পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে আবারও নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে Communist Party of India (Marxist) বা সিপিআই(এম)। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর, এবারের ইস্তেহারে তারা একদিকে জনমুখী প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করেছে।h কিন্তু বড় প্রশ্ন এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে?
ইস্তেহারের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থানের
ওপর। বিপুল সংখ্যক সরকারি চাকরি, শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কমানোর
কথা বলা হয়েছে। বর্তমান সময়ে বেকারত্ব একটি বড় ইস্যু হওয়ায় এই প্রতিশ্রুতি নিঃসন্দেহে
মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তবে বাস্তবতা বলছে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এমন যে, এত
বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এরপর আসে শিল্প ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গ। নতুন শিল্প স্থাপন,
MSME খাতকে শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে। অতীতে শিল্পায়ন
ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার সিপিআই(এম) নিজেদের একটি পরিবর্তিত
ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো সহজ হবে না এটা রাজনৈতিক
বাস্তবতারই অংশ।
গ্রাম ও কৃষি ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে কৃষকদের
ন্যায্য মূল্য, ঋণ মকুব এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন। এতে স্পষ্ট যে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ককে
পুনরায় শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দিক থেকে ঋণ মকুবের মতো পদক্ষেপ
দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এই দুই ক্ষেত্রেও সিপিআই(এম) তাদের পুরনো
অবস্থান বজায় রেখেছে। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কম খরচে চিকিৎসা এবং
শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রতিশ্রুতিগুলো
গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এগুলোর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে সেই প্রশ্ন
থেকেই যায়।
সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা রয়েছে বয়স্ক ভাতা
বৃদ্ধি, নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ প্রকল্প এবং রেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। এই
অংশে দলটি স্পষ্টভাবে জনমুখী অবস্থান নিয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভর্তুকিনির্ভর নীতি অর্থনীতিতে
দীর্ঘমেয়াদে কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটাও বিবেচনার বিষয়।
সব মিলিয়ে, সিপিআই(এম)-এর এই ইস্তেহার একদিকে জনমুখী প্রতিশ্রুতিতে
ভরপুর, অন্যদিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। কর্মসংস্থান,
শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই বড় বড় ঘোষণা থাকলেও, সেগুলোর বাস্তব রূপ কেমন
হবে, সেটাই এখন দেখার।
শেষ পর্যন্ত, এই লড়াই শুধু প্রতিশ্রুতির নয় বিশ্বাসযোগ্যতারও।
মানুষ কি আবার সিপিআই(এম)-এর ওপর আস্থা রাখবে? নাকি প্রশ্নগুলোই বড় হয়ে উঠবে? তার উত্তর
দেবে সময় আর ভোটাররাই।

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে আবারও নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে Communist Party of India (Marxist) বা সিপিআই(এম)। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর, এবারের ইস্তেহারে তারা একদিকে জনমুখী প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলানোর চেষ্টা করেছে।h কিন্তু বড় প্রশ্ন এই প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে?
ইস্তেহারের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কর্মসংস্থানের
ওপর। বিপুল সংখ্যক সরকারি চাকরি, শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কমানোর
কথা বলা হয়েছে। বর্তমান সময়ে বেকারত্ব একটি বড় ইস্যু হওয়ায় এই প্রতিশ্রুতি নিঃসন্দেহে
মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তবে বাস্তবতা বলছে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এমন যে, এত
বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এরপর আসে শিল্প ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গ। নতুন শিল্প স্থাপন,
MSME খাতকে শক্তিশালী করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে। অতীতে শিল্পায়ন
ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এবার সিপিআই(এম) নিজেদের একটি পরিবর্তিত
ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো সহজ হবে না এটা রাজনৈতিক
বাস্তবতারই অংশ।
গ্রাম ও কৃষি ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে কৃষকদের
ন্যায্য মূল্য, ঋণ মকুব এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন। এতে স্পষ্ট যে, গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ককে
পুনরায় শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দিক থেকে ঋণ মকুবের মতো পদক্ষেপ
দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা এই দুই ক্ষেত্রেও সিপিআই(এম) তাদের পুরনো
অবস্থান বজায় রেখেছে। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কম খরচে চিকিৎসা এবং
শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রতিশ্রুতিগুলো
গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এগুলোর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে সেই প্রশ্ন
থেকেই যায়।
সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা রয়েছে বয়স্ক ভাতা
বৃদ্ধি, নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ প্রকল্প এবং রেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। এই
অংশে দলটি স্পষ্টভাবে জনমুখী অবস্থান নিয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভর্তুকিনির্ভর নীতি অর্থনীতিতে
দীর্ঘমেয়াদে কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটাও বিবেচনার বিষয়।
সব মিলিয়ে, সিপিআই(এম)-এর এই ইস্তেহার একদিকে জনমুখী প্রতিশ্রুতিতে
ভরপুর, অন্যদিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। কর্মসংস্থান,
শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই বড় বড় ঘোষণা থাকলেও, সেগুলোর বাস্তব রূপ কেমন
হবে, সেটাই এখন দেখার।
শেষ পর্যন্ত, এই লড়াই শুধু প্রতিশ্রুতির নয় বিশ্বাসযোগ্যতারও।
মানুষ কি আবার সিপিআই(এম)-এর ওপর আস্থা রাখবে? নাকি প্রশ্নগুলোই বড় হয়ে উঠবে? তার উত্তর
দেবে সময় আর ভোটাররাই।

আপনার মতামত লিখুন