতেই বাদ দেয় নাই।
আমরা ওই রাজনীতি আর
দেখতে চাই না।”
ইউনূস
যদি এটা করে থাকেন, নিন্দা
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর
বলেন, “বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা, ধোঁকা এবং গাদ্দারি করে
তাদের যাত্রা শুরু করেছে এবার।
তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। তারা
তখন বলেছে গণভোট হারাম। বাংলাদেশের প্রথম গণভোটও কিন্তু সংবিধানে ছিল না। একজন
সামরিক ব্যক্তি, তিনি বেসামরিক প্রেসিডেন্ট
হওয়ার জন্য সেই গণভোট
দিয়েছিলেন।”
জামায়াত
আমির বলেন, “আপনারা দেখেছেন, বর্তমান সরকারি দল সংসদ নির্বাচনে
‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ স্বীকার করে নিয়েছে সংসদের
ভেতরে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম,
তিনি বলেছেন, ‘ছাত্ররা আন্দোলন করে সরকারের পতন
ঘটিয়েছে, আমরাও ছিলাম। তবে ক্যাপ্টেনের হাতে
মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ট্রফি তুলে
দিয়েছেন’।”
জামায়াত
আমির বলেন, “লজ্জা! আন্দোলন যে ছাত্ররা করেছে,
সেই ছাত্ররা এবং তাদের মা-বাবারা মিলে যাকে দেশের
ক্ষমতায় বসাতে চাইবে তারাই বসবে। ড. ইউনূস যদি
এটা করে থাকেন, তাহলে
আমি তার নিন্দা জানাই
এবং এই আত্মস্বীকৃতির মধ্য
দিয়ে এটা প্রমাণিত হলো,
যে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা নির্বাচনে উঠেছে,
এটা সত্য।”
তিনি
বলেন, “এখন বলতে পারেন,
আপনারা কী করলেন? ভোট
দিলাম সত্তর ভাগ মানুষ, আপনারা
ভোটটা ঘরে তুলতে পারলেন
না কেন? আমরা কেন
পারিনি, তার জবাব আমার
চাইতে আপনারা কম জানেন না।
তবে এটা ঠিক আমি
সেদিন পার্লামেন্টে বলেছিলাম, ঘুঘু বার বার
ধান খেতে আসে, কিন্তু
কপাল যখন মন্দ হয়,
তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়।
ইনশাল্লাহ, ঘুঘু বেঁধে যাবে;
দেরি হবে না ইনশাল্লাহ।”

আপনার মতামত লিখুন