সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ট্রাইব্যুনালে আসামপিক্ষের জেরায় আমান আযমী

‘তারা বলতেন আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

‘তারা বলতেন আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে’

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গুমের প্রায় সাত বছর পর ২১ ফুটের কক্ষে এসি লাগানো হয়েছিলো বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি কথা জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তিন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আযমী। টানা দু’দিনের জবানবন্দি সম্পন্ন হয় গত ফেব্রুয়ারি।

সোমবার নিজের জেরা অসমাপ্ত রেখেই আরও দুই সপ্তাহ সময় চান তিন সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তবে আমান আযমীর পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছিলো বলে আগে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি গুম ছিলেন বলে জানান।

জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে আযমী জানান, ‘চাকরি থেকে বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেছিলেন তিনি। ওই মামলা ডিভিশন বেঞ্চ থেকে রুল ইস্যু করা হলেও পরবর্তীতে একক বেঞ্চে রুল শুনানি করে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি। বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে অবসর দেওয়ার আদেশে কে স্বাক্ষর করেছেন তা মনে নেই। বরখাস্তের আদেশ বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কোনো আবেদনও করিনি।

গুম থেকে মুক্তির পর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন কিনা আইনজীবীর এমন প্রশ্নে হ্যাঁ সম্বোধন করেন আযমী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষের দিকে জবানবন্দি দিয়েছিলাম। কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।

গুমের জন্য সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার আযমী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী দুলু। জবাবে তিনি এমন কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে দাবি করেন।

সময় গুমের পর আযমীকে রাখা কক্ষের বর্ণনা জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। একইসঙ্গে এসি কক্ষে রাখা হয়েছিলো বলেও দাবি করা হয়। আযমী বলেন, ‘২০২৩ সালের জুন আমি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে এসি লাগানো হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর এসিবিহীন কক্ষে ছিলাম। তারা বলতো আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তাদের মঙ্গলবার ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তারা হলেন: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

এদিকে, পলাতক ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন মেয়াদে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। বাকিরা হলেন: শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

সাক্ষী আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ৭১ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জজীবন কারাদন্ড পাওয়া গোলাম আজমের সন্তান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


‘তারা বলতেন আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে’

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গুমের প্রায় সাত বছর পর ২১ ফুটের কক্ষে এসি লাগানো হয়েছিলো বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় দাবি করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি কথা জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তিন সেনা কর্মকর্তার পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আযমী। টানা দু’দিনের জবানবন্দি সম্পন্ন হয় গত ফেব্রুয়ারি।

সোমবার নিজের জেরা অসমাপ্ত রেখেই আরও দুই সপ্তাহ সময় চান তিন সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তবে আমান আযমীর পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর বড় মগবাজারের বাসা থেকে আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে অপহরণ করে গুম করা হয়েছিলো বলে আগে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি গুম ছিলেন বলে জানান।

জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নে আযমী জানান, ‘চাকরি থেকে বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেছিলেন তিনি। ওই মামলা ডিভিশন বেঞ্চ থেকে রুল ইস্যু করা হলেও পরবর্তীতে একক বেঞ্চে রুল শুনানি করে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি। বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে অবসর দেওয়ার আদেশে কে স্বাক্ষর করেছেন তা মনে নেই। বরখাস্তের আদেশ বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কোনো আবেদনও করিনি।

গুম থেকে মুক্তির পর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন কিনা আইনজীবীর এমন প্রশ্নে হ্যাঁ সম্বোধন করেন আযমী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষের দিকে জবানবন্দি দিয়েছিলাম। কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।

গুমের জন্য সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার আযমী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী দুলু। জবাবে তিনি এমন কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে দাবি করেন।

সময় গুমের পর আযমীকে রাখা কক্ষের বর্ণনা জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। একইসঙ্গে এসি কক্ষে রাখা হয়েছিলো বলেও দাবি করা হয়। আযমী বলেন, ‘২০২৩ সালের জুন আমি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে এসি লাগানো হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর এসিবিহীন কক্ষে ছিলাম। তারা বলতো আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তাদের মঙ্গলবার ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তারা হলেন: ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

এদিকে, পলাতক ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন মেয়াদে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। বাকিরা হলেন: শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

সাক্ষী আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ৭১ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জজীবন কারাদন্ড পাওয়া গোলাম আজমের সন্তান।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত