যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান সরকার তাদের সমর্থকদের রাজপথ দখল করে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা
ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলোচনার
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো পক্ষই চুক্তিতে উপনীত হতে পারেনি। ইরানের পার্লামেন্টের
স্পিকার ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, "মার্কিন প্রতিনিধিদল
শেষ পর্যন্ত আমাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।"
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই প্রতিনিধিদলকে
ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করেছে। উল্লেখ্য, আধা সামরিক
বাহিনীসহ সরকারের বিশাল এক সমর্থক গোষ্ঠী গত ছয় সপ্তাহ ধরে তেহরানসহ বড় বড় শহরগুলোর
প্রধান চত্বর, সড়ক ও মসজিদে নিয়মিত জমায়েত হচ্ছে।
আলোচনা চলাকালীন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের
(আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস বিভাগের একজন সদস্যকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সমর্থকদের আশ্বস্ত
করতে দেখা যায়। সামরিক পোশাকে ও কালো মুখোশ পরা ওই ব্যক্তি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন,
"শত্রু যদি না বোঝে, তবে আমরা তাদের বুঝতে বাধ্য করব।" এ সময় সমর্থকরা আরও
বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প মূলত নিজের ‘ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার’ করতে চেয়েছিলেন। তার ‘অতিরিক্ত দাবি’ এবং
একতরফা শর্তের কারণেই এই আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে তেহরান মনে করে। ইরানের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের আলোচনায় বড় কোনো ফল আসবে এমন আশা তারা করেনি।
এদিকে আলোচনার কোনো ফলাফল না আসায় উল্টো সন্তোষ প্রকাশ করেছেন
ইরানের একাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের বিশ্বাস, চলমান যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি-বাবাই বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জাতিসংঘের
নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
প্রস্তাব না আসবে, ততক্ষণ রাজপথের এই আন্দোলন চলবে।
ইরান সরকারের এই অনড় অবস্থান এবং সমর্থকদের রাজপথে থাকার
নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান সরকার তাদের সমর্থকদের রাজপথ দখল করে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা
ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলোচনার
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো পক্ষই চুক্তিতে উপনীত হতে পারেনি। ইরানের পার্লামেন্টের
স্পিকার ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, "মার্কিন প্রতিনিধিদল
শেষ পর্যন্ত আমাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।"
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই প্রতিনিধিদলকে
ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করেছে। উল্লেখ্য, আধা সামরিক
বাহিনীসহ সরকারের বিশাল এক সমর্থক গোষ্ঠী গত ছয় সপ্তাহ ধরে তেহরানসহ বড় বড় শহরগুলোর
প্রধান চত্বর, সড়ক ও মসজিদে নিয়মিত জমায়েত হচ্ছে।
আলোচনা চলাকালীন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের
(আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস বিভাগের একজন সদস্যকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সমর্থকদের আশ্বস্ত
করতে দেখা যায়। সামরিক পোশাকে ও কালো মুখোশ পরা ওই ব্যক্তি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন,
"শত্রু যদি না বোঝে, তবে আমরা তাদের বুঝতে বাধ্য করব।" এ সময় সমর্থকরা আরও
বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প মূলত নিজের ‘ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার’ করতে চেয়েছিলেন। তার ‘অতিরিক্ত দাবি’ এবং
একতরফা শর্তের কারণেই এই আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে তেহরান মনে করে। ইরানের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের আলোচনায় বড় কোনো ফল আসবে এমন আশা তারা করেনি।
এদিকে আলোচনার কোনো ফলাফল না আসায় উল্টো সন্তোষ প্রকাশ করেছেন
ইরানের একাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের বিশ্বাস, চলমান যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজি-বাবাই বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জাতিসংঘের
নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের
প্রস্তাব না আসবে, ততক্ষণ রাজপথের এই আন্দোলন চলবে।
ইরান সরকারের এই অনড় অবস্থান এবং সমর্থকদের রাজপথে থাকার
নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন