সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

১৮(ক) ধারায় দায়মুক্তির সুযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

ব্যাংক খাতের লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

ব্যাংক খাতের লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখায় তীব্র ক্ষোভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

সংস্থাটি মনে করছে, চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতকে আবারও দুর্নীতি লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য চরম আত্মঘাতীমূলক।

সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা সুশাসনের ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে মূলত বিচারহীনতার পুরোনো সংস্কৃতিকেই বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করাব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’- বিধান ছিল, ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা সব অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফিরতে পারবেন না। তবে বর্তমান আইনের ১৮() ধারা যুক্ত করে সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসা হয়েছে।

টিআইবি মনে করে, এর মাধ্যমে সরকার সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করার বদলে প্রকারান্তরে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে। যা ব্যাংক খাতের লুটপাটের হোতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের বিশালভাবে পুরস্কৃত করার শামিল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক . ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সরকার যে যুক্তিই দেখাক না কেন, দুর্নীতি লুটপাট সহায়ক সুরক্ষাকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবে ব্যাংক খাতের লুটেরাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা দূরে থাক, বিশালভাবে পুরস্কৃত করা হলো, যা আত্মঘাতীমূলক। সরকারের সিদ্ধান্ত হতাশাজনক হলেও অবাক করার মতো তেমন কিছু নেই। কর্তৃত্ববাদের পতনের অর্থ যে ব্যাংক খাতে ক্ষমতার অপব্যবহার জবরদখলের অবসান নয়, বরংউইনার টেইকস অলফর্মুলায় নীতি দখলের পালাবদলের মাধ্যমে চোরতন্ত্রের সাময়িক বিরতির পর পুনর্বাসনের পথ সুগম রাখা, সরকারের পদক্ষেপ তারই দৃষ্টান্ত। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা মাত্র।"

লুটেরাদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে . ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, "সংকটে নিমজ্জিত ব্যাংকগুলোর আগের মালিকরা যারা খাতের লুটপাটের পাইওনিয়ার, তারাই বা কোন যাদুবলে এমন শুদ্ধতা অর্জন করলেন যে, তারা একই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ইত্যাদি পুনরায় করায়ত্তের জন্য সরকার নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে শতাংশ জমা দেবেন, বাকি ৯২ দশমিক শতাংশ দুই বছরে মাত্র ১০ শতাংশ সুদসহ শোধ করবেন! নতুন মূলধন জোগান দেবেন! বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণ করবেন! আগের সব আমানতকারী পাওনাদারের দায় শোধ করবেন! সরকারের কর রাজস্ব পরিশোধ করবে! ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুনের কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন করবেন? প্রশ্নের উত্তর কি সরকারের কাছে আছে!"

বিবৃতিতে . জামান আরও প্রশ্ন তোলেন, কোন মানদণ্ডে এই পুনর্দখলের বিনিময় মূল্য নির্ধারিত হবে এবং ব্যাংক পুনর্দখলের পর ঘোষিত শর্তাবলি পালনের নিশ্চয়তা স্বার্থের দ্বন্দ্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে দেবে?

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শর্ত পূরণের নামে এই গোষ্ঠীগুলো স্বনির্ধারিত শর্তে নতুন করে ঋণ আদায় করে ব্যাংক খাতে গভীরতর দেউলিয়াপনার পথ খুলে দেবে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ জনগণকে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ফিরিয়ে দিলে ব্যাংক খাতে গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


ব্যাংক খাতের লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখায় তীব্র ক্ষোভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

সংস্থাটি মনে করছে, চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতকে আবারও দুর্নীতি লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য চরম আত্মঘাতীমূলক।

সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা সুশাসনের ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে মূলত বিচারহীনতার পুরোনো সংস্কৃতিকেই বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করাব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’- বিধান ছিল, ব্যাংকের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা সব অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফিরতে পারবেন না। তবে বর্তমান আইনের ১৮() ধারা যুক্ত করে সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসা হয়েছে।

টিআইবি মনে করে, এর মাধ্যমে সরকার সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করার বদলে প্রকারান্তরে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে। যা ব্যাংক খাতের লুটপাটের হোতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের বিশালভাবে পুরস্কৃত করার শামিল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক . ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সরকার যে যুক্তিই দেখাক না কেন, দুর্নীতি লুটপাট সহায়ক সুরক্ষাকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবে ব্যাংক খাতের লুটেরাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা দূরে থাক, বিশালভাবে পুরস্কৃত করা হলো, যা আত্মঘাতীমূলক। সরকারের সিদ্ধান্ত হতাশাজনক হলেও অবাক করার মতো তেমন কিছু নেই। কর্তৃত্ববাদের পতনের অর্থ যে ব্যাংক খাতে ক্ষমতার অপব্যবহার জবরদখলের অবসান নয়, বরংউইনার টেইকস অলফর্মুলায় নীতি দখলের পালাবদলের মাধ্যমে চোরতন্ত্রের সাময়িক বিরতির পর পুনর্বাসনের পথ সুগম রাখা, সরকারের পদক্ষেপ তারই দৃষ্টান্ত। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা মাত্র।"

লুটেরাদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে . ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, "সংকটে নিমজ্জিত ব্যাংকগুলোর আগের মালিকরা যারা খাতের লুটপাটের পাইওনিয়ার, তারাই বা কোন যাদুবলে এমন শুদ্ধতা অর্জন করলেন যে, তারা একই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ইত্যাদি পুনরায় করায়ত্তের জন্য সরকার নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে শতাংশ জমা দেবেন, বাকি ৯২ দশমিক শতাংশ দুই বছরে মাত্র ১০ শতাংশ সুদসহ শোধ করবেন! নতুন মূলধন জোগান দেবেন! বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণ করবেন! আগের সব আমানতকারী পাওনাদারের দায় শোধ করবেন! সরকারের কর রাজস্ব পরিশোধ করবে! ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুনের কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন করবেন? প্রশ্নের উত্তর কি সরকারের কাছে আছে!"

বিবৃতিতে . জামান আরও প্রশ্ন তোলেন, কোন মানদণ্ডে এই পুনর্দখলের বিনিময় মূল্য নির্ধারিত হবে এবং ব্যাংক পুনর্দখলের পর ঘোষিত শর্তাবলি পালনের নিশ্চয়তা স্বার্থের দ্বন্দ্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংক কীভাবে দেবে?

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, শর্ত পূরণের নামে এই গোষ্ঠীগুলো স্বনির্ধারিত শর্তে নতুন করে ঋণ আদায় করে ব্যাংক খাতে গভীরতর দেউলিয়াপনার পথ খুলে দেবে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ জনগণকে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ফিরিয়ে দিলে ব্যাংক খাতে গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারকে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ জানান।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত