সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

“নাম বদলে বাস্তব বদলায় না” অরুণাচল ইস্যুতে চীনকে কড়া জবাব ভারতের


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

 “নাম বদলে বাস্তব বদলায় না” অরুণাচল ইস্যুতে চীনকে কড়া জবাব ভারতের

অরুণাচল প্রদেশ-সহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি জোরদার করার চীনের নতুন উদ্যোগকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল ভারত। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ধরনের ‘ভিত্তিহীন ও কৃত্রিম নামকরণ’ কোনওভাবেই বাস্তবতা বদলাতে পারে না। তাঁর কথায়, অরুণাচল প্রদেশ অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং সময় সময় বিভিন্ন জায়গার নতুন নাম ঘোষণা করে সেই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ভারতের মতে, এটি শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং একটি পরিকল্পিত কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই ধরনের পদক্ষেপ ‘ম্যাপ পলিটিক্স’ বা মানচিত্র-রাজনীতির অংশ, যেখানে নামকরণের মাধ্যমে ভূখণ্ডগত দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে এই বিতর্কের শিকড় রয়েছে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ-এ। সেই সময় সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে অস্থায়ীভাবে দখল নিলেও পরে সরে যেতে বাধ্য হয় চিন। এরপর থেকে সীমান্ত ইস্যুতে উত্তেজনা বজায় থাকলেও বাস্তবে অরুণাচল প্রদেশ সম্পূর্ণভাবে ভারতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বার্তা স্পষ্ট কাগজে-কলমে নাম বদলালেই ইতিহাস, ভূগোল বা সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলায় না। বরং এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে বলেও সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার পরিবেশকে দুর্বল করে এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কৌশলগত দিক থেকেও অরুণাচল প্রদেশ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই সীমান্ত রাজ্যটি একদিকে যেমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তেমনই ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলকে ঘিরে যে কোনও ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে ভারত যে কঠোর অবস্থান নেবে, তা আগেই স্পষ্ট ছিল আর এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।

সব মিলিয়ে, চিনের ‘নামকরণ কৌশল’ নতুন নয়, তবে ভারতের কড়া ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আবারও পরিষ্কার করে দিল অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নাম বদলের এই প্রচেষ্টা শুধু কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়, বাস্তবতা নয়।

 

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


“নাম বদলে বাস্তব বদলায় না” অরুণাচল ইস্যুতে চীনকে কড়া জবাব ভারতের

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

অরুণাচল প্রদেশ-সহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি জোরদার করার চীনের নতুন উদ্যোগকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল ভারত। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ধরনের ‘ভিত্তিহীন ও কৃত্রিম নামকরণ’ কোনওভাবেই বাস্তবতা বদলাতে পারে না। তাঁর কথায়, অরুণাচল প্রদেশ অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং সময় সময় বিভিন্ন জায়গার নতুন নাম ঘোষণা করে সেই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ভারতের মতে, এটি শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং একটি পরিকল্পিত কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই ধরনের পদক্ষেপ ‘ম্যাপ পলিটিক্স’ বা মানচিত্র-রাজনীতির অংশ, যেখানে নামকরণের মাধ্যমে ভূখণ্ডগত দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে এই বিতর্কের শিকড় রয়েছে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ-এ। সেই সময় সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে অস্থায়ীভাবে দখল নিলেও পরে সরে যেতে বাধ্য হয় চিন। এরপর থেকে সীমান্ত ইস্যুতে উত্তেজনা বজায় থাকলেও বাস্তবে অরুণাচল প্রদেশ সম্পূর্ণভাবে ভারতের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলকে ভারতের অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের বার্তা স্পষ্ট কাগজে-কলমে নাম বদলালেই ইতিহাস, ভূগোল বা সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলায় না। বরং এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে বলেও সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার পরিবেশকে দুর্বল করে এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কৌশলগত দিক থেকেও অরুণাচল প্রদেশ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই সীমান্ত রাজ্যটি একদিকে যেমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, তেমনই ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে এই অঞ্চলকে ঘিরে যে কোনও ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে ভারত যে কঠোর অবস্থান নেবে, তা আগেই স্পষ্ট ছিল আর এবারও তার ব্যতিক্রম হল না।

সব মিলিয়ে, চিনের ‘নামকরণ কৌশল’ নতুন নয়, তবে ভারতের কড়া ও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আবারও পরিষ্কার করে দিল অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নাম বদলের এই প্রচেষ্টা শুধু কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়, বাস্তবতা নয়।

 

 

 


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত